‘বজ্র আঁটুনি, ফস্কা গেরো’-মেসি-সফরে মুখ পুড়লো কলকাতা’র
এম.রহমান, নতুন পয়গাম, কলকাতাঃ
৫ হাজার থেকে শুরু করে প্রায় ১ লক্ষ টাকার টিকিট কেটে সমর্থকরা যুবভারতীতে গিয়েছিলেন একঝলক মেসিকে দেখার জন্য।কিন্তু শতদ্রু’র প্রোগ্রামে শতহাত দূর থেকেও হল না মেসি-দর্শন।
ডিসেম্বরের শীত উপেক্ষা করে কাকভোরে এসে কলকাতায় ভিড় জমিয়েছিলেন মেসি-ভক্তরা।
একটাই কারণ, এলএম১০-কে একটিবার চোখে দেখা। কিন্তু ভিআইপিদের ভিড়ে মেসিকে সেভাবে দেখতে পেলেন না ভক্তরা! তাই রাগে-ক্ষোভে-দুঃখে মাঠে বোতল ছুঁড়লেন,চেয়ার ভাঙলেন,গোলপোস্টের জাল ছিড়লেন,এমনকি ফুলের টবও নিয়ে চলে আসলেন কেউ কেউ।
এদিন মাত্র ১৮ মিনিট মেসি মাঠে থাকেন। তারপর সল্টলেক স্টেডিয়াম থেকে বেরিয়ে যান। যতটুকু সময় মেসি যুবভারতীতে ছিলেন, তখন তাঁকে নিরাপত্তারক্ষীরা এমনভাবে ঘিরে রেখেছিলেন, গ্যালারি থেকে দর্শকরা এক পলকের জন্যেও তাঁদের রাজপুত্রকে সেভাবে দেখার সুযোগ পাননি। এদিকে নিরাপত্তারক্ষীদেরও মেসিকে নিয়ে সেলফি তোলার হিড়িক ছিল। এরপরই মাঠে চরম বিশৃঙ্খলা তৈরি হয়। ১১.৫২ মিনিটে মেসিকে বার করে নিয়ে যাওয়া হয়। তখনও পর্যন্ত মাঠে এসে পৌঁছননি মুখ্যমন্ত্রী মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়, শাহরুখ খান বা সৌরভ গঙ্গোপাধ্যায়।
আর্জেন্তিনার তারকা মাঠ থেকে বেরিয়ে যেতেই পরিস্থিতি উত্তপ্ত হয়ে ওঠে। এক সময় মাঠের ধারে ফেন্সিংয়ের গেট ভেঙে হু-হু করে লোক ঢুকতে শুরু করে। সব মিলিয়ে যুবভারতী রণক্ষেত্রের চেহারা নেয়। মাঠের দখল নিয়ে নেয় কয়েক হাজার লোক। মাঠে ঢুকে কেউ ডিগবাজি খেয়েছেন, কেউ নিজস্বী তুলেছেন, কেউ আবার লাফিয়েছেন। বলা ভালো, যুবভারতীর মাঠে যে যা খুশি করেছেন। অনেকের বক্তব্য, ফাঁকা মাঠে কয়েক জন নিরাপত্তারক্ষীকে দিয়ে মেসিকে মাঠের চার দিকে মিনিট পাঁচেক ঘোরালেই সকলে তাঁকে ভালো করে দেখতে পেতেন। কিন্তু তেমন কোনও ব্যবস্থাই করা হয়নি।
লিওনেল মেসিকে এক ঝলক দেখার আশায় ভরা যুবভারতী ক্রীড়াঙ্গণ শেষ পর্যন্ত রণক্ষেত্রের চেহারা নেয়। প্রত্যাশামতো মেসিকে স্পষ্টভাবে দেখতে না পেয়ে ক্ষুব্ধ হয়ে ওঠেন দর্শকরা।
এখন প্রশ্ন হল-
এর দায় কে নেবে?
মেসির সামনে কলকাতার ভাবমূর্তি কি দাঁড়ালো?
শতদ্রুকে গ্রেপ্তার করা হয়েছে বটে,কিন্তু ক্রীড়ামন্ত্রী বা প্রশাসন কি দায় এড়াতে পারেন?
কালের নিয়মে এই অরাজকতা সবাই ভুলে যাবে,বিচার কি আর হবে!








