মোদির মুখের ভাষা শোভনীয় নয়, প্রধানমন্ত্রী পদের গরিমা নষ্ট করছেন: প্রিয়াঙ্কা
নতুন পয়গাম, পাটনা:
বিহারে দ্বিতীয় এবং শেষদফা ভোট মঙ্গলবার ১১ নভেম্বর। এখন তারই প্রচার চলছে তুঙ্গে। জনসমর্থনের দিক থেকে বিরোধীদের মহাজোট এগিয়ে থাকলেও রণকৌশলে এগিয়ে রয়েছে ক্ষমতাসীন এনডিএ জোয। যদিও নীতীশ কুমার বনাম বিজেপি স্নায়ুযুদ্ধ চরমে। কদিন আগে খোদ প্রধানমন্ত্রীর রোড শোয়ে অনুপস্থিত ছিলেন মুখ্যমন্ত্রী নীতীশ কুমার। এনডিএ-র ইস্তেহার প্রকাশের মঞ্চ থেকেই আচমকা কাউকে কিছু না বলে নেমে যান নীতীশ। এর কারণ মূলত, এনডিএ জোটের তরফে তাঁর নাম পরবর্তী মুখ্যমন্ত্রী হিসেবে ঘোষণা করা হয়নি। তাই অভিমান হয়েছে নীতীশের। অভিমান বাড়ার অন্যতম কারণ হল, কংগ্রেস আরজেডি ও বামেদের মহাজোট অনেক আগেই তাদের মুখ্যমন্ত্রী হিসেবে তেজস্বী যাদবের নাম ঘোষণা করে দিয়েছে। এমনকি উপমুখ্যমন্ত্রী প্রার্থীর নামও ঘোষণা করেছে ইন্ডিয়া জোট।
এদিকে কংগ্রেস নেত্রী ও সাংসদ প্রিয়াঙ্কা গান্ধী অভিযোগ করেছেন, নরেন্দ্র মোদি নির্বাচনী প্রচারে গিয়ে বিহারে যেসব ভাষা প্রয়োগ করছেন বা তার মুখ থেকে যে ভাষা বেরিয়ে আসছে, তা কেবলমাত্র রাজ্য দখলের স্বার্থে। প্রধানমন্ত্রী হিসেবে তাঁর মুখে এমন ভাষা শোভনীয় নয়। মোদি নিজেই প্রধানমন্ত্রী পদের অমর্যাদা করছেন, দেশের সর্বোচ্চ শাসকের পদের গরিমা বা মাহাত্ম্য নষ্ট করছেন মোদি। প্রিয়াঙ্কা আরো বলেন, ব্রিটিশ সাম্রাজ্যবাদী শক্তিকে হটাতে দীর্ঘ লড়াই করেছিলেন মহাত্মা গান্ধী। এখন ‘মোদি সাম্রাজ্যে’র বিরুদ্ধে একই লড়াই লড়ছে কংগ্রেসও। শনিবার এই ভাষাতেই গেরুয়া শিবিরের বিরুদ্ধে আক্রমণ শানিয়েছেন কংগ্রেস নেত্রী প্রিয়াঙ্কা গান্ধী।
এদিন কাটিহার ও ভাগলপুরে জনসভা করেন ইন্দিরা গান্ধীর কায়া বলে পরিচিত প্রিয়াঙ্কা। তিনি বলেন, দেশি বন্দুক ‘কাট্টা’র মতো শব্দ উচ্চারণ করে নরেন্দ্র মোদি প্রধানমন্ত্রী পদের অমর্যাদা করছেন। একদিকে তিনি ‘বন্দেমাতরম’ বলছেন। অন্যদিকে ‘কাট্টা’র মতো নিম্নমানের শব্দ ব্যবহার করছেন। এনডিএ সরকার মহিলাদের নিরাপত্তা দিতে ব্যর্থ, কর্মসংস্থান তৈরিতে ব্যর্থ, নিত্যপ্রয়োজনীয় জিনিসের মূল্যবৃদ্ধি রোধে ব্যর্থ, কৃষকদের আত্মহত্যা ঠেকাতে ব্যর্থ। দেশের সমস্ত সরকারি সংস্থা কেবলমাত্র দুজন কর্পোরেট বন্ধুর হাতে তুলে দিচ্ছেন প্রধানমন্ত্রী। প্রিয়াঙ্কা বলেন, এনডিএ নেতারা বারবার কংগ্রেস জমানার সাতদশক নিয়ে প্রশ্ন তোলেন। কিন্তু, তাদের জানা উচিত, কংগ্রেস সরকার আইআইটি, আইআইএম, এইমসের মতো প্রতিষ্ঠান তৈরি করেছে। বিজেপি মনে করছে, ভোটের মুখে তারা মহিলাদের ১০ হাজার টাকা ঘুষ দিয়ে ভোটে জিতে যাবে। মানুষ এসব বুঝে গেছে। তাই ভোট চোর, গদ্দি ছোড়। এবার বিহারে আসছে মহাজোটের সরকার।
এদিনের দুই জনসভা থেকেই ভোটচুরি নিয়ে সরব হয়ে প্রিয়াঙ্কা অভিযোগ করেন, দেশের নির্বাচন কমিশন এর সঙ্গে পুরোপুরি যুক্ত রয়েছে। কমিশনের সঙ্গে হাত মিলিয়ে এনডিএ সরকার বিহারের মানুষের সঙ্গে প্রতারণা করেছে। প্রিয়াঙ্কা আরো বলেন, ভোটের জন্য মোদি, শাহ ঘন ঘন বিহারে আসছেন। ভোট মিটলে আর তাদের টিকি দেখা যাবে না। মোদি তার নিজের লোকসভা কেন্দ্র বারাণসীতেই যান না। মণিপুরে যান না। সাংবাদিক সম্মেলন করেন না। এনডিএ জোটের শরিকদের পাত্তা দেন না। সাধারণ মানুষ তো কোন ছার। এভাবেই এদিন মোদি-শাহ, বিজেপি, এনডিএ জোটকে তুলোধনা করে প্রিয়াঙ্কা গান্ধী বলেন, প্রধানমন্ত্রী শুধু আম্বানি ও আদানিকে ভালবাসেন আর বিদেশ যেতে পছন্দ করেন।








