অগ্নিগর্ভ নেপালের কাণ্ডারী অগ্নি-কন্যা সুশীলা
নতুন পয়গাম, কাঠমান্ডু, ১২ সেপ্টেম্বর:
নেপালে অশান্তি কিছুতেই থামছিল না। দাঙ্গা, সহিংসতা, বিক্ষোভ, খণ্ডযুদ্ধ থেকে অবশেষে ৪ দিন পর শুক্রবার বেরিয়ে এল সমাধানসূত্র। অন্তর্বর্তী প্রধানমন্ত্রী পদে শপথ নিলেন নেপালের সুপ্রিম কোর্টে প্রাক্তন প্রধান বিচারপতি তথা হিমালয়-কন্যা সুশীলা কারকি। প্রধান বিচারপতির পাশাপাশি নেপালের প্রথম মহিলা প্রধানমন্ত্রী হিসেবেও রেকর্ড করলেন বেনারস হিন্দু বিশ্ববিদ্যালয়ের এই প্রাক্তনী। শুক্রবার রাত সাড়ে ৯টায় শপথ নিলেন ৭৩ বছর বয়সি সুশীলা। নবীন নয়, প্রবীণেই ভরসা রাখল নেপালিরা। রাষ্ট্রপতি রামচন্দ্র পোডেল তাঁকে শপথবাক্য পাঠ করান। তারপরেই মাঝরাতে অন্তর্বর্তী সরকারের মন্ত্রিসভার প্রথম বৈঠক হয়। সেখানে ঠিক হয়েছে হয়েছে, ৬ মাস পর নির্বাচন হবে নেপালে।
সোশ্যাল মিডিয়ায় নিষেধাজ্ঞার প্রতিবাদে কার্যত গণঅভ্যুত্থান দেখা দেয় নেপালে। দেশজুড়ে বিক্ষোভের আগুনে পুড়তে থাকে ছোট্ট পর্বতবেষ্ঠিত দেশটি। মঙ্গলবার প্রধানমন্ত্রী পদ থেকে ইস্তফা দিয়ে দেশ ছেড়ে পালিয়ে যান কেপি শর্মা ওলি। সোমবার থেকে ৪ দিনের অচলাবস্থার মধ্যেই চাঞ্চল্যকর অভিযোগ ওঠে, সেনাবাহিনীর মধ্যস্থতায় নেপালে ফের রাজতন্ত্র প্রতিষ্ঠার ষড়যন্ত্র চলছে বলে। সেই চক্রান্তকে নস্যাৎ করে ২০১৫ সালে চালু হওয়া সংবিধানের মূল স্পিরিট গণতন্ত্রেই আস্থা রাখল সবপক্ষ। ২০১৬ সালে নেপালের প্রধান বিচারপতি হন সুশীলা কারকি। তাঁকে ওই পদে নিয়োগের সুপারিশ করেছিল সদ্য ইস্তফা দেওয়া প্রধানমন্ত্রী কেপি শর্মা ওলি-র নেতৃত্বে সাংবিধানিক পরিষদ।
সুশীলার সংক্ষিপ্ত পরিচয়:
১৯৫২ সালের ৭ জুন ভারত সীমান্তের কাছেই শংকরপুর, অধুনা বিরাটনগরে জন্ম সুশীলা কারকির। সেখান থেকেই স্নাতক হন। রাষ্ট্রবিজ্ঞানে স্নাতকোত্তর পড়তে যান প্রতিবেশি দেশ ভারতের বেনারসে। পরে স্বদেশে ফিরে নেপালের ত্রিভুবন বিশ্ববিদ্যালয় থেকে আইন পাশ করে আইনজীবী থেকে সুপ্রিম কোর্টের প্রধান বিচারপতি হন। পেশাগত জীবনের দীর্ঘ পরিসরে কখনো আপস করেননি। ঘুষ নেওয়ার অপরাধে এক মন্ত্রীকে জেলেও পাঠিয়েছিলেন তিনি। সেই ‘অপরাধে’ ইমপিচমেন্টের মুখে পড়েও অবিচল ছিলেন। অন্যায়ের সঙ্গে সমঝোতা করেননি।
অশান্ত নেপাল কার হাত ধরে ঘুরে দাঁড়াবে সে নিয়ে আলোচনা চলছিলই। অন্তর্বতী সরকারের প্রধান হিসাবে প্রথমে কাঠমান্ডুর মেয়র বালেন্দ্র শাহের নাম উঠেছিল। কিন্তু তিনি সেই প্রস্তাবে সাড়া দেননি। এরপর প্রবীণ মহিলা বিচারপতি সুশীলা কারকির নাম ওঠে এবং সবচেয়ে বেশি সমর্থন পান তিনি। তারপর ভারতের প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদিকে ধন্যবাদ জানান কারকি। বলেন, ভারত বরাবর নেপালের পাশে থেকেছে। এবারও থাকবে বলে আশা রাখি।
তাঁৰ কথায়, আমাদের প্রথম লক্ষ্য হবে জেন-জি আন্দোলনে নিহত তরুণদের জন্য কিছু করা। তাঁদের পরিবারের পাশে দাঁড়ানো। জেন-জি নেপালের পরবর্তী প্রধানমন্ত্রী হিসেবে আমার নাম সুপারিশ করেছে। অন্তর্বর্তী সরকারের নেতৃত্ব দেওয়ার জন্য তাঁদের অনুরোধ আমি গ্রহণ করেছি। নেপালে অনেক আগে থেকেই সমস্যা ছিল। এখন পরিস্থিতি আরও কঠিন। দেশের উন্নয়নের জন্য সবাই এক সঙ্গে হাতে হাত মিলিয়ে, কাঁধে কাঁধ মিলিয়ে কাজ করব আমরা। নেপালের নতুন সূচনা করব। কাজটা খুবই কঠিন। তবু পিছিয়ে গেলে হবে না। দেশবাসীর আশা, প্রত্যাশা পূরণে সচেষ্ট হতে হবে। নাহলে ইতিহাস আমাদেরকে ক্ষমা করবে না।








