ইমিউন সিস্টেম নোবেল এনে দিল ত্রয়ীকে
নতুন পয়গাম, স্টকহোম:
ইমিউন সিস্টেম বা রোগ প্রতিরোধক ব্যবস্থা কীভাবে আমাদের শরীরে কাজ করে? গুড ব্যাকটেরিয়া ও ব্যাড ব্যাকটেরিয়া কী? এবং কীভাবে এরা মানবদেহের ভিতরে ভাল-মন্দ কাজ করে? ইত্যাদি বিষয়ে গবেষণা করে চিকিৎসা বিজ্ঞানে নোবেল পেলেন ৩ জন। তাঁরা হলেন মার্কিন বিজ্ঞানী মেরি ব্রাঙ্কো, ফ্রেড রামসডেল ও জাপানের বিজ্ঞানী শিমন সাকাগুচি। সোমবার নেদারল্যান্ডসের রাজধানী স্টকহোম থেকে নোবেল কমিটি এই তিনজন কিংবদন্তি গবেষক তথা বিজ্ঞানীর নাম ঘোষণা করে।
রোগ প্রতিরোধ ব্যবস্থা বা ইমিউন সিস্টেম সাধারণত বাইরের আক্রমণকারী ভাইরাস ও ব্যাকটেরিয়া থেকে শরীরকে রক্ষা করে। কিন্তু কখনো কখনো ভুলবশত এটি আক্রমণকারীকে প্রতিরোধের বদলে শরীরের নিজস্ব কোষ বা অঙ্গকে আক্রমণ করে। অনেকটা কম্পিউটারের ম্যালফাংশন বা ত্রুটির মতো। মানবদেহে এটি ঘটলে তা অনেক সময় মৃত্যুর কারণ হয়। এই ত্রুটিকে যে নিয়ন্ত্রণ করা সম্ভব, সেটিই গবেষণার মাধ্যমে দেখিয়েছেন নোবেলজয়ী তিন বিজ্ঞানী।
গবেষকদের মূল কাজ ছিল টি-সেল, যা সাদা রক্তকোষের একটি প্রকার, সেই সম্পর্কে আরও ভালো বোঝাপড়া করা। এই টি-সেল শরীরের রোগ প্রতিরোধ ব্যবস্থার গুরুত্বপূর্ণ কোষ। এটি সংক্রমণের বিরুদ্ধে লড়াই করে। তাঁরা যে কোষগুলো আবিষ্কার করেছেন, সেগুলোকে বলা হচ্ছে ‘রেগুলেটরি টি-সেল’ বা নিয়ন্ত্রক টি-সেল। জীবাণুকে আক্রমণ করতে গিয়ে শরীরের নিজস্ব কোষ বা অঙ্গের যাতে ক্ষতি না হয়, নিয়ন্ত্রক টি-সেল সেটি নিশ্চিত করে।
দেহের রোগ প্রতিরোধ ব্যবস্থা নিজস্ব অঙ্গ বা কোষকে আক্রমণ করলে দেখা দেয় অটোইমিউন রোগ। ন্যাশনাল ইনস্টিটিউট অব এনভায়রনমেন্টাল হেলথ সায়েন্সেস ‘এনআইএইচ’ বলছে, বিজ্ঞানী ত্রয়ী ৮০ ধরনের অটোইমিউন রোগ শনাক্ত করেছেন। যেমন টাইপ-১ ডায়াবেটিস। এই রোগগুলোর অধিকাংশের কোনও নিরাময় নেই। এবং কিছু ক্ষেত্রে উপসর্গ প্রশমনের জন্য আজীবন চিকিৎসার দরকার হয়। নোবেল কর্তৃপক্ষ বলছে, বিজ্ঞানীদের এই অবিষ্কার ক্যানসার ও অটোইমিউন রোগের চিকিৎসা গবেষণায় অনন্য অবদান রেখেছে। এটি অঙ্গ-প্রত্যঙ্গ প্রতিস্থাপনের ক্ষেত্রেও সাহায্য করতে পারে।
তিন বিজ্ঞানীয় গবেষণা নিয়ে এক নিবন্ধ প্রকাশ করা হয়েছে দ্য নোবেল প্রাইজের ওয়েবসাইটে। সেখানে বলা হয়েছে, মানবদেহে রোগ প্রতিরোধ ব্যবস্থা যেভাবে প্যাথোজেন বা ব্যাকটেরিয়া, ভাইরাসের মতো অণুজীবকে শনাক্ত করে সেটি এক বিস্ময়কর ব্যাপার। এই অণুজীব বা সংক্রামকগুলো ভিন্ন ভিন্ন আকারের হয়। তবে অনেক ক্ষেত্রেই এগুলোর মিল থাকে মানবদেহের কোষের সঙ্গে। তাই এখানে একটি প্রশ্ন ওঠে, ইমিউন সিস্টেম কীভাবে ঠিক করে কোন অণুজীবকে আক্রমণ করতে হবে এবং কোনটিকে রক্ষা করতে হবে?
এটির উত্তর খুঁজে বের করেছেন নোবেল বিজয়ীরা। তারা ইমিউন সিস্টেমের ‘নিরাপত্তা প্রহরী’ হিসেবে রেগুলেটরি টি-সেল শনাক্ত করেছেন। এই টি-সেল দেহের প্রতিরক্ষায় অপরিহার্য খেলোয়াড়।








