মুথুস্বামীর ঝলমলে সেঞ্চুরিতে ফিকে হচ্ছে ভারতের জয়ের আশা
এম. রহমান, নতুন পয়গাম, গুয়াহাটি:
প্রথম দিন দক্ষিণ আফ্রিকা ৬ উইকেট হারিয়ে যখন ২৪৭ রানে সাজঘরে ফেরে তখন ভারতীয়রা সমর্থক কি ভাবতে পারেন-হয়তো রানটা ৩০০ বা ১০-২০ বেশি হতে পারে!
কিন্তু না দক্ষিণ আফ্রিকা থামলো একেবারে ৫০০-এর দোরগোড়ায় (৪৮৯)।
লোয়ার অর্ডারের দুই ব্যাটার,থুড়ি মূলত বোলার-করলেন একজন সেঞ্চুরি, একজন ৯৩;অল্পের জন্য মিস হল সেঞ্চুরি।
ইডেনে একপেশে হারার পর গুয়াহাটির বর্ষাপাড়া স্টেডিয়ামেও চাপে ভারত। দ্বিতীয় টেস্টের দ্বিতীয় দিনের শেষে রীতিমতো দেওয়ালে পিঠ ঠেকে গিয়েছে ঘরের টিমের। আরও একবার ঘাড়ের উপর ঝুলছে খাঁড়া। সেনুরান মুথুস্বামীর সেঞ্চুরি আর মার্কো জানসেনের ঝোড়ো ইনিংসের সুবাদে রানের পাহাড় গড়া দক্ষিণ আফ্রিকা,ভারতীয় বোলিংয়ের দৈন্যদশাকেই একপ্রকার তুলে ধরল। বাইশ গজ নিয়ে এত গবেষণা না করে গৌতম গম্ভীর যদি স্কিল বাড়ানোয় মন দিতেন তাহলে কাজ হত। এখন যা অবস্থা, তাতে এই ম্যাচ জিতে সিরিজে সমতা ফেরানো তো দূর,না হারলেই হল।
গতকাল ছয় উইকেটে ২৪৭ নিয়ে শুরু করেছিল প্রোটিয়ারা। ডেল স্টেইনের মতো প্রাক্তনরা পর্যন্ত মনে করেছিলেন যে, রানটা ৩২০ পেরলেই অনেক। অনিল কুম্বলের ভবিষ্যদ্বাণী ছিল প্রথম সেশনেই ব্যাট করতে নামবে ভারত। কে জানত, দিনের প্রথম সেশনে কোনো উইকেটই পাবে না ভারত !
পরিসংখ্যান জানাচ্ছে, প্রোটিয়াদের সাত থেকে এগারো নম্বর ব্যাটসম্যানের মিলিত সংগ্রহ ২৪৩। সপ্তম উইকেটে মুথুস্বামী ও ভেরাইনে যোগ করেন ৮৮। অষ্টম উইকেটে মুথুস্বামী ও জানসেনের জুটিতে আসে ৯৭। এমনকী, শেষ উইকেটেও ওঠে ২৭! আসলে ভারতীয় বোলিংয়ের কঙ্কালসার দশা ফুটে ওঠে এদিন। রবীন্দ্র জাদেজা এবং ওয়াশিংটন সুন্দরের বল ঘুরল না একটুও। হাওয়ায় বল ভাসানোর পথেও গেলেন না তাঁরা। ভারতের সফলতম বোলার কুলদীপ যাদব হলেও একমাত্র যশপ্রীত বুমরাহকেই সপ্রতিভ দেখিয়েছে। মহম্মদ সিরাজও একশোর বেশি রান দিলেন।
মুথুস্বামী জীবনের প্রথম টেস্ট সেঞ্চুরি করেন। ২০৬ বলে তাঁর ১০৯ রানে রয়েছে ১০টি চার ও দুটো ছক্কা। শতরান নিশ্চিত দেখাচ্ছিল জানসেনেরও। ৯১ বলে তাঁর ৯৩ রানের ইনিংস সাজানো সাতটি ছক্কা ও ছয়টি চারে। ভারতে কোনও বিদেশির এক ইনিংসে সর্বাধিক ছক্কার রেকর্ড ছিল ভিভ রিচার্ডস ও ম্যাথু হেডেনের। উভয়েই মেরেছিলেন ছয়টি ছক্কা। জানসেন টপকে গেলেন দু’জনকেই। দিনের শেষে বিনা উইকেটে ৯ রান তুলেছে ভারত। সিরিজে ০-১ পিছিয়ে থাকা টিম ইন্ডিয়া সমতা ফেরানোর লক্ষ্যে নেমেছে। তার জন্য প্রথম ইনিংসে বড় স্কোর জরুরি। অন্তত দু’জনের ব্যাটে চাই লম্বা ইনিংস। পাশাপাশি, প্রোটিয়াদের দ্বিতীয় ইনিংসে ভাঙন ধরানোও আবশ্যক। ২০১৬ সালে চেন্নাইতে ইংল্যান্ড ৪৭৭ প্লাস স্কোর করার পরও টেস্ট জিতেছিল ভারত। আবার উল্টোদিক থেকে এটাও বাস্তব যে, প্রোটিয়াদের মতো ৪৮৯ তুলে ভারতে কোনও দল টেস্ট হারেনি। ঋষভ পন্থদের কাজটা তাই কঠিন। গত বছর নিউজিল্যান্ডের কাছে টেস্ট সিরিজ হেরেছে ভারত। গম্ভীরের কোচিংয়ে ঘরের মাঠে আরও এক টেস্ট সিরিজ পরাজয়ের আশঙ্কা বাড়ছে,সেটা এই টেস্ট ড্র হলেও।








