কেন্দ্রের রাজস্ব ঘাটতি ৯.৭৬ লক্ষ কোটি
নতুন পয়গাম, নয়াদিল্লি: চলতি বছরের শেষ প্রান্তে দাঁড়িয়ে কেন্দ্রীয় সরকারের রাজস্ব ঘাটতি আগের সব রেকর্ড ছাপিয়ে গেল। যা নিয়ে উদ্বেগ আরও বেড়েছে। সরকারি তথ্য অনুযায়ী, নভেম্বরের শেষে কেন্দ্রের রাজস্ব ঘাটতি ৯.৭৬ লক্ষ কোটি টাকা। ২০২৫-২৬ সালের বাজেটে নির্ধারিত ঘাটতির এই লক্ষ্যমাত্রার পরিমাণ ৬২.৩ শতাংশ। তুলনামূলক, আগের বছরে একই সময়ে এই ঘাটতি ছিল ৫২.৫ শতাংশ।
২০২৫-২৬ বছরের জন্য কেন্দ্রের অনুমান ছিল জিডিপির ৪.৪ শতাংশ রাজস্ব ঘাটতি, যা ১৫.৬৯ লক্ষ কোটি টাকা হওয়ার কথা। তবে কেন্দ্রীয় হিসাব অনুযায়ী, নভেম্বর পর্যন্ত মোট রাজস্ব প্রাপ্তি হয়েছে ১৯.৪৯ লক্ষ কোটি টাকা। এর মধ্যে রয়েছে ১৩ লক্ষ ৯৩ হাজার ৯৪৬ কোটি টাকা কর, ৫ লক্ষ ১৬ হাজার ৩৬৬ কোটি টাকা কর-বহির্ভূত রাজস্ব এবং ৩৮ হাজার ৯২৭ কোটি টাকা ঋণ-বহির্ভূত মূলধন প্রাপ্তি।
সিএজি বা ক্যাগ-এর তথ্য অনুসারে, একই সময়ে রাজ্য সরকারগুলির জন্য কেন্দ্র থেকে পাঠানো করের অংশ ছিল ৯ লক্ষ ৩৬ হাজার ৫৬১ কোটি টাকা। আগের বছরের তুলনায় যা ১ লক্ষ ২৪ হাজার ৪৯৮ কোটি টাকা বেশি। অন্যদিকে, কেন্দ্রের মোট ব্যয় হয়েছে ২৯.২৬ লক্ষ কোটি টাকা। এর মধ্যে রাজস্ব খাতে ব্যয় হয়েছে ২২ লক্ষ ৬৭ হাজার ৭০০ কোটি টাকা। এছাড়া মূলধনী খাতে ব্যয় হয়েছে ৬ লক্ষ ৫৮ হাজার ২১০ কোটি টাকা। মোট রাজস্ব ব্যয়ের মধ্যে ৭ লক্ষ ৪৫ হাজার ৭৬৫ কোটি টাকা খরচ হয়েছে সুদ দিতেই। এছাড়া বিভিন্ন ভর্তুকি এবং সরকারি প্রকল্পের জন্য ব্যয় হয়েছে ২ লক্ষ ৮৮ হাজার ৩৩৩ কোটি টাকা।
অর্থনৈতিক বিশেষজ্ঞদের মতে, ২০২৫-২৬ অর্থবছরে কেন্দ্রের কর সংক্রান্ত রাজস্বে প্রায় ১.৫ লক্ষ কোটি টাকার ঘাটতির সম্ভাবনা রয়েছে। এই পরিস্থিতিতে সরকারের সিদ্ধান্ত অনুযায়ী, ১ ফেব্রুয়ারি থেকে তামাকজাত পণ্যের উপর নতুন জিএসটি কার্যকর হচ্ছে। ফলে এই পণ্যগুলো হবে সবচেয়ে দামি, যা রাজস্ব ঘাটতি সামলাতে সহায়ক হবে।
তবে বছর শেষে কিছুটা স্বস্তির খবর হল ডিসেম্বরে দেশে জিএসটি আদায় বেড়ে হয়েছে ১ লক্ষ ৭৫ হাজার কোটি টাকা। আগের বছরের একই সময়ের তুলনায় যা ৬.১ শতাংশ বেশি।








