হিন্দি প্রসঙ্গে সুর নরম শাহের
নতুন পয়গাম, নয়াদিল্লি, ১৪ সেপ্টেম্বর: এতদিন হিন্দির ভাষিক আগ্রাসন নিয়ে বিরোধীরা কেন্দ্র সরকারকে কাঠগড়ায় তুলছিল। কেন্দ্রীয় স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী অমিত শাহ একাধিকবার দেশজুড়ে হিন্দি ভাষা চাপানোর পক্ষে পরোক্ষে জোরালো সওয়াল করেছেন। যার বিরুদ্ধে পশ্চিম বাংলা এবং বিশেষ করে অহিন্দিভাষী দক্ষিণী রাজ্যগুলো বারেবারে সোচ্চার হয়েছে। কিন্তু কয়েকটি রাজ্যের বিধানসভা নির্বাচনের কথা মাথায় রেখে আপাতত হিন্দি নিয়ে পিছু হটলেন অমিত শাহ। বিরোধীরা বলছেন, অমিত শাহের এই বক্তব্য কৌশলে সুর নরম করা।
সামনেই বিহারে বিধানসভা নির্বাচন। তারপর রয়েছে বাংলা এবং তামিলনাড়ূতে ভোট। এই আবহে হিন্দি নিয়ে কিছুটা সুর নরম করলেন আমিত শাহ। শনিবার হিন্দি ভাষা দিবসের অনুষ্ঠানে কেন্দ্রীয় স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী বলেন, হিন্দিকে ভারতের অন্যান্য ভাষার বিরোধী হিসেবে না দেখে, সঙ্গী হিসেবে বিবেচনা করতে হবে। ভাষাকে দেশ গঠনের সহযোগী হিসেবে দেখতে হবে। হিন্দি একটি ভাষা, যা অন্যান্য ভারতীয় ভাষাগুলির বন্ধু। এদের মধ্যে কোনও বিরোধ নেই।
এদিন অমিত শাহের এই বক্তব্য তাৎপর্যপূর্ণ বলে মনে করছে রাজনৈতিক মহল। সম্প্রতি বিজেপি শাসিত রাজ্যগুলিতে বাংলা ভাষায় কথা বলার অপরাধে বাঙালিদের উপর নেমে এসেছে নির্যাতন, অত্যাচার, মারধর, বিতাড়ন এমনকী পুলিশি গ্রেফতার ও পুশব্যাকের অভিযোগ উঠেছে। এই পরিস্থিতিতে অমিত শাহের এদিনের নরম সুরে বক্তব্যকে বিশেষ করে পশ্চিম বাংলা ও তামিলনাডুর আসন্ন বিধানসভা নির্বাচনকে মাথায় রেখেই বলে মনে করছেন রাজনৈতিক পর্যবেক্ষক মহল।
ইতিহাস তুলে ধরে এদিন শাহ বলেন, ব্রিটিশ শাসনের সময় ভাষাই ছিল প্রতিবাদ প্রতিরোধের হাতিয়ার। বন্দে মাতরম এবং জয় হিন্দ-এর মতো স্লোগান এই ভাষাগত চেতনা থেকেই উঠে এসেছিল এবং ধীরে ধীরে সেগুলো জাতীয় প্রতীক হয়ে ওঠে।
গুজরাটের প্রসঙ্গ টেনে শাহ বলেন, হিন্দিভাষী না হয়েও স্বতন্ত্রতা বজায় রেখেও গুজরাটিরা মাতৃভাষার পাশাপাশি হিন্দি ভাষাকেও সাদরে গ্রহণ করেছে। যদিও তাদের ভাষা হল গুজরাটি। এও বলেন, শুরু থেকেই দয়ানন্দ সরস্বতী, মহাত্মা গান্ধী, সর্দার বল্লভভাই প্যাটেল এবং কেএম মুন্সির মতো নেতারা হিন্দিকে গ্রহণ করেছেন এবং প্রচার করেছেন। তাঁর কথায়, ভারত একটি বহু ভাষা চালিত দেশ, যেখানে বিভিন্ন ভাষা তার নিজ নিজ সংস্কৃতি এবং ইতিহাসকে রূপ দিয়েছে। অসমের বিহু থেকে বিহারের বিদ্যাপতির পদ, বাংলার বাউল স্তোত্র এবং উত্তর-পূর্বে ভূপেন হাজারিকার গান, ভারতীয় ভাষাগুলি আমাদের সাংস্কৃতিক পরিকাঠামোকে প্রাণবন্ত রেখেছে।








