সিরিজ নির্ধারক ম্যাচে আজও ভরসার নাম কোহলি, চিন্তার নাম বোলিং
নিজস্ব সংবাদদাতা, নতুন পয়গামঃ
কয়েকবছর আগে কোনো সাক্ষাৎকারে বর্তমান ভারতীয় কোচ গম্ভীরকে প্রশ্ন করা হয়েছিল- এখন কাকে অবসরে যাওয়া উচিত?
গম্ভীর বলেছিলেন- বিরাট কোহলিকে।
অথচ কালের নিয়মে গম্ভীর এখন কোচ আর সেই অবসরে যেতে বলা কোহলিই এখন তাঁর চাকরি বাঁচাতে মূল ভূমিকায় অবতীর্ণ হতে পারেন!পরপর দু’ম্যাচেই সেঞ্চুরি করে দলকে রানের পাহাড়ে দাঁড় করিয়েছেন।আজও তাঁর দিকে তাকিয়ে গোটা ভারতবর্ষ।
বিরাট কোহলির দুরন্ত ফর্ম ভারতীয় ব্যাটিংকে অক্সিজেন জোগাচ্ছে চলতি সিরিজে।
একই সঙ্গে চিন্তায় ফেলেছে দক্ষিণ আফ্রিকাকেও। পর পর দুই ম্যাচে সেঞ্চুরি হাঁকিয়েছেন ভিকে। এবার হ্যাটট্রিকের পালা। সেই আশায় শনিবার গ্যালারিতে ভিড় করবেন ক্রিকেটপ্রেমীরা। বিরাটকে ঘিরে আবেগের বিস্ফোরণ বিশাখাপত্তনমেও। ভারতীয় ব্যাটিংয়ের অনেক খামতি ঢাকা পড়ছে কোহলি বড় রান করায়। কিন্তু যশস্বী জয়সওয়াল দুই ম্যাচেই ব্যর্থ। বাঁ হাতি ওপেনারকে নিয়ে কোচ গম্ভীরের চিন্তা বাড়ছে। রোহিত শর্মাও ধারাবাহিক নন। শুরুতে তাই অতিরিক্ত চাপ নিতে হচ্ছে কোহলিকে। গত ম্যাচে অবশ্য ঋতুরাজ গায়কোয়াড় দুর্দান্ত সেঞ্চুরি উপহার দিয়েছিলেন। তাঁর আত্মবিশ্বাসও তুঙ্গে। শুভমান গিলের অভাব ঢেকে দিতে সফল ক্যাপ্টেন লোকেশ রাহুলও। গত দুই ম্যাচেই রবীন্দ্র জাদেজার আগে ব্যাট করেছেন ওয়াশিংটন সুন্দর। টিম ম্যানেজমেন্টের এই সিদ্ধান্ত নিয়ে উঠছে প্রশ্ন। অনেকে বলছেন, সুন্দরকে বসিয়ে তিলক ভার্মাকে খেলানো উচিত। এর ফলে মিডল অর্ডার শক্তিশালী হবে। কিন্তু অন্য সমস্যাও কম নেই। এমনিতেই ভারতীয় পেসারদের পারফরম্যান্স খুবই হতাশাজনক। হর্ষিত রানা, প্রসিদ্ধ কৃষ্ণাদের বসিয়ে অন্য কাউকে যে নামানো হবে, সেই সুযোগও কম। বিকল্প বলতে শুধু নীতীশ রেড্ডি। যাঁর উপরও ভরসা রাখা বেশ ঝুঁকিপূর্ণ। সেক্ষেত্রে অর্শদীপের উপর আরও চাপ পড়ে যাবে।
গত ম্যাচে ভারতের হারের অন্যতম কারণ ছিল পরে ফিল্ডিং করা। আসলে ওয়ান ডে ফরম্যাটে টিম ইন্ডিয়া টানা ২০বার টস হেরেছে। সেই সুযোগটাই কাজে লাগাচ্ছে দক্ষিণ আফ্রিকাও। প্রচুর শিশির পড়ায় পরের দিকে বল নরম হয়ে যাচ্ছে দ্রুত। গ্রিপ করতেও সমস্যায় পড়ছেন স্পিনাররা। কুলদীপ যাদব, জাড্ডুদের তাই অনায়াসে খেলছে প্রোটিয়ারা। বড় রানও অনায়াসেই চেজ করছে সফরকারী দল। সেই কারণেই বিশাখাপত্তনমে সিরিজের নির্ণায়ক ম্যাচেও টস যারা জিতবে, তারাই বাড়তি সুবিধা পাবে।
চলতি সফরে দক্ষিণ আফ্রিকার পারফরম্যান্স রীতিমতো প্রশংসনীয়। কৃতিত্ব দিতে হবে ক্যাপ্টেন তেম্বা বাভুমাকে। গত ম্যাচে ওপেনার মার্করামের সঙ্গে বড় রানের জুটিতেই তিনি গড়ে দিয়েছিলেন জয়ের ভিত। কুইন্টন ডি’কক অবশ্য ছন্দে নেই। প্রোটিয়া বাহিনীর মিডল অর্ডারে রয়েছে একাধিক মারকুটে ব্যাটার। ম্যাথু ব্রিটজকে, ডেওয়াল্ড ব্রেভিস, টনি ডি জর্জিরা একক দক্ষতায় ম্যাচের মোড় ঘোরাতে পারেন। অলরাউন্ডার মার্কো জানসেন, করবিন বশও কম যান না। তাঁরাও ম্যাচ উইনার। তবে দক্ষিণ আফ্রিকার বোলিং আহামরি নয়।
কিন্তু রায়পুরে ভারতেরও বিশ্রী বোলিং ও ফিল্ডিংয়ের কারণে ৩৫৮ রানও ডিফেন্ড করা সম্ভব হয়নি। তাই ভুলত্রুটি শুধরে আজ বিশাখপত্তনমে সিরিজের নির্ণায়ক ম্যাচে ঝাঁপিয়ে পড়তে হবে টিম ইন্ডিয়াকে। ধবল-ধোলাই না হোক, সিরিজ জেতার সুযোগ তো রয়েছে।
আজ ভারত বনাম দক্ষিণ আফ্রিকা।
তৃতীয় ওয়ানডে।
ম্যাচ শুরু দুপুর ১-৩০ মিনিটে।
স্টার স্পোর্টসে সরাসরি সম্প্রচার।








