দিল্লি বিস্ফোরণ: ‘সন্ত্রাসী হামলা’ ঘোষণায় দেরি কেন? ব্যর্থতার দায় কার? সর্বদল বৈঠক চাইল বিরোধীরা
নতুন পয়গাম, নয়াদিল্লি:
সোমবার দিল্লির লালকেল্লা মেট্রো স্টেশনের বাইরে বিস্ফোরণের পর ৫ দিন কেটে গেছে। তিনদিনের মাথায় অনেক মিটিং, সিটিং করার পর কেন্দ্রীয় স্বরাষ্ট্রমন্ত্রক জানিয়েছে, ঘটনাটি সন্ত্রাসবাদী হামলা ছিল। কিন্তু এর দায় কার? দিল্লির পুরসভা, পুলিশ, প্রশাসন, রাজ্য এবং কেন্দ্র সরকার — সবই তো বিজেপির হাতে। তাহলে এই হামলা বা বিস্ফোরণের দায় কেন বিজেপি বা কেন্দ্র সরকার নেবে না, সে প্রশ্ন তুলে কেন্দ্রকে কাঠগড়ায় তুলেছে কংগ্রেস সহ বিরোধী দলগুলো। কিন্তু কেন্দ্র সরকার তাদের ব্যর্থতার দায় স্বীকার করেনি। পাশাপাশি কোনো জঙ্গি বা সন্ত্রাসী সংগঠনও দায় স্বীকার করেনি।
এদিকে কেন্দ্র সরকারের ব্যর্থতা ও দায় নিয়ে অহেতুক কাল বিলম্বের ব্যাখা চাইল কংগ্রেসের মিডিয়া ও আইটি সেলের প্রধান পবন খেরা। তিনি বলেন, বিজেপি ও কেন্দ্র সরকার বলছে, বিরোধীরা সংবেদনশীল ও মর্মান্তিক বিষয়টি নিয়ে রাজনীতি করছে। আমরা কিন্তু এই স্পর্শকাতর বিষয়টি নিয়ে রাজনীতি করতে চাই না। আমরা এমন দুঃসময়ে সর্বদা দেশের সরকারের পাশে আছি। তাই সরকার যতক্ষণ না চূড়ান্ত সিদ্ধান্ত নিয়ে ঘটনাটিকে সন্ত্রাসবাদী বলে ঘোষণা করল, ততক্ষণ কিছু বলিনি। কিন্তু সন্ত্রাসবাদী হামলা বলতে সরকার দুই দিন পার করে দিল কেন? নিহত ১৩ জনের জীবনের দায় কে নেবে?
এদিন সাংবাদিক সম্মেলনে পবন খেরা বলেন, মুম্বই হামলা ২৬/১১-র পর তৎকালীন ইউপিএ সরকারের স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী শিবরাজ পাতিল ইস্তফা দেন। মোদি সরকারের আমলে গত ১১ বছরে দেশের বিভিন্ন প্রান্তে একের পর এক বিস্ফোরণ, জঙ্গি হামলা ও নাশকতার ঘটনা ঘটলেও ব্যর্থতার দায় নিয়ে কেন স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী অমিত শাহ পদত্যাগ করেননি? এখনও কেন দিব্যি পদে আসীন রয়েছেন? সরকার কেন এখনও গাফিলতি বা ব্যার্থতার দায় নেবে না? কীভাবে ফরিদাবাদে তিন হাজার কিলো বিস্ফোরক এল? এসব প্রশ্নের জবাব চেয়ে কেন্দ্র সরকারের অবস্থান স্পষ্ট করতে অবিলম্বে সর্বদলীয় বৈঠক ডাকার আহ্বান জানান পবন। মমতা ব্যানার্জীর দলও আগেই দাবি জানিয়েছে, স্বরাষ্ট্রমন্ত্রকের সংশ্লিষ্ট কমিটিতে বিষয়টি আলোচনা করা হোক। কিন্তু সরকার সেই প্রস্তাব পত্রপাঠ খারিজ করে দিয়েছে।
উল্লেখ্য, আগামী ১ ডিসেম্বর থেকে শুরু হচ্ছে সংসদের শীতকালীন অধিবেশন। সেখানেও অন্ত একদিন এ বিষয়ে এজেন্ডা বা আলোচনা রাখা হোক। সরকার কিন্তু এসব কিছুই মানতে রাজি নয়। বিশেষ করে বিহারে বিধানসভা ভোটে জয়ের পর কেন্দ্রের ঔদ্ধত্য আরো বেড়েছে। তাই তারা এখন বিরোধীদের বিন্দুমাত্র পাত্তা দিতে রাজি নয় বলে অভিযোগ বিরোধীদের। পবন খেরা বলেন, এই দুঃসময়ে আমরা ঐক্যবদ্ধ হয়ে কাজ করছি। গণতন্ত্রে বিরোধীদের এমনই ইচিবাচক গঠনমূলক দায়িত্ব পালন করা উচিত। তাই আমরা রাজনৈতিক ও গণতান্ত্রিক সৌজন্য বজায় রাখছি। এটা কিন্তু আমাদের দুর্বলতা নয়। আমরা বিষয়টি নিয়ে নোংরা রাজনীতি করতে চাই না। তবে সরকারের কাছে জবাব চাই। তারা অবস্থান স্পষ্ট করুক। এ ব্যাপারে স্বচ্ছতা বজায় রাখতে সর্বদলীয় বৈঠক ডাকা হোক এবং শীতকালীন অধিবেশনে এ বিষয়ে আলোচনা করা উচিত।








