পরীক্ষার পর প্রথম শ্রেণির ছাত্রীকে মারধর! বানারহাটে চাঞ্চল্য
প্রীতিময় সরখেল, নতুন পয়গাম, ধূপগুড়ি:
মাত্র সাত বছরের এক প্রথম শ্রেণির ছাত্রীকে পরীক্ষার পর বেধড়ক মারধরের অভিযোগে চাঞ্চল্য ছড়িয়েছে ধূপগুড়ি মহকুমার বানারহাটে। অভিযুক্ত শিক্ষিকার বিরুদ্ধে ব্যবস্থা ও স্কুল কর্তৃপক্ষের ভূমিকার বিরুদ্ধে ক্ষোভে ফেটে পড়েছেন অভিভাবকরা। ইতিমধ্যে ঘটনাটি নিয়ে বানারহাট থানায় লিখিত অভিযোগ দায়ের করা হয়েছে।
ঘটনাটি ঘটে গত ১০ নভেম্বর দুপুরে, বানারহাটের একটি বেসরকারি ইংরেজি মাধ্যম বিদ্যালয় — ট্রিনিটি হাই স্কুলে। অভিযোগ, পরীক্ষার খাতা লেখায় দেরি হওয়ায় এক শিক্ষিকা রাগের মাথায় ওই ছাত্রীকে মারধর করেন। পরিবারের দাবি, ছাত্রীটির চোখের নিচে রক্ত জমে যায় এবং মাথা, পিঠ ও পায়ে স্পষ্ট আঘাতের দাগ দেখা যায়। ঘটনার পর থেকে আতঙ্কে স্কুলে ফিরতে চাইছে না শিশুটি।
ছাত্রীর বাবা জানান, “পরীক্ষার সময় যখন মেয়ের উত্তর লেখা বাকি ছিল, তখন শিক্ষিকা তাকে প্রচণ্ড মারধর করেন। স্কুল থেকে আমাদের কিছু জানানো হয়নি। মেয়েকে বাড়িতে আনার পর শরীরে চোটের দাগ দেখে আমরা হতবাক হয়ে যাই।” এরপরই তাঁরা শিশুটির চিকিৎসার ব্যবস্থা করেন এবং থানায় অভিযোগ দায়ের করেন।
অভিভাবক পরিবার জানিয়েছে, ঘটনাটি শুধুমাত্র থানায় নয়, চাইল্ড লাইন, পশ্চিমবঙ্গ শিশু অধিকার সুরক্ষা কমিশন এবং আইসিএসই বোর্ডের কাছেও লিখিতভাবে জানানো হয়েছে।
অভিযোগের বিষয়ে বিদ্যালয়ের কো-অর্ডিনেটর বিশ্বজিৎ সুব্বা জানান, “অভিযোগ পাওয়া মাত্রই সংশ্লিষ্ট শিক্ষিকাকে বরখাস্ত করা হয়েছে। বিদ্যালয় কোনওভাবেই শারীরিক শাস্তিকে সমর্থন করে না। শিশুটির চিকিৎসার সমস্ত খরচ বহন করতে আমরা প্রস্তুত এবং পরিবারের সঙ্গে যোগাযোগ রাখছি।”
এদিকে, জলপাইগুড়ির পুলিশ সুপার খান্ড বাহালে উমেশ গনপত জানান, “অভিযুক্ত শিক্ষিকাকে ইতিমধ্যেই স্কুল থেকে বরখাস্ত করা হয়েছে। ঘটনার বিষয়ে আইনি পদক্ষেপ নেওয়া হচ্ছে।”
এই ঘটনায় সমগ্র এলাকায় ক্ষোভ ছড়িয়েছে। স্থানীয়রা প্রশ্ন তুলেছেন, শিশুদের নিরাপত্তা ও মানসিক সুরক্ষার বিষয়ে স্কুল কর্তৃপক্ষ আরও দায়িত্বশীল হবে কবে?








