রেকর্ড গড়ে বিশ্বকাপের ফাইনালে ভারতের মেয়েরা, অনবদ্য জেমিমা
নিজস্ব প্রতিনিধি, নতুন পয়গাম, মুম্বই:
দুটো দলের সম্মিলিত রানের সংখ্যা ৭৮১ !
সুতরাং বোঝাই যাচ্ছে কি ধুন্ধুমার,মারকাটারি ব্যাটিং হয়েছে।আসলে বকলমে একপ্রকার ফাইনাল যেন কালই অনুষ্ঠিত হয়ে গেল।কখনো মনে হয়েছে ভারত জিতবে,তো কখনো মনে হয়েছে অস্ট্রেলিয়া।
ভারতকে জিততে হলে রেকর্ড গড়তে হতো।আর সেই রেকর্ড গড়েই ৩৩৮ রান টপকে গেল হরমনপ্রীতের দল।
লিচ-ফোবিয়া কাটিয়ে নায়িকা জেমিমা।
৪৯তম ওভারের তিন নম্বর ডেলিভারি আমনজ্যোৎ বাউন্ডারির বাইরে পাঠাতেই আবেগের বিস্ফোরণ ভারতীয় শিবিরে। ডাগ-আউট থেকে দৌড়ে মাঠে ঢুকে স্মৃতি মান্ধানারা জড়িয়ে ধরলেন ‘ধন্যি মেয়ে’ জেমাইমা রড্রিগেজকে। তাঁর চোখে তখন জয়ের আনন্দাশ্রু। যেন ফ্ল্যাশব্যাকে ফিরে গিয়েছিলেন ২০২২ সালে। সেবার বিশ্বকাপের স্কোয়াডেই জায়গা হয়নি এই জেমাইমার। মেগা আসরে খেলার সুযোগ না পেয়ে ভেঙে পড়েছিলেন তিনি। রাতে দু’চোখের পাতা এক হতো না। তবে হার মানেননি মুম্বইয়ের লড়াকু কন্যা। সংকল্প করেছিলেন, আরও ক্ষুরধার হয়ে ফেরার। চলতি বিশ্বকাপে সেই জেমাইমাই ফাইনালে তুললেন ভারতকে। তাঁর দুরন্ত শতরানের সৌজন্যে বৃহস্পতিবার শেষ চারের লড়াইয়ে সাত বারের চ্যাম্পিয়ন অস্ট্রেলিয়াকে ৫ উইকেটে হারাল টিম ইন্ডিয়া। উল্লেখ্য, টস জিতে প্রথমে ব্যাট করতে নেমে ফিওব লিচফিল্ডের শতরানে (১১৯) ভর করে ৪৯.৫ ওভারে অস্ট্রেলিয়া তোলে ৩৩৮। জবাবে ৯ বল বাকি থাকতেই জয় ছিনিয়ে নেয় ভারতের প্রমীলা ব্রিগেড (৩৪১-৫)। সেই সঙ্গে মহিলাদের বিশ্বকাপে সবচেয়ে বেশি রান তাড়া করে জেতার রেকর্ডও গড়ে ফেলে তারা। ১৪টি বাউন্ডারি সহ ১৩৪ বলে অপরাজিত ১২৭ রান হাঁকিয়ে ম্যাচের সেরা জেমাইমা। রবিবার খেতাবি লড়াইয়ে হরমনপ্রীতদের প্রতিপক্ষ দক্ষিণ আফ্রিকা।
