বিশ্বাসঘাতকতা করবেন অমিত শাহ নরেন্দ্র মোদিকে সাবধান করলেন মমতা
নতুন পয়গাম, কলকাতা:
অমিত শাহ হইতে সাবধান, ওনার সব কথায় বিশ্বাস করবেন না, এমন একটা দিন আসবে, যখন আপনার সঙ্গেই বিশ্বাসঘাতকতা করবেন অমিত শাহ। এভাবেই প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদিকে সাবধান-সতর্ক করলেন মুখ্যমন্ত্রী মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়। গুজরাত থেকে সর্বভারতীয় রাজনীতিতে মোদি-শাহ বরাবর পরস্পরের বিশ্বস্ত বন্ধু ও সঙ্গী। কেন্দ্রীয় স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী অমিত শাহকে প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদির ডানহাত বা কেন্দ্র সরকারের সেকেন্ড ইন কমান্ড বলেও দাবি করেন কেউ কেউ। কিন্তু সেই ঘনিষ্ঠ সাথী অমিত শাহ সম্পর্কে এবার মোদিকে সতর্ক করলেন পশ্চিমবঙ্গের মুখ্যমন্ত্রী। মমতার দাবি, শাহকে এত বেশি বিশ্বাস করা ঠিক নয়। একদিন এই শাহ মীরজাফর হয়ে যেতে পারেন।
বিহারের পর পশ্চিমবঙ্গে ভোটার তালিকায় নিবিড় সংশোধন বা এসআইআর-এর প্রস্তুতিপর্ব শুরু হয়েছে। বুধবার সকাল থেকে সেই নিয়ে রাজ্য নির্বাচন কমিশনের দফতরে দফায় দফায় বৈঠক হয়েছে। ১১ থেকে ১৫ অক্টোবরের মধ্যে এসআইআর সংক্রান্ত কাজ শেষ করার নির্দেশ দিয়েছে জাতীয় নির্বাচন কমিশন। সেই নিয়েই এদিন মুখ খুলে মমতা বলেন, ‘মিটিং করে এসে ওদের নেতা বলেন, ‘বাংলায় কয়েক লক্ষ ভোটারের নাম বাদ দেব’। বিপর্যয়, বর্ষণ, উৎসবের মধ্যেই এসব বলছে। ১৫ দিনের মধ্যে এসআইআর কীভাবে হয়ে যাবে? কী মনে করে ওরা? কমিশন কি বিজেপি দলের? না কি গণতান্ত্রিক, নাগরিক অধিকার সুনিশ্চিত করাই নির্বাচন কমিশনের দায়িত্ব?’
এভাবেই কমিশনকে তোপ দেগে অমিত শাহকে নিশানা করে মমতা বলেন, ‘সবটাই অমিত শাহের খেলা। উনি ভারপ্রাপ্ত প্রধানমন্ত্রীর মতো কাজ করেন। প্রধানমন্ত্রী সব জানেন। ওঁকে অনুরোধ করতে পারি। সব সময় সব ব্যাপারে অমিত শাহকে বিশ্বাস করবেন না। একদিন উনি আপনার জন্য মীরজাফর হয়ে যাবেন। সময় থাকতে সাবধান হন।’ ত্রিপুরায় যেভাবে তৃণমূলের প্রতিনিধিদলকে আটকানো হয়, তৃণমূল কংগ্রেসের অফিসে হামলা চালানো হয়, তার তীব্র নিন্দা করেন মমতা। উড়িশা প্রসঙ্গ টেনে এনে বাংলার মুখ্যমন্ত্রী বলেন, ‘ওড়িশা জ্বলছে। সাম্প্রদায়িক দাঙ্গা শুরু হয়েছে সেখানে। দাঙ্গা করেছে বিজেপি নিজে। বজরং দল, কী সব নাম! দুঃখের সঙ্গে বলতে হচ্ছে, এরা দেশটাকে শেষ করে দেবে। অনেক সরকার দেখেছি। এমন অহংকারী, দাম্ভিক, স্বৈরাচারী সরকারের আস্ফালন দেখিনি। ওদের মনে রাখা উচিত, চিরকাল কোনকিছুই থাকে না। আজ ক্ষমতায় আছে, কাল থাকবে না।’
উত্তরবঙ্গের বন্যা পরিস্থিতি নিয়েও এদিন কেন্দ্রকে আক্রমণ করেন মমতা। তাঁর দাবি, বাজেটে বাংলার বন্যার জন্য একটা টাকাও বরাদ্দ করেনি কেন্দ্র। কিন্তু নির্বাচনী মরশুমে রাজ্যে এসে বড় বড় কথা বলে যাচ্ছেন বিজেপি নেতারা। শুধু তাই নয়, বিপর্যয়ের সঙ্গে যুঝতে থাকা উত্তরবঙ্গে বিমানের ভাড়া একধাক্কায় ১৮ হাজার টাকা করা হল কোন যুক্তিতে? নির্বাচনমুখী বিহারে ছটপুজোয় যেখানে ছাড় দেওয়া হচ্ছে, সেই একই সময় উত্তরবঙ্গ থেকে কেন চড়া হারে বিমান ভাড়া আদায় করা হচ্ছে, সে প্রশ্নও তোলেন মমতা। এদিন কেন্দ্রের বিরুদ্ধে বিমাতৃসুলভ আচরণের একগুচ্ছ অভিযোগ তুলে অমিত শাহ সম্পর্কে সাবধান করেন প্রধানমন্ত্রীকে।








