বিবাহ-বিমুখতার পরিণতিতে চীন বন্ধ হয়ে যাচ্ছে কিন্ডারগার্টেন স্কুল
নতুন পয়গাম, বেজিং,
১৯ সেপ্টেম্বর: চীনের প্রাপ্ত বয়স্ক তরুণ-তরুণীদের মধ্যে বিয়ে না করার প্রবণতা এবং লাগাতার নিম্ন জন্মহার ও তার জেরে শিশুর সংখ্যা কমতে থাকায় একের পর এক কিন্ডারগার্টেন স্কুল বন্ধ হয়ে যাচ্ছে। কমিউনিস্ট দেশটির শিক্ষা মন্ত্রক থেকে দেওয়া সর্বশেষ বুলেটিনে জানানো হয়েছে এই তথ্য। ২০২২ সালে সারা দেশে যেখানে ২ লাখ ৮৯ হাজার ২০০টি কিন্ডারগার্টেন স্কুল ছিল, পরের বছর ২০২৩ সালে তা হ্রাস পেয়ে হয় ২ লাখ ৭৪ হাজার ৪০০টিতে। অর্থাৎ মাত্র এক বছরে দেশটিতে ১৪ হাজার ৮০০টি কিন্ডারগার্টেন স্কুল বন্ধ হয়েছে। গত ৩১ অক্টোবর দেশটির শিক্ষা মন্ত্রকের বার্ষিক প্রতিবেদনে এসব তথ্য জানানো হয়।
একইসঙ্গে কিন্ডারগার্টেনে ভর্তি হওয়া শিশুর সংখ্যা তৃতীয় বারের মতো কমে গেছে। গত বছরে দেশটিতে কিন্ডারগার্টেনে ভর্তি হওয়া শিশুর সংখ্যা ৫.৩৫ মিলিয়ন ছিল, এবার তা কমে ৪০.৯ মিলিয়নে দাঁড়িয়েছে। ২০২৩ সালে চীনে প্রাথমিক বিদ্যালয়ের সংখ্যা ৫,৬৪৫টি কমে গিয়ে হয়েছে ১ লাখ ৪৩ হাজার ৫০০। যা আগের বছরের চেয়ে ৩.৮ শতাংশ কম।
গত বছর চীনে জন্ম নেয় মাত্র ৯০ লাখ শিশু। ১৯৪৯ সালের পর এটিই সর্বনিম্ন। সম্প্রতি পূর্ব চীনের নিংবো শহরে নারীদের ওপর এক জরিপে দেখা গেছে, প্রায় অর্ধেক সিঙ্গেল, নিঃসন্তান নারীরা একটি মাত্র সন্তান নেবার পক্ষে। আবার এক-তৃতীয়াংশেরও বেশি নারী কোনো সন্তানই নিতে চান না। ১৫ শতাংশ নারী দুটি সন্তান চান এবং ১ শতাংশেরও কম নারী দুই বা ততোধিক সন্তান নিতে আগ্রহী। ৫৬ শতাংশ নারী বিয়েকে ঐচ্ছিক ব্যাপার মনে করেন এবং প্রায় ৬ শতাংশ নারী বিয়ে করার কোনো প্রয়োজনীয়তাই দেখেন না।
গবেষকেরা বলছেন, এই মুহূর্তে চীনের জন্মহার হওয়া উচিত ২.১ শতাংশ। কিন্তু গত বছর জন্মহার ছিল ১-এর চেয়েও কম। ক্রমহ্রাসমান জনসংখ্যার কারণে দেশটির ভবিষ্যতের অর্থনৈতিক প্রবৃদ্ধি গুরুতর হুমকিতে রয়েছে। ইতিমধ্যে চীনের অর্থনৈতিক প্রবৃদ্ধি মন্থর হয়ে পড়ছে।
চীনে একদিকে যেমন জন্মহার কমছে, তেমনি অন্যদিকে বাড়ছে বয়স্ক মানুষের সংখ্যা। ফলে অনেক কিন্ডারগার্টেনকে এরই মধ্যে বৃদ্ধাবাসে পরিণত হয়েছে। সর্বশেষ কথা হল, শুধুমাত্র বিবাহ বিমুখতাই নয়, পাশাপাশি রয়েছে সমকামিতা, বহুগামিতা, অবাধ যৌনতা, পরকীয়া, লিভ টুগেদার ইত্যাদির অভিশাপও।








