২৩ সালে বিশ্বে ১০ লাখ শিশুর মৃত্যু হয়েছে, দ্বিতীয় স্থানে ভারত
নতুন পয়গাম, নয়াদিল্লি:
২০২৩ সালে বিশ্বজুড়ে পাঁচ বছরের কম বয়সী প্রায় এক মিলিয়ন বা ১০ লক্ষ শিশুর মৃত্যু হয়েছে। এই মর্মান্তিক মৃত্যুর প্রধান কারণ হিসেবে গবেষকরা চিহ্নিত করেছেন ‘শিশু বৃদ্ধির ব্যর্থতা’। এর অর্থ হল, শিশুদের ওজন কম থাকা, উচ্চতা অনুযায়ী কম বৃদ্ধি পাওয়া, অথবা অত্যধিক ক্ষয় হওয়া, অপুষ্টির শিকার।
ল্যানসেট চাইল্ড অ্যান্ড অ্যাডোলসেন্ট হেলথ জার্নালে প্রকাশিত গবেষণা অনুসারে, এই ধরনের মৃত্যুর ক্ষেত্রে ভারত দ্বিতীয় সর্বোচ্চ স্থানে রয়েছে। গত বছর এই কারণে ভারতে প্রায় ১ লক্ষ শিশুর মৃত্যু হয়েছে। তালিকায় প্রথম স্থানে রয়েছে নাইজেরিয়া, যেখানে প্রায় ১ লক্ষ ৮৮ হাজার শিশু মারা গেছে, এবং তৃতীয় স্থানে রয়েছে কঙ্গো প্রজাতন্ত্র , যেখানে প্রায় ৫০ হাজার শিশুর মৃত্যু হয়েছে।

শিশু বৃদ্ধির ব্যর্থতা শিশুদের রোগ প্রতিরোধের ক্ষমতা কমিয়ে দেয় এবং নিম্ন শ্বাসতন্ত্রের সংক্রমণ, ডায়ারিয়া রোগ, ম্যালেরিয়া এবং হাম বা মিসেলস-এর মতো অসুস্থতা মৃত্যুর ঝুঁকি বহুগুণ বাড়িয়ে তোলে। বিশেষজ্ঞরা সতর্ক করেছেন, শারীরিক বৃদ্ধির এই ব্যর্থতা একটি ধ্বংসাত্মক চক্র তৈরি করে, যা সময়ের সঙ্গে সঙ্গে শিশুদের স্বাস্থ্যকে আরও ঝুঁকিপূর্ণ করে তোলে। দক্ষিণ এশিয়ার পরিস্থিতি বিশেষভাবে উদ্বেগজনক; এই অঞ্চলে ডায়ারিয়ার কারণে হওয়া শিশু মৃত্যুর ৭৯ শতাংশ এবং শ্বাসতন্ত্র সংক্রমণের ৫৩ শতাংশই বৃদ্ধির ব্যর্থতার সঙ্গে সম্পর্কিত।
তবে একটি ইতিবাচক দিক হল, ২০০০ সালের তুলনায় এই ধরনের মৃত্যু হার উল্লেখযোগ্য ভাবে কমেছে। ২০০০ সালে যেখানে এই কারণে বিশ্বে ২ কোটি ৭ লাখ ৫০ হাজার শিশুর মৃত্যু হয়েছিল, ২০২৩ সালে সেই সংখ্যা কমে ৮ লাখে দাঁড়িয়েছে।
গবেষকরা মনে করছেন, শিশু বৃদ্ধির ব্যর্থতার কারণগুলি জটিল এবং বহুবিধ। এর মধ্যে রয়েছে অপর্যাপ্ত পুষ্টি, খাদ্য নিরাপত্তার অভাব, জলবায়ু পরিবর্তন, দুর্বল স্বাস্থ্যসেবা ব্যবস্থা এবং যুদ্ধ, সহিংসতা। তাই, শিশুদের জীবন বাঁচাতে প্রথম তিন মাসের মধ্যে শারীরিক বৃদ্ধির সমস্যা দেখা দিলেই দ্রুত হস্তক্ষেপ করা প্রয়োজন।








