কালিয়াচক বনি চাইল্ড মিশনে বার্ষিক ক্রীড়া প্রতিযোগিতা: উচ্ছ্বাসে মাতলো ছাত্রছাত্রীরা
নতুন পয়গাম, এম নাজমুস সাহাদাত, মালদহ: প্রাণবন্ত পরিবেশ, মাঠজুড়ে উচ্ছ্বাস আর শিশুদের চিৎকারে মুখরিত এমনই চিত্র দেখা গেল মালদহ জেলার কালিয়াচকে অবস্থিত বনি চাইল্ড মিশনে আয়োজিত বার্ষিক ক্রীড়া প্রতিযোগিতায়। বেসরকারি শিক্ষা উদ্যোগ হিসেবে পরিচিত এই প্রতিষ্ঠানের বার্ষিক ক্রীড়া প্রতিযোগিতা মূলত শিশুদের মননশীলতা, শরীরচর্চা ও সুস্থ প্রতিযোগিতার মানসিকতা গড়ে তোলার উদ্দেশ্যে আয়োজিত হয়ে থাকে। এ বছরও সেই ধারাবাহিকতায় অনুষ্ঠানকে কেন্দ্র করে বিদ্যালয় চত্বরে অর্থাৎ কালিকাপুর কারবালা ময়দানে গড়ে ওঠে উৎসবের আবহ। বৃহস্পতিবার সকালে জাতীয় সঙ্গীত ও পতাকা উত্তোলনের মাধ্যমে দিনের আনুষ্ঠানিক সূচনা হয়। পতাকা উত্তোলন শেষে শুভারম্ভ ঘোষণার মধ্য দিয়ে মাঠে শুরু হয় বিভিন্ন আকর্ষণীয় প্রতিযোগিতা। দিনভর একে একে অনুষ্ঠিত হয় বিভিন্ন মিটারে দৌড় প্রতিযোগিতা, এক পায়ের দৌড়, মিউজিক্যাল চেয়ার, নৃত্য প্রদর্শনীসহ আরও অনেক খেলা। শিশু শ্রেণি থেকে দশম শ্রেণি পর্যন্ত শিক্ষার্থীরা উৎসাহ নিয়ে অংশগ্রহণ করে এবং নিজেদের সেরাটা দেওয়ার চেষ্টা করে। খেলা চলাকালীন অভিভাবক, দর্শক, শিক্ষক-শিক্ষিকা ও স্থানীয় বিশিষ্টজনদের উপস্থিতি ছিল নজরকাড়া। মাঠে দর্শকদের করতালি ও উচ্ছ্বাসের সঙ্গে শিশুদের হাসিমাখা মুখ মিলিয়ে পরিবেশ হয়ে ওঠে প্রাণবন্ত। অনেক অভিভাবক মোবাইলে খেলার মুহূর্ত ধারণ করেন এবং সন্তানদের উৎসাহ দিতে দেখা যায়। কালিয়াচক বনি চাইল্ড স্কুলের পরিচালক সামিম জাভেদ আলী বলেন, শিক্ষা কেবল পাঠ্যবই ও পরীক্ষার মধ্যে সীমাবদ্ধ নয়। শারীরিক সক্ষমতা, দলবদ্ধভাবে কাজের মনোভাব, সিদ্ধান্ত গ্রহণের ক্ষমতা এসবই ক্রীড়ার মাধ্যমে গড়ে ওঠে। তাই প্রতিবছর আমরা এই প্রতিযোগিতার আয়োজন করে থাকি, যাতে শিক্ষার্থীরা মানসিক, শারীরিক ও সামাজিকভাবে আরও পরিপক্ক হয়ে উঠতে পারে।
এদিন অতিথি হিসেবে উপস্থিত ছিলেন শিক্ষারত্ন পুরস্কারপ্রাপ্ত শিক্ষিকা তানিয়া রহমত, মোথাবাড়ি হাই স্কুলের প্রাক্তন শিক্ষক বজলুল হক, চিকিৎসক হাজেরুল ইবকার, মালদা জেলা পরিষদ বন ও ভূমি কর্মাধ্যক্ষ আব্দুর রহমান, ব্লক স্পোর্টস অ্যাসোসিয়েশনের সম্পদাক ডা: দিবস সিনহা, মোহাম্মাদীয়া হাই মাদ্রাসার অবসরপ্রাপ্ত প্রধান শিক্ষক আব্দুল ওয়াহাব সহ আরও বিশিষ্টজন। অতিথিদের বক্তব্যে ক্রীড়ার প্রয়োজনীয়তা স্পষ্টভাবে উঠে আসে। তানিয়া রহমত বলেন, ক্রীড়া শিক্ষার্থীর আত্মবিশ্বাস বৃদ্ধি করে, মনকে সতেজ রাখে এবং পড়াশোনার চাপ কমাতে সহায়ক। আমরা চাই শিশুরা সুস্থ ও সচেতনভাবে বড় হয়ে উঠুক। চিকিৎসক হাজেরুল ইবকার বলেন, বর্তমানে শিশুরা মোবাইল ও ভিডিও গেমে বেশি সময় দেয়, ফলে শারীরিক সক্রিয়তা কমে যাচ্ছে। তাই এই ধরনের ক্রীড়া অত্যন্ত প্রয়োজনীয়। প্রতিযোগিতা শেষে বিভিন্ন বিভাগে বিজয়ীদের হাতে পুরস্কার তুলে দেন অতিথিরা। পুরস্কার বিতরণীর মুহূর্তে শিশুদের আনন্দ ছিল চোখে পড়ার মতো। এক অভিভাবক বলেন, আজকের দিনে শিশুরা যেমন পড়াশোনার চাপ সামলায়, তেমনি মোবাইলের প্রলোভনেও পড়ে। তাই মাঠে এভাবে খেলতে দেখা সত্যিই স্বস্তির। মিশনের সম্পাদক জসীমউদ্দীন আহমেদ বলেন, কালিয়াচকে বনি চাইল্ড মিশন শুধু প্রাথমিক শিক্ষা নয়, চরিত্র গঠনমূলক বিভিন্ন কর্মকাণ্ডেও শিশুদের যুক্ত করে আসছে। বার্ষিক ক্রীড়া সেই ধারাবাহিকতারই অংশ। দিনের শেষে সমাপনী বক্তব্য ও পুরস্কার বিতরণের মধ্য দিয়ে অনুষ্ঠানের পরিসমাপ্তি হলেও শিশুদের হাসি, উচ্ছ্বাস ও চাঞ্চল্য থেকে যায় উপস্থিত সকলের মনে।








