পিটিয়ে হত্যায় খুনের ধারা বাতিল কীভাবে? রাষ্ট্রপতিকে চিঠি সিপিএমন নেত্রী বৃন্দা কারাতের
নতুন পয়গাম, নয়াদিল্লি:
বাড়ির ফ্রিজে গোমাংস রাখা আছে, এই অভিযোগে ২০১৫ সালের সেপ্টেম্বরে উত্তরপ্রদেশে পিটিয়ে হত্যা করা হয়েছিল মহম্মদ আখলাককে। বাবার খুনিদের চিহ্নিত করে আদালতের দ্বারস্থ হন মেয়ে। প্রমাণও দেন নিহতের কন্যা। তা সত্ত্বেও খুনের ধারা তুলে নিতে নির্দেশ দেন রাজ্যপাল। উত্তরপ্রদেশের রাজ্যপালের এমন নির্দেশ দেশজুড়ে চলা মব লিঞ্চিং বা পিটিয়ে হত্যার সব মামলার ওপর প্রভাব পড়বে। একথা জানিয়ে রাষ্ট্রপতি শ্রীমতী দ্রৌপদী মূর্মুকে চিঠি দিলেন সিপিএম নেত্রী বৃন্দা কারাত। রাষ্ট্রপতির হস্তক্ষেপ কামনা করে চিঠিতে শ্রীমতী কারাত লিখেছেন, রাজ্যপালকে নিয়োগ করেন রাষ্ট্রপতি। তাই রাজ্যপালরা তাদের কাজের জন্য রাষ্ট্রপতির কাছে জবাবদিহী করতে বাধ্য। অতএব আপনি উত্তরপ্রদেশের রাজ্যপালকে এই পদক্ষেপ বাতিল করতে বলুন।
দশ বছর আগে গোরক্ষক বাহিনী আখলাকের বাড়ি ঘিরে তাকে পিটিয়ে হত্যা করেছিল গৌতম বুদ্ধ নগরে। সেই পাশবিক হত্যাকাণ্ড নিয়ে সারা দেশ তোলপাড় হয়েছিল। বিজেপির রাজ্য সরকারের টালবাহানায় বিচার শুরু হয় ৭ বছর পর ২০২২ সালে। সাক্ষ্য দেন নিহতের কন্যা। এই অবস্থায় উত্তর প্রদেশের যোগী আদিত্যনাথ সরকার অভিযুক্তদের ওপর মামলা তুলে নেওয়ার অনুমতি চান রাজ্যপালের কাছে। রাজ্যপাল তা অনুমোদনও করেছেন।
বৃন্দা কারাত রাষ্ট্রপতিকে লিখেছেন, ‘‘আক্রান্ত পরিবারের সঙ্গে দীর্ঘ যোগাযোগের কারণে আমি জানি যে কী ভয়ঙ্কর যন্ত্রণার মধ্যে তাঁদের যেতে হচ্ছে। ন্যায় বিচারের জন্য তারা কীভাবে চ্যালেঞ্জ ও হুমকি মোকাবিলা করে এগোচ্ছেন।’’ ওই ঘটনায় বাধা দিতে গেলে নিহত আখলাকের পরিবারের সদস্যরা আহত হয়েছিলেন। তাঁরা এখনও সম্পূর্ণ সুস্থ হননি। এমতাবস্থায় রাজ্যপালের এই পদক্ষেপ সম্পূর্ণ বিচার প্রক্রিয়াকে বানচাল করে দেবে। শ্রীমতী কারাত এও লিখেছেন, মানুষকে বেঁধে পিটিয়ে হত্যা, খুনের মতো ধারা তুলে নেওয়ার পিছনে রাজনৈতিক উদ্দেশ্য কাজ করছে। প্রকাশ্যে গণপিটুনিতে হত্যার অভিযোগ তুলে নিলে বিচারের আর কী বাকি থাকে?








