‘গণতন্ত্রের জন্য সবচেয়ে বড় চ্যালেঞ্জ’ দলত্যাগ বিরোধী আইনে সংস্কার দাবি বিরোধীদের
নতুন পয়গাম, নয়াদিল্লি:
নির্বাচিত জনপ্রতিনিধিদের দলত্যাগ এবং বিধায়কদের ওপর দলীয় নিয়ন্ত্রণের সীমা নিয়ে প্রশ্নটি সোমবার রাজ্যসভার বিতর্কের কেন্দ্রে আসে। বিরোধী দলের সাংসদরা দলত্যাগ বিরোধী আইনে সংস্কারের দাবি জানিয়ে সতর্ক করেন যে, লাগামহীন দলবদল ভোটারদের দেওয়া রায়কে ক্ষুণ্ণ করছে।
নির্বাচনী সংস্কার নিয়ে আলোচনায় অংশ নিয়ে ভারত রাষ্ট্র সমিতির কে.আর. সুরেশ রেড্ডি এবং সিপিআই(এম)-এর জন ব্রিটাস যুক্তি দেন যে, নির্বাচনী প্রতিশ্রুতি পূরণ না করা এবং দলত্যাগ ভোটারদের সঙ্গে বিশ্বাসঘাতকতার সামিল।
বিআরএস সাংসদ রেড্ডি বলেন, “দুটি প্রধান সাংবিধানিক সংশোধনী সত্ত্বেও ভারতীয় গণতন্ত্রের সবচেয়ে বড় চ্যালেঞ্জ হল দলত্যাগ।” তিনি দলবদলের এই প্রবণতাকে ‘খেলা’ বলে বর্ণনা করেন, বিশেষ করে ছোট রাজ্যগুলিতে যেখানে বিধায়ক সংখ্যা কম। রেড্ডি দলত্যাগ বিরোধী আইনকে আরও আঁটোসাঁটো করার জন্য একটি সংসদীয় কমিটি গঠনের প্রস্তাব দেন, যা দলবদলের গতিপ্রকৃতির ওপর নজর রাখবে এবং সংশোধনের পরামর্শ দেবে।
সিপিআই(এম) সাংসদ জন ব্রিটাস প্রশ্ন তোলেন, “যখন ঘোড়া কেনাবেচা হয়, যখন গণ দলত্যাগ হয়, যখন রিসর্টগুলি তীর্থস্থানে পরিণত হয়, তখন নির্বাচনের পবিত্রতা নিয়ে প্রশ্ন ওঠে। এটা কীভাবে মোকাবিলা করা যায়?” তিনি মন্তব্য করেন, আগে এই আইন ‘খুচরো দলত্যাগ’ দমন করত, এখন ‘পাইকারি দলত্যাগ’ হচ্ছে।
জবাবে, জেডি(ইউ)-এর সঞ্জয় কুমার ঝা ২০০৫ সালের বিহার নির্বাচনের কথা টেনে আনেন, যেখানে ত্রিশঙ্কু বিধানসভা হয়েছিল। তিনি অভিযোগ করেন, নীতীশ কুমারের সরকার গঠনের মতো সংখ্যা থাকা সত্ত্বেও কেন্দ্রে থাকা ইউপিএ সরকার হস্তক্ষেপ করে রাষ্ট্রপতি শাসন জারি করেছিল।
প্রসঙ্গত, লোকসভাতেও এই বিষয়টি উত্থাপিত হয়েছে। ৫ ডিসেম্বর কংগ্রেস সাংসদ মণীশ তিওয়ারি সংবিধানের দশম তফসিলে সংশোধনী আনার জন্য একটি বেসরকারি বিল পেশ করেন। তাঁর উদ্দেশ্য হল, নির্বাচিত প্রতিনিধিরা যেন কেবল দলীয় হুইপের যন্ত্র না হয়ে, ভোটারদের প্রতিনিধি হিসেবে কাজ করতে পারেন।








