নাগরাকাটার বামনডাঙ্গায় এখনও নিখোঁজ দুই — চার দিন পরেও মিলল না হদিশ
প্রীতিময় সরখেল, নতুন পয়গাম, নাগরাকাটা:
চার দিন পেরিয়েও খোঁজ মিলল না বামনডাঙ্গার দুই নিখোঁজের। হরপা বানের তাণ্ডব থেমেছে, কিন্তু নদীর ধারে কাদা-পলির স্তূপে আজও হন্যে হয়ে খুঁজছেন তাঁদের আত্মীয়-পরিজন। চোখে জল, মুখে একটাই প্রশ্ন—“ওরা কোথায়?”
নিখোঁজদের মধ্যে রয়েছেন তিন বছরের নিভিয়ান্স নায়েক ও ৪৫ বছরের সরস্বতী বড়াইক। ইতিমধ্যেই বামনডাঙ্গা এলাকা থেকে উদ্ধার হয়েছে নয়টি মৃতদেহ। কিন্তু নিখোঁজদের খোঁজে প্রশাসনের পক্ষ থেকে তৎপরতার অভাবের অভিযোগ তুলেছেন শোকাহত পরিবারগুলি।
বন্যার জল নামলেও দুর্ভোগ কমেনি। গ্রামজুড়ে জমে আছে হাঁটু-সমান কাদা ও পলি। বহু ঘরবাড়ি ধ্বংসস্তূপে পরিণত হয়েছে। চা-বাগান এলাকা জুড়ে ছড়িয়ে আছে শোক ও আতঙ্কের আবহ।
বামনডাঙ্গা চা-বাগানের বাসিন্দা রূপা নায়েকের পরিবারে নেমে এসেছে গভীর অন্ধকার। বন্যার জলে ভেসে গেছেন তাঁর ভাইপো ও বৌদি নিভৃতি নায়েক (৬) এবং মঞ্জু নায়েক (২৫)। আর তিন বছরের নিভিয়ান্স এখনো নিখোঁজ। অসহায় বাবা আকাশ নায়েক নিজেই খুঁজছেন পলির নিচে, নদীর চরে, বালির স্তূপে—সন্তানের কোনো চিহ্নের আশায়। প্রশাসনের কাছে কাতর আবেদন, “আমার ছেলেটাকে খুঁজে দিন।”
এদিকে, জলপাইগুড়ির পুলিশ সুপার খন্ডবাহালে উমেশ গনপত জানান,
“দু’জন নিখোঁজ রয়েছেন, পুলিশ বিভিন্ন এলাকায় তল্লাশি চালাচ্ছে। নাগরাকাটার বামনডাঙ্গা থেকে ধূপগুড়ি-ময়নাগুড়ি পর্যন্ত বন্যার জল গিয়েছে, তাই বৃহৎ পরিসরে অনুসন্ধান চলছে।”
জেলাশাসক শামা পারভীন বলেন,
“এখন পর্যন্ত নয়জনের মৃতদেহ উদ্ধার হয়েছে। কয়েকজন নিখোঁজ রয়েছেন, তাঁদের উদ্ধারে প্রশাসনের পক্ষ থেকে সর্বাত্মক প্রচেষ্টা চলছে।”
তবুও চার দিন কেটে যাওয়ার পরও নিখোঁজদের খোঁজ না মেলায় শোক, ক্ষোভ ও অসহায়তার ছায়া আরও ঘনিয়ে এসেছে বামনডাঙ্গার ঘরে ঘরে। বানের জল সরে গেলেও মানুষের বুকের ভিতর জমে আছে অনিশ্চয়তার স্রোত।







