“জয় শ্রী রাম” না বলায় ফেরিওয়ালাকে হেনস্থা
রহমতুল্লাহ, নতুন পয়গাম:
ভিন রাজ্যে নয়, এরাজ্যেই একের পর এক এই ধরনের ঘটনা নিত্যদিন ঘটে চলেছে। উগ্র গেরুয়া বাহিনীর বাড়বাড়ন্ত যেন থামছেই না। রাজ্য প্রশাননের পক্ষ থেকে যে ব্যবস্থা নেওয়া হচ্ছে না, তা নয়। অভিযুক্তকে গ্রেফতার করা হচ্ছে। তারপরও দিন দিন ধর্মীয় অসহিষ্ণুতা কমার লক্ষণ নেই। মুখে দাড়ি দেখলেই তাকে টার্গেট করা হচ্ছে। জয় শ্রীরাম বলার জন্য জোর করা হচ্ছে। বিগত কয়েক বছর ধরে বিজেপি শাসিত রাজ্য গুলোতে এ ধরনের ঘটনা ঘটতে দেখা গেছে। কখনও জয় শ্রীরাম বলতে অস্বিকার করায় লিঞ্চিন করা হয়েছে, আবার কখনও গো রক্ষার নামে মুসলিমদের পেটানো হয়েছে। বর্ধমান, মেদিনিপুরে পর এবার হুগলি জেলার হরিপাল থানার ইলাহিপুর এলাকায় এক মুসলিম ফেরিওয়ালাকে হেনস্থা করা হয়েছে। পুলিশ সূত্রে জানা গেছে, বুধবার জামাকাপড় ফেরি করতে গিয়ে মুর্শিদাবাদের সাগরদিঘীর বালিয়ার উলাডাঙ্গার বাসিন্দা সাকিরুল ইসলাম হেনস্থার শিকার হন। অভিযোগের ভিত্তিতে অভিযুক্ত তপন মালিককে গ্রেফতার করেছে হরিপাল থানার পুলিশ।
অভিযোগ, রাস্তায় সাকিরুলকে দাঁড় করিয়ে আধার কার্ড দেখতে চাওয়া হয়। তিনি রাজি না হলে তাঁকে “জয় শ্রী রাম” বলার জন্য জোর করা হয়। সাকিরুল অস্বীকার করলে তাঁকে মারধর করা হয়। পরে স্থানীয়রা জড়ো হলে অভিযুক্ত পালিয়ে যায়।
ঘটনার প্রতিবাদে ক্ষুব্ধ গ্রামবাসীরা পথ অবরোধ করে বিক্ষোভ দেখান। খবর পেয়ে পুলিশ গিয়ে পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে আনে। পরে সাকিরুল লিখিত অভিযোগ দায়ের করলে পুলিশ তপন মালিককে গ্রেফতার করে এবং বৃহস্পতিবার তাঁকে চন্দননগর আদালতে তোলে।
সাকিরুল জানান, ছোটবেলা থেকেই বাবার সঙ্গে ফেরির কাজ করছেন তিনি, তবে এ ধরনের ঘটনার সম্মুখীন আগে কখনও হননি। একের পর এক এই ধরনের ঘটনা মুসলিম ফেরিওয়ালা, ব্যবসায়ী, ও পরিযায়ী শ্রমিকদের মধ্যে ভীতির সঞ্চার ঘটছে।
এদিকে সাগরদিঘীতে সাকিরুলের পরিবারের সঙ্গে দেখা করেন সোশ্যাল ডেমোক্রেটিক পার্টি অফ ইন্ডিয়ার ব্লক সভাপতি মো. রুহুল আমিন। তাদের আক্ষেপ, রাজ্যে এখনও বিজেপি আসেনি, তৃণমূলের আমলেই এই দিন দেখতে হচ্ছে!







