কলকাতার ‘উদিতা’ আবাসনে জলাবদ্ধতা: হাই-ইনকাম গ্রুপও বিপর্যস্ত
নতুন পয়গাম কলকাতা, ২৪ সেপ্টেম্বরঃ
কলকাতার দক্ষিণ শহরতলির এম ই এম বাইপাস সংলগ্ন ‘উদিতা’ আবাসনের বাসিন্দারা মঙ্গলবার থেকে পানীয় জল, গৃহস্থালির জল ও বিদ্যুৎহীনতার ভোগান্তিতে অতিষ্ঠ। আবাসনের চৌহদ্দিতে জল অন্তত কোমর সমান উচ্চতায় পৌঁছে গেছে। বহু বহুতলের ফ্ল্যাটে বাসিন্দারা জলের কারণে পুরোপুরি অবরুদ্ধ।
মিটারের ঘরগুলো কম উচ্চতায় হওয়ায় দুর্ঘটনার আশঙ্কা দেখা দিয়েছে। এই পরিস্থিতিতে সিইএসসি মঙ্গলবার সকাল থেকেই সেখানে বিদ্যুৎ সরবরাহ বন্ধ করে দেয়। তবে উচ্চ আয়ের গ্রুপের বাসিন্দাদের জন্য থাকা গ্রিন জেনারেটরও জলের নীচে তলিয়ে গেছে। উদিতার একটি আটতলার ফ্ল্যাটে থাকা প্রৌঢ় কলেজ শিক্ষিকা মোবাইলে হতাশা প্রকাশ করে বলেছিলেন, ‘এত দাম দিয়ে এখানে ফ্ল্যাট কিনে কী লাভ?’ তিনি ডায়াবিটিসের রোগী এবং নিয়মিত ইনসুলিন নিতে হয়। লিফ্টও বন্ধ, ছেলে-মেয়ে প্রবাসে।
বিদ্যুৎ না থাকায় তিনি রেফ্রিজারেটর খুলে রাখেন যাতে ইনসুলিন এবং খাবার সংরক্ষিত থাকে। পরে তাঁর সহকর্মী মোটা টাকা দিয়ে ভ্যানরিকশায় ভিজে থাকা রাস্তায় ফ্ল্যাটে পৌঁছে পানীয় জল এবং খাবার পৌঁছে দেন। একইভাবে আবাসনের অন্যান্য বাসিন্দারাও মানবিক সহায়তা পাচ্ছেন।
এ দিন সকালেই আবাসনের পক্ষ থেকে সামাজিক মাধ্যমে সাহায্যের আবেদন জানানো হয়। আবাসনের বাসিন্দাদের অন্তত ৬০ শতাংশ প্রবীণ, অনেকেই অক্সিজেন সাপোর্টে। তারা উল্লেখ করেছেন, ‘২৬ ঘণ্টার বেশি হয়ে গেল, আমাদের আবাসনে বিদ্যুৎ নেই। সরকার বা কলকাতা পুরসভা থেকে কোনও সহায়তা পাইনি।’
পাশাপাশি, সার্ভে পার্কে থাকা এমআইজি ও এলআইজি আবাসনেও জলাবদ্ধতার সমস্যা দেখা দিয়েছে। স্থানীয় যুবকরা দুধ, পাউরুটি, মুড়ি, আলু ও পেঁয়াজ নিয়ে সহকর্মীদের ফ্ল্যাটে পৌঁছেছেন। জলবদ্ধতা এত বেশি যে আবাসনের ফটকের বাইরে রিকশার এক-তৃতীয়াংশ ডুবে গিয়েছে।
কলকাতার ১০৯ নম্বর ওয়ার্ডের কাউন্সিলার অনন্যা বন্দ্যোপাধ্যায় জানিয়েছেন, চারটি পাম্প চালানো সত্ত্বেও উল্লেখযোগ্য উন্নতি হয়নি। খালের পানি উপচে আবাসনে প্রবেশ করছে, ফলে পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে আনার জন্য সময় লাগবে। তিনি বলেন, ‘জমা জল তো আর হেলিকপ্টারে তুলে নেওয়া সম্ভব নয়। পাম্প করে জল খালেই ফিরছে, কিন্তু খাল উপচে গেছে। তাই আবাসনে জল সরতে সময় লাগছে।’
মেঘভাঙা বৃষ্টির কারণে উদিতার এই অবরুদ্ধ পরিস্থিতি এমআইজি, এলআইজি এবং এইচআইজি—সব স্তরের আবাসনে একই রকম ভোগান্তি সৃষ্টি করেছে। জলাবদ্ধতা ও বিদ্যুৎহীনতার কারণে স্থানীয় বাসিন্দাদের দৈনন্দিন জীবন কার্যত বিপর্যস্ত।








