দিল্লি বিস্ফোরণ: বিরোধীদের কাঠগড়ায় কেন্দ্রের ব্যর্থতা
নতুন পয়গাম, নয়াদিল্লি:
দিল্লিতে আবারও বিস্ফোরণ ঘটেছে সোমবার সন্ধ্যায়। পরকদিন মঙ্গলবার ছিল বিহারে শেষ দফার বিধানসভা ভোট। তাই প্রথম থেকেই দিল্লির বিস্ফোরণকাণ্ড নিয়ে নানা মহল থেকে অভিযোগ উঠছে। বিরোধী দলগুলো এজন্য কেন্দ্রীয় সরকারকেই কাঠগড়ায় তুলেছে। তাদের অভিযোগ, দিল্লি পুলিশ কেন্দ্রের হাতে, তাছাড়া রাজধানী শহরে নিরাপত্তার যাবতীয় দায়-দায়িত্ব কেন্দ্রীয় স্বরাষ্ট্র মন্ত্রকের। তারপরেও এই ব্যর্থতার দায় কার? কংগ্রেস বলছে, এভাবে কতবার ধরা পড়বে গোয়েন্দা ব্যর্থতা? অমিত শাহের পদত্যাগ দাবি করেছে কংগ্রেস। এত পাহাড় প্রমাণ ব্যর্থতা আর কোনও স্বরাষ্ট্রমন্ত্রীর আমলে হয়নি। তবুও কেন্দ্র সরকার চুপ কেন? দিল্লিতে ঠিক কী ঘটনা ঘটেতে, সেটা স্পষ্ট করে জানাক কেন্দ্র সরকার।
সমাজবাদী পার্টির শীর্ষনেতা সাংসদ অখিলেশ যাদব বলেন, পুলওয়ামা থেকে পহেলগাঁও। উরি কিংবা পাঠানকোট, গত ১১ বছরে অসংখ্য জঙ্গি হামলা হয়েছে হয়েছে। নরেন্দ্র মোদি বলেছিলেন, তিনি ক্ষমতায় এলে সীমান্ত দিয়ে একটা ইঁদুরও ঢুকতে দেবেন না। কিন্তু তার কথার সঙ্গে কাজে বিন্দুমাত্র মিল নেই। আগের সব ঘটনা থেকে সরকার কোনও শিক্ষা নেয়নি। বারবার গোয়েন্দা ব্যর্থতা প্রমাণ হচ্ছে? এই সরকার দেশবাসীকে নিরাপত্তা দিতে পারছে না। নাশকতা, জঙ্গি ও সন্ত্রাসী হামলা ঠেকাতে পারছে না, উল্টে এসব ঘটনা বেড়েই চলেছে। অখিলেশ যাদব আরো বলেন, ১৫ আগস্ট লালকেল্লায় দাঁড়িয়ে প্রধানমন্ত্রী স্বাধীনতা দিবসের ভাষণ দেন, অথচ সেখানেই এত বড় গোয়েন্দা ও নিরাপত্তা ব্যর্থতা?

এদিকে বিরোধীদের জমাবে মঙ্গলবার বিজেপি পালটা বলেছে, বিরোধীরা সন্ত্রাস ও সাধারণ মানুষের মৃত্যু নিয়ে রাজনীতি করছে। বিশেষজ্ঞরা বলছেন, লালকেল্লার অদূরে বিস্ফোরণের ঘটনায় কেন্দ্র সরকার ব্যাকফুটে চলে গিয়েছে। বিড়ম্বনায় পড়েছে মোদি সরকার। ড্যামেজ কন্ট্রোলে মঙ্গলবার প্রধানমন্ত্রী থেকে প্রতিরক্ষামন্ত্রী, প্রতিশোধমূলক পাল্টা প্রত্যাঘাতের হুমকি দিয়েছেন। কিন্তু কেন বার বার দেশের গুরুত্বপূর্ণ শহরে এভাবে হামলা ও বিস্ফোরণ ঘটে চলেছে, এর জন্য দায়ী কে বা কারা — সেসব নিয়ে চুপ রয়েছে কেন্দ্র। কংগ্রেসের মতে, এবার কার ঘাড়ে দোষ বা দায় চাপানো যায়, বিজেপি এখন সেই ফন্দি খুঁজছে।
প্রধানমন্ত্রী বলেছেন, সোমবার রাতে লালকেল্লার কাছে হওয়া বিস্ফোরণের সঙ্গে যে বা যারা জড়িত, তাদের কাউকেই ছেড়ে দেওয়া হবে না। নিহতদের পরিবারের কষ্ট ও বেদনা প্রত্যেক ভারতবাসীর কাছে এক হাহাকার। চক্রান্তের শিকড়ে যাব। তারপর দোষীদের দৃষ্টান্তমূলক শাস্তি দেওয়া হবে। একই কথা বলেছেন প্রতিরক্ষামন্ত্রী রাজনাথ সিং। কিন্তু পুলওয়ামা থেকে পহেলগাঁও কোনো ঘটনার এখনও সুরাহা হয়নি। মালেগাঁও বিস্ফোরণের মতো ভয়াবহ হামলায় যেখানে অসংখ্য মানুষের প্রাণহানি হয়েছিল, সেই ঘটনায় সব প্রমাণ থাকা সত্ত্বেও অপরাধীরা বিজেপির নেতা-নেত্রী হওয়ায় ছাড় পেয়ে গেছেন মূল চক্রীরা। সাধ্বী প্রজ্ঞা সিং থেকে কর্নেল পুরোহিত, কারো সাজা হয়নি। বেকসুর খালাস পেয়েছেন তারা। সুতরাং দিল্লির ঘটনাও যে বিশ বাঁও জলে চলে যাবে, তা নিশ্চিত বলে অভিযোগ করেছে কংগ্রেস সহ বিরোধীরা।








