বিস্ফোরক তৈরিতে বাড়ছে রাসায়নিক ব্যবহার, আধার ছাড়া সার বিক্রি নয়, কেন্দ্রের নয়া নিদান
নতুন পয়গাম, কলকাতা:
দিল্লি বিস্ফোরণকাণ্ডের জেরে এবার কৃষিজমিতে ব্যবহৃত সারের ওপর কোপ পড়তে চলেছে। কারণ, বিশেষজ্ঞরা বলছেন, বিস্ফোরক তৈরিতে ব্যবহার হচ্ছে বিভিন্ন রকম রাসায়নিক উপাদান। যেমন এনপিকে — নাইট্রোজেন, ফসফরাস এবং পটাশিয়ামের মিশ্রণে শক্তিশালী বিস্ফোরক তৈরি করছে জঙ্গিরা। গত সোমবার দিল্লির লালকেল্লা মেট্রো স্টেশনের বাইরে বিস্ফোরণ কাণ্ডের তদন্তে গোয়েন্দারা এমন তথ্য হাতে পেয়েছেন। জানা গিয়েছে, ফরিদাবাদের তিনজন সারের ডিলারের কাছ থেকে জঙ্গিরা বিপুল পরিমাণ এনপিকে কিনেছিল।

তাই এবার থেকে এ ধরনের সার কেনার ক্ষেত্রে দোকান বা রেশন ডিলারের কাছে আধার কার্ডের নম্বর দেওয়ার ক্ষেত্রে আরও কড়াকড়ি করতে চলেছে কেন্দ্র সরকার। পাশাপাশি বায়োমেট্রিক পদ্ধতিতে ফিঙ্গারপ্রিন্ট বা আঙুলের ছাপও দিতে হবে ক্রেতাকে। উল্লেখ্য, আধার নম্বর দিয়ে সার কেনার নিয়ম আগেই ছিল। কিন্তু এতদিন এই নিয়ম সেইভাবে কার্যকর করা হয়নি বা গুরুত্ব দেওয়া হয়নি। এবার থেকে তা বাধ্যতামূলক করা হয়েছে।

আবার সারের কালোবাজারি রুখতে আগেই এমন নির্দেশ ছিল। কেউ যাতে বিপুল পরিমাণে সার কিনে কালোবাজারি করতে না পারে, সে জন্যই এই সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়েছিল। এখন শোনা যাচ্ছে, বিস্ফোরক তৈরিতেও এনপিকে বা রাসায়নিক উপদান ব্যবহার করা হচ্ছে। সেই কারণে ওই নির্দেশ এবার থেকে আরও কড়াকাড়ি করা হচ্ছে। ফলে শুধুমাত্র লাইসেন্সপ্রাপ্ত ডিলাররাই সার বিক্রি করতে পারবেন। কোনও দোকানে লাইসেন্স ছাড়া সার বিক্রি করা হলে ব্যবস্থা নেওয়া হবে। যাঁরা সার কিনবেন, তাঁদের আধার কার্ডের নম্বর ডিলারকে জমা দিতে হবে। একইসঙ্গে বায়োমেট্রিক ছাপও দিতে হবে। এসব নিয়ম এবার থেকে বাধ্যতামূলক করা হচ্ছে।

কোন চাষি কত পরিমাণ কোন সার কিনছেন, তার রসিদ দেবে ডিলাররা। কেউ অনেক বেশি পরিমাণ এনপিকে কিনলে, তাকে সন্দেহজনক বিবেচনা করে ব্যবস্থা নিতে বলা হয়েছে। কেউ অসৎ উদ্দেশ্যে যাতে নাইট্রোজেন, পটাশ ব্যবহার করতে না পারে, তা দেখতে বলা হয়েছে। এদিকে গোয়েন্দা বিভাগ সূত্রে জানা গেছে, ফরিদাবাদে চাষি সেজে জঙ্গিরা বিভিন্ন দোকান থেকে এনপিকে কিনেছিল। তার সঙ্গে অন্যান্য রাসায়নিক মিশিয়ে তারা বিস্ফোরক তৈরি করেছিল।








