উৎসবমুখী মানুষ এখন চন্দননগরে, জগদ্ধাত্রী পুজো উপলক্ষ্য সাংবাদিক সম্মেলন করলেন পুলিশ কমিশনার
আব্দুল গফফার, নতুন পয়গাম, হুগলী:
বাঙালির দুর্গোৎসব মিটতে না মিটতেই সবে মাত্র মিটেছে কালীপুজো। তারপরেই ভাইফোঁটা দিয়ে এখন রাজ্য এমনকি রাজ্যের বাইরের মানুষ সপরিবারে উৎসবমুখী হয়ে উঠেছে চন্দননগরের দিকে। কারণ কাল থেকেই শুরু হয়ে যাচ্ছে চন্দননগরের বিখ্যাত জগদ্ধাত্রী পুজো। হুগলি জেলার মানকুন্ডু থেকে চন্দননগর পর্যন্ত এখন সাজোসাজো রব। এবারের পুজো আবার চমকে ভরা। মণ্ডপ, আলো, প্রতিমা থেকে প্রতিমার সাজ সবেতেই থাকবে চমক। পুজোর দিন বাড়ছে, সংখ্যাও বাড়ছে গতবারের তুলনায়। বাড়ির পুজো মিলিয়ে এবারে মোট পুজোর সংখ্যা আড়াইশো। আজ এই উপলক্ষ্যে সেফ ড্রাইভ সেভ লাইফ প্রকল্পে চন্দননগর পুলিশ কমিশনারেটের পক্ষ থেকে কয়েকটি পুজো কমিটিকে পুরস্কার সহ অর্থ মূল্যের চেক প্রদান করা হয়। পাশাপাশি মানকুন্ড থেকে চন্দননগর পর্যন্ত পুজোর গাইড ম্যাপও প্রকাশ করা হয়। এদিনের সংক্ষিপ্ত অনুষ্ঠানে উপস্থিত ছিলেন চন্দননগরের বিধায়ক তথা রাজ্যের মন্ত্রী ইন্দ্রনীল সেন, হুগলি’র জেলাশাসক মুক্তা আর্য্য, চন্দননগরের মহকুমা শাসক বিষ্ণুপদ দাস, চন্দননগর পুর নিগমের মহানাগরিক রাম চক্রবর্তী, উপ মহানাগরিক অমিত আগরওয়াল প্রমুখ। জানা গেছে, এবারের জগদ্ধাত্রী পুজোয় চন্দননগর থানা এলাকায় রয়েছে ১৩৩ টি এবং ভদ্রেশ্বর থানা এলাকায় রয়েছে ৪৭ টি পুজো। এর মধ্যে জয়ন্তী বর্ষের পুজো রয়েছে ১০ টি। এবং প্রাক জয়ন্তী বর্ষের পুজো রয়েছে ১১ টি। শোভাযাত্রাতেও প্রতি বছরের মত এবছর থাকবে নতুন নতুন চমক। এবছর মোট ৭০ টি পুজো কমিটি অংশগ্রহণ করবে জগদ্ধাত্রী শোভাযাত্রায়। মোট লরির সংখ্যা থাকছে ২৪৫ টি। চন্দননগর থানা এলাকার ৫৬ টি পুজো কমিটি এবং ভদ্রেশ্বর থানা এলাকার ১৪ টি পুজো কমিটি অংশগ্রহণ করবে এই শোভাযাত্রায়।জগদ্ধাত্রী প্রতিমা নিরঞ্জন হবে রানীঘাট সহ চন্দননগর ও ভদ্রেশ্বরের মোট ১৪ টি গঙ্গার ঘাটে। দর্শনার্থীদের জন্য বায়োটয়লেটের ব্যবস্থা থাকছে। চন্দননগরের ঐতিহ্য মেনে বিসর্জনের শোভাযাত্রায় ডিজে বক্স বাজানো যাবে না, প্লাস্টিকের ব্যবহার পুরোপুরি নিষিদ্ধ করা হয়েছে,প্রতিটি পুজো কমিটি প্রতিমার গাড়িতে অগ্নি নির্বাপক সিলিন্ডার রাখবে বাধ্যতামূলকভাবে।প্রত্যেকটি পুজো কমিটি মণ্ডপের ভিতরে টিভি ক্যামেরা রাখবে। দূষণ রুখতে শিশামুক্ত রং ব্যবহার করতে হবে প্রতিমায়, ডেঙ্গু প্রতিরোধ করতে আশেপাশে কোনরকম নোংরা আবর্জনা ফেলা যাবে না। প্রতিমা নিরঞ্জনের সময় কোনরকম আতশবাজিও পোড়ানো যাবে না। পুজো উপলক্ষ্যে চন্দননগর পুলিশ কমিশনারেটের পক্ষ থেকে শনিবার পুলিশ কমিশনার অমিত পি জাভালগি এক সাংবাদিক বৈঠকে বলেন পুজোর সাত দিন নিরাপত্তা ব্যবস্থা সহ দর্শনার্থীরা নির্বিঘ্নে পুজো দেখতে পারবেন।








