রানের পাহাড়ে দক্ষিণ আফ্রিকা,সেই পাহাড় টপকাতে শুরুতেই হোঁচট টিম ইন্ডিয়ার
এম. রহমান, নতুন পয়গাম, গুয়াহাটি:
কোনো এক জ্ঞানী ব্যক্তি অভিভাবকের গুরুত্ব বোঝাতে গিয়ে বলেছিলেন-
গাছের বয়স হয়ে গেলেও কেটো না,ফল না দিলেও ছায়া দেবে; এর সত্যতা বোধহয় ভারতীয় দল বুঝতে পারছে। কারন ঋষভের মতো ‘ক্রিকেট বাউণ্ডুলে’র হাতে পড়ে হোয়াইট ওয়াশ হতে চলেছে ভারত।
৫৪৯ তাড়া করতে নেমে চতুর্থ দিনের শেষে ২৭ রানেই ২ উইকেট হারিয়ে ইতিমধ্যেই বড় অস্বস্তিতে ভারত। কুলদীপের সঙ্গে ক্রিজে রয়েছেন সাই সুদর্শন (২ নট আউট)। টিম ইন্ডিয়া এখনও পিছিয়ে ৫২২ রানে। সারাদিন উইকেট কামড়ে পড়ে থেকে ম্যাচ বাঁচানোর চ্যালেঞ্জ। তবে যশস্বী, রাহুলদের ভুল থেকে শিক্ষা না নিলে আরও এক হোয়াইটওয়াশের লজ্জা সঙ্গী হবে টিম ইন্ডিয়ার।
কোচ গৌতম গম্ভীর হলেন আধুনিক ক্রিকেটের কালীদাস। যে ডালে বসে আছেন, সেটাই কাটছেন। তাঁর গোঁয়াতুর্মির ফল ভুগতে হচ্ছে দলকে।মূলত তাঁর চাপেই কোহলি,রোহিতরা অবসর নিতে বাধ্য হয়েছেন।আর এখন এই অবস্থা।একগুঁয়ে গম্ভীরের ইডেনে চার স্পিনার খেলানোর সিদ্ধান্ত ব্যুমেরাং হয়েছিল। ধ্বস নেমেছিল ব্যাটিংয়ে। গুয়াহাটি টেস্টে অবস্থা আরও সঙ্গীন। পিচের ঘাড়ে দায় চাপিয়ে রেহাই পাওয়ার উপায়ও নেই। যোগ্য দল হিসেবেই সিরিজ জয়ের পথে দক্ষিণ আফ্রিকা। সব বিভাগেই তারা টেক্কা দিয়েছে ভারতকে। মঙ্গলবার প্রোটিয়ারা শুরু করেন বিনা উইকেটে ২৬ নিয়ে। জাদেজা পর পর তিন উইকেট নিয়ে লড়াইয়ে ফেরার পথ করেছিলেন। কিন্তু সেই প্রয়াসে জল ঢালেন স্টাবস। শেষ পর্যন্ত তিনি ৯৪ রানে আউট হন। ৫ উইকেটে ২৬০ রানে ডিক্লেয়ার দেয় দক্ষিণ আফ্রিকা। দ্বিতীয় ইনিংসে ভারতের হয়ে চারটি উইকেট নিয়েছেন জাদেজা।
শুভমান গিল ঘাড়ে চোট পাওয়ায় দ্বিতীয় টেস্টে যে খেলতে পারবেন না, তা প্রায় সকলেরই জানা ছিল। কিন্তু গিলের পরিবর্তে প্রথম একাদশে নেওয়া হল নীতীশ রেড্ডিকে। খারাপ পারফরম্যান্সের জন্য যাঁকে কিনা কলকাতা থেকে পাঠিয়ে দেওয়া হয়েছিল ভারতীয় ‘এ’ দলের হয়ে খেলতে। গম্ভীরের কোচিং তত্ত্ব বড়ই বিস্ময়কর। তিনি বিশ্বাস করেন, এমন ক্রিকেটারকে খেলানো উচিত, যিনি জুতো সেলাই থেকে চণ্ডীপাঠ— দুটোই পারবেন। ‘উর্বর’ মস্তিষ্কে এর চেয়ে ভালো ভাবনা আর কী-ই বা হতে পারে! তাই যত বেশি পারো অলরাউন্ডার খেলাও। আসলে এই দলে একজন রাহুল দ্রাবিড় কিংবা ভিভিএস লক্ষ্মণ দরকার। নিদেনপক্ষে পূজারা কিংবা অজিঙ্কা রাহানে। রোহিত, বিরাটদের অভাবও স্পষ্ট।
একটা সময় ঘরের মাঠে টিম ইন্ডিয়া ছিল অপরাজেয়। কিন্তু এখন সেই দলই ১২ মাসের মধ্যে দু’বার চুনকামের মুখে দাঁড়িয়ে। তার দায় গম্ভীরকেই নিতে হবে। ধৃতরাষ্ট্রের মতো চোখে কাপড় বেঁধে বসে থাকবেন মিঠুন মানহাসরা। বোর্ড কর্তারা এখন কাঠের পুতুল। জয় শাহই শেষ কথা। যিনি ক্রিকেট ব্যাট সোজা করে ধরতে পারেন না, তিনিই আবার বিশ্ব ক্রিকেটের নিয়ামক সংস্থা শীর্ষপদে!
দিল্লির ক্রিকেট মহলে কান পাতলে শোনা যায়, গম্ভীর নাকি ঠোঁট কাটা। কারও কাছে সহজে মাথা নত করেন না। তাহলে ব্যর্থতার দায় নিয়ে সিরিজ শেষে সবার আগে তাঁর সরে দাঁড়ানো উচিত। এই ব্যর্থতার দায় কোচের পাশাপাশি ক্রিকেটারদেরও। তাঁদের খেলা দেখে কি একবারও মনে হয়েছে, সিরিজ বাঁচানোর লড়াইয়ে নেমেছেন? না। কারণ, খারাপ পারফরম্যান্সের পরে কোচ বহাল তবিয়তে থাকেন। ব্যাটিং কোচও তো কোটার চাকরিতে দিব্যি মাস মাহিনা পাচ্ছেন। আর ক্রিকেটাররা সদ্ব্যবহার করছেন সুযোগের।
বিশ্ব টেস্ট চ্যাম্পিয়নশিপ জিততে হলে অবিলম্বে খোলনলচে বদলানো উচিত ভারতীয় টেস্ট দলের। বোর্ড সিদ্ধান্ত নিক, টেস্ট স্কোয়াডের ক্রিকেটারদের রনজি ট্রফিতে খেলতেই হবে। কিন্তু কে বাঁধবে বেড়ালের গলায় ঘণ্টা। স্টাবস (৯৪), জর্জিরা (৪৯) অনায়াসে ব্যাট করলেন যে পিচে, সেখানে ভারতীয় ব্যাটারদের নাভিশ্বাস উঠছে। কিন্তু কেন? টেস্ট খেলার মানসিকতাই নষ্ট হয়ে গিয়েছে।আইপিএল কিং’রা টেস্টে অখাদ্য।








