হার্দিকের বিষ্ফোরক ব্যাটিং আর বরুণের ঘূর্ণিতে টি-টোয়েন্টি সিরিজ জিতলো ভারত
এম.রহমান, আহমেদাবাদঃ
দলে ফিরেই ধুমধাড়াক্কা ব্যাটিং করছেন হার্দিক পান্ডিয়া।সিরিজ নির্ণায়ক ম্যাচে সেরাও হলেন তিনি।প্লেয়ার অফ দ্য টুর্নামেন্টও হতে পারতেন।কিন্তু বোলিংয়ে অনবদ্য ভূমিকা পালন করায় টুর্নামেন্টের সেরা হলেন কেকেআরের ছেলে বরুন চক্রবর্ত্তী।
সামনেই টি-২০ বিশ্বকাপ। তার আগে এই সিরিজ জয় আত্মবিশ্বাস বাড়াবে গতবারের বিশ্বজয়ীদের। এদিন দক্ষিণ আফ্রিকার বিরুদ্ধে সিরিজের পঞ্চম তথা সিরিজ নির্ণায়ক টি-২০ ম্যাচে সূর্যকুমার যাদবরা জিতলেন ৩০ রানে। একইসঙ্গে সিরিজ ৩-১ ব্যবধানে পকেটে পুরল ভারত। লখনউয়ে চতুর্থ ম্যাচ কুয়াশায় ভেস্তে না গেলে আরও একপেশে দেখাতেই পারত ফলাফল। টেস্টে হোয়াইটওয়াশের লজ্জা কিছুটা ঢাকা পড়ল সাদা বলের ঘরানায় জোড়া সিরিজ জয়ে।
ব্যাট হাতে এদিন দাপট দেখালেন তিলক ভার্মা, হার্দিক পান্ডিয়ারা। মাত্র ৪২ বলে ৭৩ করলেন বাঁ-হাতি হায়দরাবাদি। আর বরোদার অলরাউন্ডার ব্যাটে-বলে রাখলেন ছাপ। ২৫ বলে ধুন্ধুমার ৬৩ রানের পর বল হাতেও নিলেন উইকেট। তাঁদের গড়ে দেওয়া মঞ্চে বল হাতে ভেল্কি দেখালেন বরুণ চক্রবর্তী। মিস্ট্রি স্পিনার একাই নিলেন ৪টি উইকেট।
ভারতের স্কোর পাঁচ উইকেটে ২৩১ রানে পৌঁছনোর নেপথ্যে হার্দিকই নায়ক। পয়লা বল থেকেই বেপরোয়া আগ্রাসন তাঁর সঙ্গী। চাবুক মারার ভঙ্গিতেই বিপক্ষকে শাসন করলেন। একসময় তো স্ট্রাইক রেট চারশোরও উপরে ছিল। মনে হচ্ছিল এই ফরম্যাটে যুবরাজ সিংয়ের ১২ বলে পঞ্চাশের রেকর্ড ভাঙতে যাচ্ছে। যদিও তা হয়নি। হার্দিকের হাফ-সেঞ্চুরি আসে ১৬ বলে। ২৫২ স্ট্রাইকরেটে ৬৩ করেন তিনি। তাঁর ইনিংসে রয়েছে পাঁচটি ছক্কা ও পাঁচটি চার। ভালো বলেও অনায়াসে চোখধাঁধানো শটের প্রদর্শনী মেলে ধরেন তিনি, যা হয়ে উঠল উচ্চাঙ্গের। হার্দিকের পার্শ্বনায়কের ভূমিকায় থাকা তিলকের গলায় মুগ্ধতা, ‘হার্দিক ভাইয়ের ব্যাটিং দেখতে ভালো লাগে। ও সব সময় জুনিয়রদের উৎসাহ দেয়। তাই আমার ব্যাট করতে আসুবিধা হয়নি। আমরা টার্গেট করে রান করছিলাম। তাতে সাফল্য পাওয়ায় ভালো লাগছে।’ দায়িত্বশীল ইনিংসে দশটি চার ও একটি ছক্কা হাঁকালেন বাঁহাতি ব্যাটসম্যান। চোটের জন্য শুভমান গিল এদিন খেলেননি। সুযোগ কাজে লাগান সঞ্জু স্যামসন। ওপেন করতে নেমে ২২ বলে ৩৭ করেন তিনি। অভিষেক শর্মাও ছিলেন চেনা মেজাজে। তাঁর ৩৪ আসে ২১ বলে। তবে যথারীতি হতাশ করলেন ক্যাপ্টেন সূর্যকুমার যাদব। ‘স্কাই’ ফিরলেন ৫ রানে। এই বছরটা কোনও পঞ্চাশ ছাড়াই কাটল তাঁর।
২৩২ রান তাড়া করতে নেমে প্রোটিয়াদের শুরুটা ঝড়ের গতিতেই হয়েছিল। কুইন্টন ডি’ককই জ্বালিয়ে রেখেছিলেন আশার প্রদীপ। দশ ওভারের শেষে এক উইকেটে ওঠে ১১৮। কিন্তু বিরতির ঠিক পরেই যশপ্রীত বুমরাহ ফেরান ডি’কককে (৬৫)। পরের ওভারেই হার্দিকের শিকার হন ডিওয়াল্ড ব্রেভিস (৩১)। এরপর বরুণ চক্রবর্তী হয়ে ওঠেন বিধ্বংসী। তাঁর দুরন্ত ছন্দেই শেষ পর্যন্ত দক্ষিণ আফ্রিকা থামে ৮ উইকেটে ২০১ রানে।
তবে সিরিজ জয়ের মাঝেও চিন্তার নাম থেকে গেল- সূর্যকুমার যাদব।আর কবে তিনি রান করবেন!








