পার্লামেন্টে নিষিদ্ধ ‘জয় হিন্দ’, ‘বন্দেমাতরম’ স্লোগান
সোমবার ১ ডিসেম্বর শুরু সংসদের শীতকালীন অধিবেশন
নতুন পয়গাম, নয়াদিল্লি:
আগমী ১ ডিসেম্বর থেকে শুরু হতে চলেছে সংসদের শীতকালীন অধিবেশন। গত মাসে কেন্দ্র সরকার ঘটা করে পালন করেছে বন্দেমাতরম-এর সার্ধশতবর্ষ। অথচ, সেই বন্দেমাতরম-ই এবার উচ্চারণ করা যাবে না সংসদে। নেতাজি সুভাষচন্দ্র বসুর আগুন ঝরানো স্লোগান জয় হিন্দ-ও চলবে না সংসদে। আজ ২৬ নভেম্বর সংবিধান দিবস। তার আগেই সাংসদদের জন্য নয়া নিদান জারি করল কেন্দ্র সরকার। রাজ্যসভার সচিবালয় জানিয়েছে, সংসদে জয় হিন্দ বা বন্দেমাতরম স্লোগান দেওয়া যাবে না। এসব দেশপ্রেমী স্লোগান নাকি শালীনতা ও সংসদীয় কার্যপ্রণালীর পরিপন্থী বলে উল্লেখ করা হয়েছে রাজ্যসভার বুলেটিনে।
সোমবার ১ ডিসেম্বর শীতকালীন অধিবেশনেই প্রথমবার রাজ্যসভার অধিবেশন পরিচালনা করবেন নতুন উপরাষ্ট্রপতি সি.পি রাধাকৃষ্ণান। বিভিন্ন মহল থেকে প্রশ্ন উঠছে, ব্রিটিশের বিরুদ্ধে গর্জে উঠতে ১৯০৫ সালের ৭ আগস্ট যে ‘বন্দেমাতরম’ প্রথম রাজনৈতিক স্লোগান হিসেবে ভারতীয়দের রক্ত গরম করেছিল, যে ধ্বনিতে হাজারো দেশপ্রেমিক স্বাধীনতা সংগ্রামে সক্রিয় অংশ নিয়েছেন, সেই বন্দেমাতরম কীভাবে শালীনতা বিরোধী এবং সংসদীয় কার্যপ্রণালীর পরিপন্থী হতে পারে? সংবিধান সভাতেও ১৯৫০ সালে বন্দেমাতরমকে গ্রহণ করা হয়েছিল ‘জাতীয় গীত’ হিসেবে। উল্লেখ্য, সংসদের অধিবেশনের সমাপ্তির সময় নেপথ্যে বেজে ওঠে এই বন্দেমাতরম গান।
প্রশ্ন উঠছে, স্বাধীনতা দিবসে ১৫ আগস্ট ঐতিহাসিক লালকেল্লা থেকে প্রধানমন্ত্রী মোদি ১১ বছর ধরে ভাষণ শেষে জয় হিন্দ ও বন্দেমাতরম স্লোগান দিয়েছেন। এতে কি স্বাধীনতা দিবসের প্রধান সরকারি অনুষ্ঠানের মহিমা বা মাহাত্ম্য ম্লান হয়? এই দুই স্লোগান ভারতীয়দের আবেগ। তাই দেশেপ্রেমের মন্ত্রে উদ্বুদ্ধ করা এসব জনপ্রিয় ঐতিহাসিক স্লোগান নিষিদ্ধ করায় কেন্দ্রের ফরমান নিয়ে উঠছে প্রশ্ন। যদিও রাজ্যসভা সচিবলায় জানিয়েছে, গান হিসেবে বন্দেমাতরম নিষিদ্ধ নয়, কিন্তু স্লোগান হিসেবে তা ব্যবহার করা যাবে না।
পাশাপাশি সাংসদদের জন্য নয়া নির্দেশিকা জারি হয়েছে, উভয় কক্ষের ভিতরে কিংবা বাইরে, কোথাও লোকসভার স্পিকার বা রাজ্যসভার চেয়ারম্যানের নির্দেশের সমালোচনা করা যাবে না। তাই প্রশ্ন উঠছে, এই অধিবেশন থেকেই কি বিরোধীদের কণ্ঠরোধে সর্বাত্মক চেষ্টা চালাবে কেন্দ্র সরকার! এতে তো বহুত্ববাদী গণতন্ত্রের কঙ্কালসার চেহারাই আরো স্পষ্ট হবে। যার দায় কেন্দ্র সরকার এড়াতে পারবে না।








