হাটজনবাজার ওভারব্রিজ ঘিরে বিতর্ক, রাজনৈতিক কর্মসূচিতে স্কুল পড়ুয়াদের উপস্থিতি ও উদ্বোধনের আগেই যান চলাচলের অভিযোগ
নতুন পয়গাম, খান সাহিল মাজহার, সিউড়ি: হাটজনবাজারে নির্মীয়মান রেল ওভারব্রিজ ঘিরে রাজনৈতিক তরজা ও বিতর্ক তুঙ্গে। অভিযোগ উঠেছে, উদ্বোধনের আগেই ওভারব্রিজের ওপর দিয়ে যান চলাচল করানো হয়েছে এবং সেই সঙ্গে স্কুল চলাকালীন ক্লাস বন্ধ করে পড়ুয়াদের রাজনৈতিক কর্মসূচিতে অংশগ্রহণ করানো হয়েছে। এদিন নির্মীয়মান রেল ওভারব্রিজ দ্রুত চালু করার দাবিতে সিউড়ির হাটজনবাজার এলাকায় বিক্ষোভ কর্মসূচির আয়োজন করা হয়। স্থানীয় তৃণমূল কাউন্সিলর পিঙ্কি দাসের নেতৃত্বে আয়োজিত এই কর্মসূচিতে উপস্থিত ছিলেন বীরভূম লোকসভা কেন্দ্রের সাংসদ শতাব্দী রায়, সিউড়ি বিধানসভার বিধায়ক বিকাশ রায়চৌধুরী সহ তৃণমূল কংগ্রেসের একাধিক নেতা ও কর্মী। এই কর্মসূচিতে হাটজনবাজার এলাকার রামপ্রসাদ রায় উচ্চ বিদ্যালয়ের ছাত্র-ছাত্রীদের অংশগ্রহণ করতে দেখা যায়। অভিযোগ, স্কুল ছুটি হওয়ার আগেই ক্লাস বন্ধ করে ছাত্র-ছাত্রীদের ওই রাজনৈতিক কর্মসূচিতে নিয়ে আসা হয় এবং তাঁদের নিয়ে আসেন স্কুলের প্রধান শিক্ষক নিজেই। ফলে প্রশ্ন উঠেছে, কীভাবে স্কুল চলাকালীন পড়ুয়াদের রাজনৈতিক কর্মসূচিতে অংশগ্রহণ করানো হলো।
এই প্রসঙ্গে কর্মসূচি চলাকালীন হাটজনবাজার তৃণমূল পার্টি অফিসে সাংবাদিক বৈঠকে সাংসদ শতাব্দী রায় বলেন, “আমি এসবের কিছু জানি না। যারা আয়োজন করেছে তারাই এ বিষয়ে বলতে পারবেন।” যদিও গোটা বিষয়টি নিয়ে স্কুল কর্তৃপক্ষ মুখ খুলতে রাজি হননি। অন্যদিকে, সাংসদের পরিদর্শনের পরই নির্মীয়মান ওভারব্রিজের উপর দিয়ে বিনা অনুমতিতে বাস, ছোট-বড় গাড়ি চলাচল শুরু হয়ে যায় বলে অভিযোগ। বিষয়টি জানাজানি হতেই রেল পুলিশের পক্ষ থেকে হস্তক্ষেপ করা হয়। দায়িত্বে থাকা কন্ট্রাক্টর ও ইঞ্জিনিয়ারদের নির্দেশ দেওয়া হয় অবিলম্বে যান চলাচল বন্ধ করতে। এরপর রেল পুলিশ ও আধিকারিকরা ওভারব্রিজে ওঠা সমস্ত যানবাহন ঘুরপথে ফিরিয়ে দেন এবং জানিয়ে দেন, অনুমতি না আসা পর্যন্ত ওভারব্রিজ দিয়ে কোনও যান চলাচল করা যাবে না। উল্লেখ্য, হাটজনবাজার ফ্লাইওভার এখনও আনুষ্ঠানিকভাবে রেলের হাতে হস্তান্তর করা হয়নি। এই ঘটনাকে কেন্দ্র করে রাজনৈতিক চাপানউতোর শুরু হয়েছে। বিজেপি রাজ্য সাধারণ সম্পাদক জগন্নাথ চট্টোপাধ্যায় কটাক্ষ করে বলেন, “ফ্লাইওভার এখনও রেলের হাতে যায়নি। তার আগেই উদ্বোধন চুরি করা হয়েছে।” গোটা ঘটনায় সিউড়ি শহরজুড়ে তীব্র বিতর্কের সৃষ্টি হয়েছে।








