অবসরের জল্পনায় জল ঢাললেন মোদি, আরো বেশি কাজ করার অঙ্গীকার প্রধানমন্ত্রীর
নতুন পয়গাম, নয়াদিল্লি:
অবশেষে নিজের অবসর নিয়ে মুখ খুললেন প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদি। দীর্ঘ জল্পনায় জল ঢেলে দিয়ে মঙ্গলবার নিজে মুখে জানালেন, এখন অবসরের কোনো প্রশ্নই নেই। আগের মতোই সমানে কাজ করে যাবেন। বিকশিত ভারত গঠনের স্বপ্ন পূরণে আরও বেশি করে কাজ করবেন তিনি। ২০৪৭ সালের মধ্যে ভারত হবে বিকশিত ভারত। আচ্ছে দিন আসবে ২২ বছর পর। অর্থাৎ দু-দশক পর আর্থিকভাবে উন্নত হবে দেশ। মোদি সরকার অনেক আগেই এই সময়সীমা নির্ধারণ করেছে।
এদিন নমো-র বক্তব্যে স্পষ্ট, অবসরের ব্যাপারে তিনি কোনও সময়সীমা মানবেন না। ৭৫ বছর হওয়ায় লালকৃষ্ণ আদবানি, মুরলী মনোহর যোশীদেরকে রাজনীতির ময়দান থেকে চিরতরে সন্ন্যাসে পাঠিয়ে দিয়ে ‘মার্গ দর্শক’ বানিয়ে ছাড়লেও তিনি কিন্তু নিজের বেলায় বয়সের পাটিগণিতে বিশ্বাস করেন না। তাই প্রধানমন্ত্রী হিসেবে আগামীদিনে আরও বেশি পরিশ্রম করবেন বলে জানালেন। মঙ্গলবার জানালেন, তিনি এখনও নিরলস কাজ করে যাওয়ার মতো ক্ষমতা রাখেন। এর আগে একবার বলেছিলেন, তিনি নাকি ১৮ ঘণ্টা কাজ করেন।
এদিন ছিল সরকারের প্রধান হিসেবে তাঁর্যন ২৫ বছর পূর্তি। গুজরাতের মুখ্যমন্ত্রী এবং দেশের প্রধানমন্ত্রী হিসেবে টানা ২৫ বছর ক্ষমতায় থেকে রেকর্ড করেছেন তিনি। ২০০১ সালের ৭ অক্টোবর তিনি প্রথম গুজরাতের মুখ্যমন্ত্রী হন। সেই থেকে টানা ১৪ বছর মুখ্যমন্ত্রী এবং ২০১৪ থেকে টানা ১১ বছর দেশের প্রধানমন্ত্রী রয়েছেন। এখনও তিনি পদ ছাড়তে বা অবসর নিতে রাজি নন। দেশসেবায় তিনি নিজেকে নিয়োজিত রাখতে চান। সংসদীয় ব্যবস্থায় সরকারের প্রধান পদে থাকার ২৫ বছর উপলক্ষে এদিন দেশবাসীকে কৃতজ্ঞতা জানিয়ে মোদি বলেন, সংবিধানের নির্দেশিকা অনুসরণ করে আমি আগামীদিনে আরও বেশি পরিশ্রম করব। আমাদের সকলের স্বপ্নের বিকশিত ভারত বাস্তবায়িত করতে আমার এই কাজ জারি থাকবে।
উল্লেখ্য, সম্প্রতি আরএসএস-এর প্রধান মোহন ভাগবত বলেছিলেন, তাঁর এবং মোদির বয়স শীঘ্রই ৭৫ পূর্ণ হচ্ছে। এবার নতুনদের জন্য জায়গা ছেড়ে দেওয়া উচিত। তাই বিশেষজ্ঞরা মনে করছিলেন, তৃতীয় দফা প্রধানমন্ত্রীর মেয়াদ পূর্ণ হওয়ার আগেই হয়ত ১৭ সেপ্টেম্বর ৭৫তম জন্মদিবসে পদত্যাগ করবেন মোদি। অবশ্য এ নিয়ে বিস্তর জলঘোলা হলে ভাগবত তাঁর বয়ান প্রত্যাহার করে বলেন, সংঘ পরিবারের সদস্যরা চাইলে তাঁকে নাগপুরের দায়িত্বে থাকতে হবে এবং একইভাবে দেশবাসী চাইছেন, তাই নরেন্দ্র মোদিকে ইস্তফা দেওয়া উচিত নয়। দেশ-দশের দাবি মেনে দেশসেবার কাজ করে যেতে হবে। এই কাজে নিস্তার বা বিশ্রাম বলে কিছু নেই।








