পথে পথে ভালোবাসা, সিউড়িতে অভিনব জনসংযোগে বিজেপি প্রার্থী জগন্নাথ চট্টোপাধ্যায়
নতুন পয়গাম, খান সাহিল মাজহার, বীরভূম: সিউড়ি বিধানসভা কেন্দ্রের নির্বাচনী প্রচারে এক ভিন্নধর্মী উদ্যোগের সাক্ষী থাকল বীরভূম। ভোর পাঁচটা নাগাদ সিউড়ি স্টেশনে দলীয় কর্মীদের নিয়ে উপস্থিত হন বিজেপি প্রার্থী জগন্নাথ চট্টোপাধ্যায়। সেখান থেকেই তিনি তাঁর উদ্যোগে চালু হওয়া সিউড়ি–শিয়ালদহ মেমু ট্রেনে উঠে শুরু করেন প্রচার ও জনসংযোগ কর্মসূচি। ট্রেনের ভেতরে এক কামরা থেকে অন্য কামরায় ঘুরে ঘুরে নিত্যযাত্রীদের সঙ্গে কথা বলেন তিনি। যাত্রীদের সুবিধা-অসুবিধা, ট্রেন পরিষেবার মান এবং দৈনন্দিন যাতায়াতের অভিজ্ঞতা জানতে চান। এই সময় এক নিত্যযাত্রী তাঁকে চিনে নিয়ে আন্তরিকতার নিদর্শন হিসেবে লাল চা উপহার দেন। যাত্রীর এই ভালোবাসা সাদরে গ্রহণ করেন জগন্নাথ চট্টোপাধ্যায়। যাত্রীর বক্তব্য, এই ট্রেন পরিষেবা চালুর ফলে তাঁদের দৈনন্দিন যাতায়াত অনেক সহজ হয়েছে—সেই কৃতজ্ঞতা থেকেই এই উপহার।
এরপর চিনপাই স্টেশনে নেমে আশপাশের গ্রামাঞ্চলে জনসংযোগে নেমে পড়েন বিজেপি প্রার্থী। স্থানীয় মানুষের সঙ্গে সরাসরি কথা বলে তাঁদের সমস্যা, চাহিদা ও মতামত শোনেন তিনি। গ্রামবাসীদের সঙ্গে আন্তরিক আলাপচারিতায় জমে ওঠে প্রচারের পরিবেশ। জনসংযোগের মধ্যেই আরেকটি হৃদয়স্পর্শী মুহূর্তের সাক্ষী থাকেন তিনি। এক হকার, যিনি ট্রেনে চকলেট বিক্রি করেন, প্রার্থীকে দুটি চকলেটের প্যাকেট উপহার হিসেবে তুলে দেন। জানা যায়, সিউড়ি ও চিনপাই স্টেশনসহ বীরভূমের বিভিন্ন রেলস্টেশন উন্নয়ন ও সাজিয়ে তোলার উদ্যোগে খুশি হয়েই তিনি এই উপহার দেন।
এই ভালোবাসার উপহার পেয়ে আবেগাপ্লুত হন জগন্নাথ চট্টোপাধ্যায়। তিনি কৃতজ্ঞতা জানিয়ে বলেন, সাধারণ মানুষের এই আন্তরিকতা ও সমর্থনই তাঁর এগিয়ে চলার শক্তি। সব মিলিয়ে, ট্রেনকে কেন্দ্র করে শুরু হওয়া এই জনসংযোগ কর্মসূচি শুধু প্রচারেই সীমাবদ্ধ থাকেনি—এটি হয়ে উঠেছে সাধারণ মানুষের সঙ্গে সরাসরি হৃদয়ের যোগাযোগের এক অনন্য উদাহরণ। রাজনৈতিক মহলের মতে, এই ধরনের ঘনিষ্ঠ ও মানবিক প্রচারই ভোটের লড়াইয়ে আলাদা মাত্রা যোগ করে।








