লক্ষাধিক স্কুলে একজন মাত্র শিক্ষক, সিঙ্গেল টিচার স্কুলের শীর্ষে ডাবল ইঞ্জিন রাজ্য
নতুন পয়গাম, নয়াদিল্লি, ১৩ অক্টোবর:
দেশজুড়েই শিক্ষার হাল বেহাল। সম্প্রতি জানা গিয়েছিল দেশে প্রায় ১ লক্ষ সরকারি স্কুল বন্ধ হয়ে গিয়েছে। এবার জানা গেল, সারা দেশে অন্তত ১ লক্ষ স্কুলে মাত্র একজন করে শিক্ষক রয়েছেন। অথচ প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদি জিডিপি-র ৬ শতাংশ শিক্ষাখাতে ব্যয় বা বরাদ্দ করার প্রতিশ্রুতি দিয়ে বলেছিলেন, জীবনের সবথেকে বড় বিনিয়োগ হল শিক্ষা! সেই কারণে নতুন জাতীয় শিক্ষানীতি কার্যকর করছে তাঁর সরকার। কিন্তু, বাস্তবে দেখা যাচ্ছে শিক্ষা নিয়েও জুমলাবাজি করছে কেন্দ্র সরকার। মোদির আমলেই দিন দিন বেহাল হচ্ছে দেশের শিক্ষাব্যবস্থা। গত ১০ বছরে দেশে সরকারি স্কুলের সংখ্যা কমেছে ৮ শতাংশ। বন্ধ হয়ে গিয়েছে প্রায় ১ লক্ষ স্কুল।
সম্প্রতি প্রকাশিত কেন্দ্রীয় সরকারি রিপোর্টে জানা গিয়েছে আরেক চোখ কপালে তোলা পরিসংখ্যান। যাতে বলা হয়েছে, দেশে ১ লক্ষ ৪ হাজার ১২৫ স্কুলে মাত্র একজন করে শিক্ষক রয়েছেন। আর এইসব স্কুলে পড়াশুনো করছে ৩৩ লক্ষ ৭৬ হাজার ৭৬৯ ছাত্র-ছাত্রী। অর্থাৎ, গড়ে ৩৪ জন ছাত্র পিছু মাত্র একজন শিক্ষক ! তাৎপর্যপূর্ণভাবে এহেন সিঙ্গল টিচার স্কুলের সংখ্যায় শীর্ষে রয়েছে দু’টি ডাবল ইঞ্জিন রাজ্যই, অন্ধ্রপ্রদেশ এবং উত্তরপ্রদেশ।
দেশের শিক্ষার অধিকার আইন-২০০৯ এ বলা হয়েছে, শিক্ষক ও পড়ুয়ার অনুপাত প্রাথমিক স্তরে প্রথম থেকে পঞ্চম শ্রেণি পর্যন্ত হওয়া উচিত ১:৩০ এবং উচ্চ প্রাথমিক স্তরে ষষ্ঠ থেকে অষ্টম শ্রেণি পর্যন্ত ১:৩৫। অর্থাৎ, প্রথমটিতে ৩০ ও দ্বিতীয় ক্ষেত্রে ৩৫ জন পড়ুয়া পিছু এক জন করে শিক্ষক বা শিক্ষিকা থাকা প্রয়োজন। কিন্তু, কেন্দ্রীয় শিক্ষামন্ত্রকের ২০২৪-২৫ রিপোর্ট বলছে, সেই মানদণ্ডের ধারেকাছেও নেই দেশের বর্তমান স্কুলশিক্ষা ব্যবস্থা। সবচেয়ে বেশি সিঙ্গল টিচার স্কুল রয়েছে অন্ধ্রপ্রদেশে, ১২ হাজার ৯১২। তারপরই রয়েছে যোগীরাজ্য উত্তরপ্রদেশ, ৯ হাজার ৫০৮।
সিঙ্গল টিচার স্কুলে পাঠরত মোট ৩৩ লক্ষ পড়ুয়ার মধ্যে ৬ লক্ষেরও বেশি পড়ুয়া রয়েছে শুধু উত্তরপ্রদেশে। এমন স্কুলের সংখ্যায় তৃতীয় থেকে পঞ্চম স্থানে ঝাড়খণ্ড, ৯১৭২; মহারাষ্ট্র ৮১৫২; কর্ণাটক ৭৩৪৯। তালিকায় রয়েছে পশ্চিমবঙ্গও, ৬৪৮২। দিল্লির পরিস্থিতি সবথেকে ভাল, এই রাজ্যে এক-শিক্ষক বিশিষ্ট স্কুলের সংখ্যা মাত্র ৯।
রিপোর্টে আরো বলা হয়েছে, গত ১০ বছরে দেশে সরকারি স্কুলের সংখ্যা ১১ লক্ষ ০৭ হাজার ১০১ থেকে কমে হয়েছে ১০ লক্ষ ১৭ হাজার ৬৬০। ২০১৪-১৫ থেকে ২০২৩-২৪ সময়কালে ৮৯ হাজার ৪৪১টি স্কুল বন্ধ হয়ে গিয়েছে, যার মধ্যে ৬০ শতাংশই উত্তরপ্রদেশ ও মধ্যপ্রদেশে।








