নিষ্ফলা ডার্বিতে ‘জয়ী’ ইস্টবেঙ্গল, বিদায় মোহনবাগানের
ইস্টবেঙ্গল-০ মোহনবাগান-০
নিজস্ব প্রতিনিধি, নতুন পয়গাম:
হ্যাঁ,ম্যাচটা কোন দলই জেতেনি।তবে না জিতেও কোথাও যেন জিতে গেল ইস্টবেঙ্গল। কারন গতকালের ড্র-টাই তাদের কাছে জয়ের সমান।কেননা এবারের সুপার কাপের সেমিফাইনালে যেতে গেলে ড্র করলেই হতো ইস্টবেঙ্গলের,পক্ষান্তরে জিততেই হতো মোহনবাগানকে।কিন্তু জয় তো দূর,মোহনবাগান স্বাভাবিক খেলাটাও খেলতে পারেনি।ফলে সুপার কাপের পরবর্তী রাউন্ডে চলে গেলো লাল হলুদ ব্রিগেড।
অলিখিত কোয়ার্টার ফাইনালে শুক্রবার ফাতোরদার নেহরু স্টেডিয়ামে আয়োজিত ডার্বির ফল ০-০।ফলে গোল পার্থক্যে এগিয়ে থাকার সুবাদে সুপার কাপের শেষ চারে পৌঁছল ইস্টবেঙ্গল। আর বিদায় নিতে হল মোহনবাগানকে।তবে মাস্ট উইন ম্যাচে মোহনবাগান কি সত্যিই জেতার মতো খেলেছে? এদিন প্রথম একাদশে তিন বিদেশিকে রেখেছিলেন সবুজ-মেরুন কোচ হোসে মোলিনা। ডিপ ডিফেন্সে আলবার্তো ও আলড্রেড। সিঙ্গল স্ট্রাইকারে জেমি ম্যাকলারেন। উইং থেকে আক্রমণের জন্য লিস্টন কোলাসো ও মনবীর সিংয়ের উপরই ভরসা রাখেন তিনি। পক্ষান্তরে, ইস্টবেঙ্গল কোচ অস্কার ব্রুজোঁ প্রথম একাদশে পাঁচ বিদেশি রাখেন। মোহন বাগানের মাঝমাঠ খুবই দুর্বল। তাই খেলার রাশ হাতে নিতে দেরি হয়নি মিগুয়েল-রশিদদের। ম্যাচের ২৪ মিনিটে লিড নিতে পারত ইস্টবেঙ্গল। কিন্তু মিগুয়েলের ক্রস থেকে নেওয়া বিপিন সিংয়ের বুদ্ধিদীপ্ত হেড ক্রসবারে ধাক্কা লাগে। বিরতির আগে মোহন বাগানের আক্রমণ মাত্র একটি। ৪০ মিনিটে আপুইয়ার শট জমা পড়ে বিপক্ষ গোলরক্ষক প্রভসুখন গিলের হাতে।
গ্রেগ স্টুয়ার্টের বিকল্প নেই এই মোহনবাগানে। আর তা বিলক্ষণ জানতেন ইস্টবেঙ্গলের কোচ অস্কার ব্রুজোঁ। তাই পরিকল্পিত ফুটবল খেলে ম্যাচ জিততে না পারলেও তাঁর লক্ষ্য সফল। পক্ষান্তরে, পর্যাপ্ত বলের জোগান না পেয়ে দৌড়ে বেড়ালেন অজি স্ট্রাইকার ম্যাকলারেন। অনিরুদ্ধ, আপুইয়া, লিস্টন, মনবীর, সাহালদের খেলা দেখে মনে হল, তাঁরা ড্রয়ের জন্যই খেলতে নেমেছেন। যে কোনও মূল্যে গোল হজম না করলেই কেল্লা ফতে!
দ্বিতীয়ার্ধেও ম্যাচের গতিপ্রকৃতিতে তেমন বদল আসেনি। রাশ ছিল ইস্ট বেঙ্গলেরই হাতে। মোহন বাগান মাঝেমধ্যে আক্রমণে ওঠার চেষ্টা করেছে মাত্র। কোচ মোলিনা পরিবর্ত হিসেবে কামিংস-রবসন-পেত্রাতোসদের নামালেও লাভের লাভ কিছু হয়নি। বৃষ্টিভেজা মাঠে ভালো খেলার জন্য ফিট ফুটবলারদের প্রয়োজন। কিন্তু এই মোহন বাগানে তার খুবই অভাব। পক্ষান্তরে, ইস্ট বেঙ্গল ফুটবলাররা যথেষ্ট ফিট। তাঁদের মধ্যে লড়াইয়ের তাগিদও বেশি লক্ষ্য করা গিয়েছে। এদিনও বিশাল কাইথ দু’বার দলের নিশ্চিত পতন রোধ না করলে অস্কারের দল জিততেও পারত। ৬০ মিনিটে হামিদের শট তিনি তৎপরতার সঙ্গে ফিস্ট করেন। শেষদিকে মোহন বাগান গোলের জন্য ঝাঁপালেও লাভের লাভ কিছু হয়নি। আনোয়ারের নেতৃত্বে ইস্ট বেঙ্গল রক্ষণ ম্যাকলারেনদের যাবতীয় জারিজুরি রুখে দেয়।
মোহন বাগানের বাজেটের প্রায় অর্ধেক ইস্ট বেঙ্গলের। কিন্তু খেলা দেখে তা মোটেই মনে হল না। জেতার জন্য মাঝমাঠ দখলে রাখা প্রয়োজন। কিন্তু তেমন ফুটবলার কোথায় মোলিনার দলে? বরং মিগুয়েল, মহেশ, বিপিনরা অনেক বেশি সপ্রতিভ, বুদ্ধিদীপ্ত ফুটবল উপহার দিলেন। কোচ অস্কারও জানতেন, মাঝমাঠ দখলে রাখতে পারলেই চাপ বাড়বে বিপক্ষ শিবিরে। আর এই পরিকল্পনায় তিনি একশোয় একশো পাবেন।
অন্যদিকে বকলমে ম্যাচ ‘হেরে’ মোলিনার বিদায় আসন্ন।এমনিতে কোচের স্ট্র্যাটেজিতে খুশি নয় মোহন জনতা,তার উপর ডার্বিতে হতশ্রী পারফরম্যান্স করে সুপার কাপ থেকে বিদায় নেওয়ায় ধিকি ধিকি জ্বলা আগুন না বিস্ফোরণের রূপ নেয়!
ইস্টবেঙ্গল: গিল, রাকিপ, আনোয়ার, সিবলে, জয় গুপ্তা, মহেশ (এডমুন্ড), রশিদ, সাউল (শৌভিক), মিগুয়েল, বিপিন (বিষ্ণু) ও হামিদ (হিরোশি)।
মোহনবাগান: বিশাল, মেহতাব, আলড্রেড, আলবার্তো, শুভাশিস (সুহেল), মনবীর (পেত্রাতোস), আপুইয়া, অনিরুদ্ধ (দীপক), লিস্টন (রবসন), সাহাল (কামিংস) ও ম্যাকলারেন।








