মালদহে ভোটাধিকার কেড়ে নেওয়ার প্রতিবাদে তীব্র গণ আন্দোলন গড়ে উঠেছে
উমার ফারুক, নতুন পয়গাম, মালদা: গোটা রাজ্যের সঙ্গে মালদহের বাদ পড়া ও বিচারাধীন বৈধ ভোটাররা ক্ষোভে ফুঁসছেন। নিজেদের নাগরিক ও গণতান্ত্রিক অধিকার রক্ষায় রাজ্য জুড়েই সংগঠিত হচ্ছেন বৈধ ভোটাররা। ভোটাধিকার কেড়ে নেওয়ার ফ্যাসিস্ট চক্রান্তের বিরুদ্ধে অরাজনৈতিক নাগরিক মঞ্চ তৈরি করে আন্দোলন শুরু হয়েছে রাজ্যের বিভিন্ন প্রান্তে। কলকাতার পার্ক সার্কাস ময়দানে অবস্থান বিক্ষোভ করছেন অধ্যাপক, শিক্ষক,পড়ুয়া ও বুদ্ধিজীবীগণ। সারা বাংলা বিচারাধীন ভোটার মঞ্চ নির্বাচন কমিশনের কাছে ইতিমধ্যেই ডেপুটেশন প্রদান করেছে। রাজ্যের সমস্ত জেলায় এই মঞ্চ কাজ শুরু করেছে। পাশাপাশি বিভিন্ন অরাজনৈতিক ও সামাজিক সংগঠন সম্মিলিত ভাবে পশ্চিমবঙ্গ ভোটাধিকার সুরক্ষা মঞ্চ গঠন হয়েছে। তাদের পক্ষেও কমিশনের কাছে ডেপুটেশন দেওয়া হয়েছে। বৈধ কাগজপত্র থাকা সত্ত্বেও সাধারণ মানুষের ভোটাধিকার কেড়ে নেওয়ার চক্রান্তের বিরুদ্ধে সংগঠিত হচ্ছে নাগরিক সমাজ।
মালদহে চূড়ান্ত ভোটার তালিকা থেকে বাদ পড়েছেন ১৮হাজার, ২৮২জন এবং বিচারাধীন রয়েছেন ৮ লক্ষ২৮ হাজার ১২৭ জন ভোটার। জেলায় নাগরিকত্ব ও ভোটাধিকার রক্ষা মঞ্চ নামে অরাজনৈতিক সংগঠন মালদহ জেলা প্রশাসনের কাছে মঙ্গলবার ডেপুটেশন প্রদান করেছে।ডেপুটেশনের ১৩দফা দাবি জানান হয়। অন্যতম দাবি হলো, যাচাই প্রক্রিয়ায় কোনো নাগরিককে জাতি, ধর্ম, ভাষা বা সম্প্রদায়ের ভিত্তিতে বৈষম্যের শিকার করা যাবে না। নাগরিকদের অযথা হয়রানি এড়াতে যাচাই প্রক্রিয়া দ্রুত ও নির্দিষ্ট সময়সীমার মধ্যে সম্পন্ন করতে হবে। ডেপুটেশনের পূর্বে জেলা সদরের বৃন্দাবন মাঠের পাশে মুক্তমঞ্চ থেকে প্রায় পাঁচ হাজার মানুষ র্যালিতে অংশ নেন। এই মিছিল নজরুল সরণি হয়ে ইংলিশবাজার থানার সামনে দিয়ে রাজ হোটেল মোড় হয়ে পোস্ট অফিস মোড়ে পৌঁছায়। সেখানে প্রতিবাদ সভা অনুষ্ঠিত হয় এবং বিভিন্ন বিশিষ্ট ব্যক্তিবর্গ বক্তব্য রাখেন। সভা শেষে দশ সদস্যের একটি প্রতিনিধিদল জেলাশাসকের দপ্তরে ডেপুটেশন জমা দিতে যায়। পরবর্তীতে চাঁচল মহকুমা শাসকের কাছে ডেপুটেশন দেওয়া হবে বলে জানা গিয়েছে।
নাগরিকত্ব ও ভোটাধিকার রক্ষা মঞ্চের পক্ষে অধ্যাপক ড. সামসুল হক বলেন, প্রতিবাদ মিছিলে জেলার বিভিন্ন প্রান্ত থেকে সমাজকর্মী, অধ্যাপক, অধ্যক্ষ, শিক্ষক-শিক্ষিকা এবং সমাজের বিভিন্ন পেশার বিশিষ্ট ব্যক্তিবর্গ অংশগ্রহণ করেন। প্রতিনিধিদল জেলাশাসকের দপ্তরে ডেপুটেশন জমা দিতে যায়। জেলাশাসকের দায়িত্বপ্রাপ্ত প্রতিনিধিদের সঙ্গে প্রায় এক ঘণ্টা আলোচনা অনুষ্ঠিত হয়। আলোচনায় জমি ও বাড়ি রেজিস্ট্রেশন সংক্রান্ত সমস্যা, যুবসাথী প্রকল্পে বিচারাধীন ভোটারদের আবেদন সংক্রান্ত বিষয়, এবং পাসপোর্ট, ড্রাইভিং লাইসেন্সসহ নিত্যপ্রয়োজনীয় প্রশাসনিক পরিষেবায় সাধারণ মানুষের কোনো বাধা সৃষ্টি না হওয়ার বিষয়টি গুরুত্বের সঙ্গে তুলে ধরা হয়।