ভারতের এই জয়ে স্মৃতি ফিরল ২০১৭ মহিলাদের ওডিআই বিশ্বকাপের। সেবারও সেমি-ফাইনালে অস্ট্রেলিয়াকে হারিয়ে ফাইনালের টিকিট ছিনিয়ে নিয়েছিল টিম ইন্ডিয়া। হরমনপ্রীত কাউর অপরাজিত ১৭১ রানের ইনিংস উপহার দিয়েছিলেন। আর বৃহস্পতিবারও ভারতীয় ক্যাপ্টেনের অবদান ৮৯ রানের দায়িত্বশীল ইনিংস। তবে ভারতের জয়ের প্রধান কারিগর জেমাইমা। দুই ওপেনার শেফালি ভার্মা (১০) ও স্মৃতি মান্ধানা (২৪) আউট হওয়ার পর হরমনপ্রীতের সঙ্গে ইনিংস এগিয়ে নিয়ে গেলেন। তৃতীয় উইকেটে তাঁরা যোগ করেন ১৬৭ রান। তাতেই প্রশস্ত হয় জয়ের পথ। শুরুর দিকে সতর্কতার সঙ্গে স্কোরবোর্ড সচল রাখলেন জেমাইমা। একটু থিতু হতেই তাঁর হাত থেকে বেরল একের পর এক দৃষ্টিনন্দন শট। ১১৫ বলে তিন অঙ্কের ঘরে পৌঁছনোর পরও ক্ষান্ত হননি। শেষ পর্যন্ত ম্যাচ জিতিয়েই মাঠ ছাড়ালেন তিনি। পাশাপাশি ভারতের জয়ে অবদান রাখলেন দীপ্তি (২৪), রিচা (২৬) ও আমনজ্যোতও (১৫ নট আউট)। উল্লেখ্য, লিগ পর্বে অস্ট্রেলিয়ার বিরুদ্ধে ৩৩০ রান করেও হারতে হয়েছিল ভারতকে। এদিন হরমনপ্রীতরা শুধু বদলাই নিলেন না, বিশ্বকাপ থেকেই ছিটকে দিলেন প্রবল পরাক্রমশালী অজি ব্রিগেডকে।
চলতি আসরে অপরাজিত থেকেই সেমি-ফাইনাল খেলেতে নেমেছিল অস্ট্রেলিয়া। প্রথমে ব্যাট করতে নেমে ফিওব লিচফিল্ডের দুরন্ত শতরানে ভর করে ৪৯.১ ওভারে ৩৩৯ রান তোলে ক্যাঙারু বাহিনী। ১৭টি চার ও ৩টি ছক্কা সহ ৯৩ বলে ১১৯ রানের ইনিংস উপহার দিয়েছেন বাঁহাতি অজি ওপেনার। চোট সারিয়ে ফেরা অপর ওপেনার অ্যালিসা হিলি (৫) বড় রান পাননি। তবে তিনে নামা এলিসা পেরিকে সঙ্গে নিয়ে প্রাথমিক ধাক্কা সামলে দেন লিচফিল্ড। তাঁদের ১৫৫ রানের জুটিই শক্ত ভিত গড়ে দেয় অস্ট্রেলিয়ার। মাত্র ৭৭ বলে তিন অঙ্কের ঘরে পৌঁছন লিচফিল্ড। শেষ পর্যন্ত তাঁকে আউট করে ভারতীয় শিবিরে স্বস্তি আনেন আমনজ্যোত্। এই পর্বে অস্ট্রেলিয়াকে চেপে ধরে ভারতীয় স্পিনাররা। ৭৭ রান করে অ্যালিসা পেরিও রাধার শিকার। তবে শেষদিকে ঝড় তুলে অস্ট্রেলিয়াকে সাড়ে তিনশোর কাছাকাছি পৌঁছে দেন গার্ডনার (৬৩)। ভারতের হয়ে শ্রীচরণি ও দীপ্তি শর্মা দু’টি করে উইকেট ঝুলিতে ভরেন।
তবে সব ছাপিয়ে ভারতীয়দের চোখ রবিবারের দক্ষিণ আফ্রিকার সাথে,কেননা ওই ম্যাচটা জিতলেই কেল্লাফতে। জীবনে প্রথমবার বিশ্বকাপের স্বাদ পাবে ভারতের মেয়েরাও।








