ভিক্ষুকের ভাঙা ঘর থেকে লক্ষ লক্ষ টাকা উদ্ধার, চাঞ্চল্য সালারে
এক টাকা–দুই টাকার ভিক্ষা করেই ‘লাখপতি’ নুর ইসলাম
এজাজ আহামেদ, নতুন পয়গাম, সালার:
মুর্শিদাবাদ জেলার সালার থানার হামিদহাটি পিলখুন্ডি গ্রামে এক অবিশ্বাস্য ঘটনা সামনে এসেছে। গ্রামের এক অসহায়, বোবা, ৬০ বছর বয়সি ভিক্ষুক—নুর ইসলামের ভাঙা কুঁড়েঘর থেকে উদ্ধার হলো লক্ষ লক্ষ টাকার থোকা থোকা বান্ডিল। ঘটনাটি সামনে আসতেই চাঞ্চল্য ছড়িয়েছে সমগ্র এলাকায়।
নুর ইসলাম বহু বছর ধরেই একা থাকেন। কথা বলতে পারেন না। গ্রামের মানুষ যে খাবার দেন, এবং বিভিন্ন এলাকায় ভিক্ষা করে যেটুকু পান—সেই সামান্য আয়ে তার দিন কাটে। মাটির তৈরি ভাঙা কুঁড়েঘরই তার একমাত্র আশ্রয়। সম্প্রতি অসুস্থ নুর ইসলামের ভাঙাচোরা ঘরটি যে কোনো মুহূর্তে ধসে পড়তে পারে বুঝতে পেরে গ্রামবাসীরা উদ্যোগ নেন ঘরটি মেরামত করার।
শনিবার সকালে মিস্ত্রি ডেকে মেরামতের কাজ শুরু হতেই ঘটে বিস্ময়কর ঘটনা। কুঁড়েঘরের ভাঙা দেয়াল সরাতেই বেরিয়ে আসে বস্তার পর বস্তা টাকা! গ্রামবাসীরা হতভম্ব হয়ে পরপর বস্তা খুলে গুনতে শুরু করেন নগদ অর্থ। দীর্ঘক্ষণ গোনার পর দেখা যায়—প্রায় দুই লক্ষ টাকার কাছাকাছি নগদ অর্থ জমিয়ে রেখেছিলেন নীরব, অসহায় এই ভিক্ষুক।
গ্রামবাসী মাসিদুর রহমান জানান,
“নুর ইসলামের বাড়িতে আত্মীয়-স্বজন কেউ নেই। একাই থাকতেন। বছরের পর বছর বিভিন্ন এলাকায় ঘুরে ভিক্ষা করেই নিজের কষ্টার্জিত এক টাকা, দু টাকা, পাঁচ টাকা করে এই টাকা জমিয়েছিলেন তিনি। আমরা বস্তা খুলতেই সত্যি চমকে গিয়েছিলাম।”
ঘটনার কথা ছড়িয়ে পড়তেই এলাকায় শুরু হয়েছে তীব্র আলোচনা—এক বোবা ভিক্ষুক কীভাবে এত টাকা জমালেন? কেনই বা ভাঙা কুঁড়েঘরের মধ্যেই লুকিয়ে রেখেছিলেন সেই অর্থ?







