অসমে ফের বুলডোজার অভিযান, উচ্ছেদ ৩০০ পরিবার, সিংহভাগই বাংলাভাষী
নতুন পয়গাম, গুয়াহাটি, ১৮ আগস্ট: ওরা নাকি বেআইনিভাবে জমি দখল করে ঘরবাড়ি বানিয়েন এতকাল বসবাস করছিল। অর্থাৎ এদের ওখানে থাকাটাই অবৈধ। এমনই অভিযোগ তুলে অসমে ফের সংরক্ষিত জমি থেকে ৩০০-রও বেশি বাঙালি পরিবারকে উচ্ছেদ করল বিজেপির রাজ্য সরকার। এই নিয়ে তীব্র বিতর্ক দেখা দিয়েছে। সুপ্রিম কোর্টের নির্দেশকে বুড়ো আঙুল দেখিয়ে রবিবার অসমে আবার বুলডোজার চালিয়ে এতগুলো পরিবারের মাথার ওপর থেকে ছাদ কেড়ে নিল হিমন্ত বিশ্বশর্মা সরকার। ঘরবাড়ি ভেঙে তছনছ করে দায়ে তাদেরকে উচ্ছেদ করা হল। জানা গিয়েছে, মোট ১৭৫ বিঘা জায়গাজুড়ে ছিল এইসব পরিবার ও বাড়িঘর।
উল্লেখ্য, বিজেপি শাসিত ডাবল ইঞ্জিন রাজ্যগুলোতে প্রায়ই বুলডোজার অভিযান চলছে। অধিকাংশ ক্ষেত্রেই বেছে বেছে মুসলিমদের ঘরবাড়ি, দোকানপাট, মক্তব, মাদ্রাসা, মসজিদ, ইদগাহ, খানকা ইত্যাদি ভেঙে গুঁড়িয়ে দিচ্ছে ওইসব রাজ্যের বিজেপি সরকার। কিন্তু এক্ষেত্রে মানবিকতার লেশমাত্র নেই। এমনকি সুপ্রিম কোর্টের তরফে পুনর্বাসনের আগাম ব্যবস্থার কথা বলা হলেও সেসব মানা হয়নি কোথাও।
এদিকে রবিবারের ঘটনায় অসমের ‘অল অসম মাইনোরিটি স্টুডেন্টস ইউনিয়ন’ দাবি করেছে, পুনর্বাসনের ব্যবস্থা না করে অমানবিকভাবে এই উচ্ছেদ অভিযান করা হয়েছে। তাছাড়া ওইসব জায়গার দলিলপত্র আছে কিনা, প্রশাসন সেসবও দেখতে চায়নি। গাজোয়ারি করে ক্ষমতার দম্ভ ও আস্ফালন দেখিয়ে এসব করা হয়েছে। যদিও প্রশাসনের বক্তব্য, ১৫ দিনের মধ্যে জমি খালি করার উচ্ছেদ নোটিস আগে জারি করা হয়েছিল।
রবিবার অসমের বিশ্বনাথ জেলার জাপারিগুড়ি এলাকায় সংরক্ষিত জমি উদ্ধার করতে উচ্ছেদ অভিযান চালানো হয়েছে। ওই এলাকায় ৩০৯টি পরিবার প্রায় ১৭৫ বিঘা (প্রায় ২৩ হেক্টর) জমি বেআইনিভাবে দখল করে ছিল, যা আসলে গোরুর চর বা ভিলেজ গ্রেজিং রিজার্ভ হিসেবে সংরক্ষিত। জেলাশাসক সীমান্ত কুমার দাস জানান, উচ্ছেদ অভিযান শান্তিপূর্ণভাবেই সম্পন্ন হয়েছে। ১ অগস্ট উচ্ছেদ নোটিস জারি করা হয়েছিল, যাতে ১৫ দিনের মধ্যে জমি খালি করার নির্দেশ দেওয়া হয়। অধিকাংশ পরিবার প্রাণভয়ে নিজেরাই ঘরবাড়ির অংশবিশেষ খুলে নেয় বা আসবাবপত্র ও লোটাকম্বল বেঁধে অন্যত্র চলে যান। অবশিষ্ট ঘরবাড়ি, দোকান ও একটি চা বাগান-সহ সবকিছু ভেঙে দেওয়া হয়েছে।
এই উচ্ছেদ অভিযানে যাতে কোনও অশান্তি না ছড়ায়, সেজন্য অতিরিক্ত ৬০০ নিরাপত্তারক্ষী মোতায়েন করা হয়েছিল। স্থানীয়রা জানিয়েছেন, উচ্ছেদ হওয়া পরিবারগুলির অধিকাংশই বাংলা ভাষাভাষী মুসলিম সম্প্রদায়ভুক্ত। তবে প্রশাসন এই নিয়ে কিছু বলতে চায়নি। অল অসম সংখ্যালঘু ছাত্র ইউনিয়নের সাধারণ সম্পাদক কুদ্দুস আলি সরকার উচ্ছেদ অভিযান নিয়ে সরকারের তীব্র নিন্দা করে বলেন, পুনর্বাসনের বন্দোবস্ত না করে এই উচ্ছেদ অত্যন্ত অমানবিক। অবিলম্বে উচ্ছেদ বন্ধের দাবি জানান তিনি।








