মালেগাঁও বিস্ফোরণ: সাধ্বী প্রজ্ঞা, পুরোহিতদের নোটিশ
নতুন পয়গাম,
মুম্বাই, ১৮ সেপ্টেম্বর: মালেগাঁও বিস্ফোরণ মামলায় প্রাক্তন বিজেপি সাংসদ সাধ্বী প্রজ্ঞা সিং ও লেফটেনান্ট কর্নেল প্রসাদ পুরোহিত-সহ সাত অভিযুক্তকেই গত ৩১ জুলাই বেকসুর খালাস করে দেয় এনআইএ-র বিশেষ আদালত। তাদের আইনজীবীরা নাকি এসব মক্কেলদের বিরুদ্ধে আনা অভিযোগ প্রমাণ করতে পারেনি বা প্রয়োজনীয় নথিপত্র আদালতকে দেখাতে পারেনি। তাই উপযুক্ত প্রমাণের অভাবে এদেরকেই মুক্তি দিয়েছিল আদালত। তাহলে সেই বিস্ফোরণ কারা ঘটিয়েছিল? এত মানুষের হতাহতের জন্য দায়ী কারা? এসব প্রশ্নের উত্তর অধরাই রয়ে যায়।
২০০৮ সালের মালেগাঁও বিস্ফোরণ মামলায় মুক্তিপ্রাপ্ত সাতজনকেই বৃহস্পতিবার নোটিশ পাঠিয়েছে মুম্বাই হাইকোর্ট। ১৭ বছর আগের সেই ভয়াবহ বিস্ফোরণে নিহতদের পরিবারের আবেদনের ভিত্তিতে হাইকোর্ট এই নোটিশ পাঠাল। প্রধান বিচারপতি শ্রী চন্দ্রশেখর এবং বিচারপতি গৌতম আঁখড়ের বেঞ্চ জানিয়েছেন, দেড় মাস পর এই আবেদনের শুনানি হবে। আবেদনে বলা হয়েছে, তদন্তের ফাঁকফোকর বা ভুলভ্রান্তির কারণে অভিযুক্তদের মুক্তি দেওয়া যুক্তিসঙ্গত নয়। নিরপেক্ষ ও যথাযথ তদন্তই করা হয়নি। উল্লেখ্য, চলতি বছরের ২৪ এপ্রিল মালেগাঁও বিস্ফোরণের মাস্টাররমাইন্ড প্রাক্তন বিজেপি সাংসদ সাধ্বী প্রজ্ঞা সিং ঠাকুর, অবসরপ্রাপ্ত মেজর রমেশ উপাধ্যায়, সেনাবাহিনীর লেফট্যানেন্ট কর্নেল প্রসাদ শ্রীকান্ত পুরোহিত, সুধাকর চতুর্বেদী, অজয় রাহিকর, সুধাকর ধর দ্বিবেদী এবং সমীর কুলকার্নিদের ফাঁসি চেয়ে আদালতে সওয়াল করেছিল এনআইএ।
উল্লেখ্য, ২০০৮ সালের ২৯ সেপ্টেম্বর রাতে মহারাষ্ট্রের নাসিক জেলার মালেগাঁও শহরে ভয়ংকর বিস্ফোরণে ৬ জন নিহত এবং আহত হন শতাধিক ব্যক্তি। তদন্তে উঠে আসে, মালেগাঁও শহরে মসজিদ লাগোয়া কবরস্থানে একটি মোটরবাইকে লুকিয়ে রাখা দু’টি বোমা বিস্ফোরণ হয়। মহারাষ্ট্রের সন্ত্রাসদমন শাখা এটিএস প্রাথমিক রিপোর্টে জানায়, বিস্ফোরণের নেপথ্যে রয়েছে এক হিন্দুত্ববাদী সংগঠন। যে বাইকের ভিতরে বোমা রাখা ছিল, সেটা বিজেপি সাংসদ সাধ্বী প্রজ্ঞা সিং ঠাকুরের নামে কেনা। নির্দিষ্ট একটি ধর্মের মানুষকে নিশানা করতেই বিস্ফোরণের পরিকল্পনা করেছিল প্রজ্ঞা, প্রসাদ পুরোহিত-সহ সাতজন। এরপর একে একে গ্রেপ্তার করা হয় তাদেরকে।
পরে অবশ্য তারা সকলেই জামিন পান। ২০১১ সালে মালেগাঁও বিস্ফোরণ মামলা জাতীয় তদন্তকারী সংস্থা এনআইএ-র হাতে চলে যায়। এরপর তদন্তের অভিমুখ বদলে যায়। একাধিক চার্জশিটের পর ২০১৮ সালে শুরু হয় বিচার প্রক্রিয়া। বিচার চলাকালে আদালত ৩২৩ জন সাক্ষীর বয়ান রেকর্ড করে। এতকিছুর পরেও শেষমেষ ৩১ জুলাই ২০২৫ ‘উপযুক্ত প্রমাণের অভাবে’ অভিযুক্তদের বেকসুর খালাস দেয় এনআইএ-র বিশেষ আদালত।
সেই রায়কে চ্যালেঞ্জ জানিয়ে সম্প্রতি মুম্বাই হাইকোর্টে মামলা দায়ের করেন নিহতদের পরিবারের ৬ সদস্য। তাদের দাবি, মালেগাঁও বিস্ফোরণকাণ্ডের তদন্ত প্রক্রিয়ায় প্রচুর গলদ রয়েছে। অভিযোগ প্রমাণে তাদের কাছে পর্যাপ্ত প্রমাণ আছে। তাই এনআইএ আদালতের রায় খারিজ করে দেওয়া হোক। এই মামলা গ্রহণ করে মুম্বাই হাইকোর্ট এদিন নোটিশ পাঠাল এনআইএ, এটিএস এবং অভিযুক্ত সাতজনকে।








