সেনাপ্রধানে পিছনে প্রাক্তন রাজার ছবি নেপালে রাজতন্ত্র ফেরার ইঙ্গিত?
নতুন পয়গাম, কাঠমাণ্ডু, ১০ সেপ্টেম্বর: যতদিন না অন্তর্বর্তী সরকার গঠন হচ্ছে, ততদিন আপাতত নেপালের শাসনভার থাকছে সেনাবাহিনীর হাতে। প্রধানমন্ত্রী-সহ পুরো সরকারের পদত্যাগের পর দেশে শান্তি ও সংযম বজায় রাখার আহ্বান জানিয়েছেন সেনাপ্রধান অশোক রাজ সিগদেল। কিন্তু দেখা যায়, বুধবার দেশবাসীর উদ্দেশে যখন তিনি ভাষণ দিচ্ছিলেন, তখন তাঁর পিছনে ছিল নেপালের জাতীয় পতাকা এবং নেপালের প্রথম রাজা পৃথ্বীনারায়ণ শাহের ছবি। এ থেকেই প্রশ্ন উঠছে, তাহলে কি নেপালে আবারও গণতন্ত্র বিদায় নিয়ে রাজতন্ত্র ফিরতে চলেছে? সেনাবাহিনী কি রাজতন্ত্র পুনর্বহালের পক্ষে?
হিমালয়-কন্যা নেপালে রাজতন্ত্র থেকে গণতন্ত্র প্রতিষ্ঠা করতে অনেক হিংসা, অশান্তি ও রক্তপাত হয়েছে। ১৯৯৬ সালে দেশজুড়ে শসস্ত্র গণঅভ্যুত্থানের ডাক দিয়েছিলেন মাওবাদী নেতা ও তিনবারের প্রাক্তন প্রধানমন্ত্রী পুষ্পকমল দহল ওরফে প্রচণ্ড। এবার তাঁর বাসভবনও জনরোষে পড়েছে। অন্যান্য সকল বর্তমান ও প্রাক্তন মন্ত্রী বা প্রধানমন্ত্রী, রাষ্ট্রপতির বাংলোর পাশাপাশি ভাঙচুর হয়েছে প্রচন্ডের বাড়িতেও। উল্লেখ্য, এই প্রাক্তন মাওবাদী নেতার নেতৃত্বেই প্রায় তিন দশক আগে নেপালে সশস্ত্র সংগ্রাম শুরু করেছিল মাওবাদী যোদ্ধারা। তদানীন্তন রাজতান্ত্রিক সরকার সেই বিদ্রোহ দমন করতে পারেনি। ফলে তা কার্যত গৃহযুদ্ধের চেহারা নিয়েছিল। মাওবাদীদের সঙ্গে পুলিশ ও সেনাবাহিনীর রক্তক্ষয়ী সংগ্রামে প্রাণহানি হয়েছিল প্রায় ২০ হাজার মানুষের।
অবশেষে ২০০৬ সালে শান্তি চুক্তি হয় এবং যার পরিণামে রাজতন্ত্রের অবসান হয় এবং একই সঙ্গে নেপালে গণতন্ত্রের যাত্রা শুরু হয়। ২০০৮ সালের ২৮ মে ২৪০ বছরের রাজতন্ত্রের সমাপ্ত হয়। সংবিধানে রাজতন্ত্রের বদলে গণতন্ত্র যুক্ত হয়। একই সঙ্গে হিন্দু রাষ্ট্র থেকে ধর্মনিরপেক্ষ রাষ্ট্র হয় নেপাল। সেই বছরই প্রথম প্রধানমন্ত্রী হন প্রচণ্ড। তারপর থেকে গত ১৭ বছরে ১৩ বার সরকার বদলেছে নেপালে। কোনও সরকারই পাঁচ বছর মেয়াদ পূর্ণ করতে পারেনি। এই পরিস্থিতিতে রাজনৈতিক স্থিতিশীলতার প্রশ্নে পুনরায় নেপালে রাজতন্ত্র ফেরানোর পক্ষে সোচ্চার হয়েছে নাগরিকদের একাংশ। উল্লেখ্য, রাজা পৃথ্বীনারায়ণ ১৭২৩-৭৫ সাল পর্যন্ত নেপালের রাজা ছিলেন। আর ২০০৮ সালে গণতন্ত্র চালু হলে সেই সময় শেষ রাজা ছিলেন জ্ঞানেন্দ্র।








