দুয়ারে রেশন ক্যাম্পেই দালাল ও ফড়ে দের দাপাদাপি
প্রীতিময় সরখেল, নতুন পয়গাম, ধূপগুড়ি:
দুয়ারে রেশন ক্যাম্পেই দালাল ও ফড়ে দের দাপাদাপি। দেদার চলছে ক্যাম্পের মধ্যেই রেশনের দেওয়া খাদ্য সামগ্রী বেচাকেনা, প্রশ্নের মুখে পুলিশ প্রশাসন এবং খাদ্য দপ্তরের নজরদারি ও ভূমিকা।
এমন ছবি ধরা পড়লো ক্যামেরায়, ধূপগুড়ি পৌরসভার ১২ নম্বর ওয়ার্ডে রাজ্যের ‘দুয়ারে রেশন’ কর্মসূচির সময় খাদ্য সামগ্রী বেআইনিভাবে বিক্রি হচ্ছে বলে অভিযোগ উঠেছে। রেশন ডিলার এবং ফড়ে দের যোগসাজশে এই বেআইনি কারবার চলছে ধূপগুড়িতে—উঠেছে অভিযোগ। স্থানীয়দের দাবি, অতিরিক্ত পুলিশ সুপার (গ্রামীণ) দপ্তরের ঠিক পাশেই পাইকাররা বিনামূল্যে দেওয়া চাল-আটা নগদ অর্থে কিনে খোলা বাজারে বিক্রি করছেন। এমন ঘটনার ফলে সাধারণ মানুষসহ স্থানীয় রাজনৈতিক মহলেও প্রশ্ন উঠেছে পুলিশ প্রশাসন এবং খাদ্য দপ্তরের ভূমিকা নিয়ে।
আলপনা বোস রেশন ডিলারের তত্ত্বাবধানে শুক্রবার রেশন বিতরণ চলাকালীন ক্যাম্পের সামনে দেখা যায়, একজন যুবক হাতে নগদ টাকা নিয়ে গ্রাহকের হাতে সেই টাকা গুঁজে দিচ্ছেন এবং পরিবর্তে চাল-আটা সরাসরি বস্তায় ভরে নিচ্ছেন। পাইকাররা ক্যাম্পের মধ্যেই গ্রাহকের কাছ থেকে রেশনে বিনামূল্যে দেওয়া আটা-চাল কম দামে কিনে নিচ্ছেন।
স্থানীয়রা অভিযোগ করেছেন, “সরকারের দেওয়া খাদ্য সামগ্রী কম দামে কিনে খোলা বাজারে বেশি দামে বিক্রি হচ্ছে। পুলিশ কেন দেখছে না, তা বোঝা যাচ্ছে না।” রাজ্য সরকার ইতিমধ্যেই টাস্কফোর্স গঠন করেছে এই ধরনের বেআইনি কার্যক্রমের নজরদারি করার জন্য। কিন্তু তাদেরও যথাযথ তদারকি নেই বলে অভিযোগ উঠেছে।
সিপিআইএম নেতা জয়ন্ত মজুমদার অভিযোগ করেন, “রেশন ক্যাম্পের সামনে বেআইনি ব্যবসা চলছে। প্রশাসন কোনো নজরদারি করছে না। পাইকাররা কম দামে কিনে বেশি দামে বিক্রি করছে। এটি একটি দুর্নীতি।”
ফড়ে দীপঙ্কর সাহা বলেন, “আমার ভুল হয়েছে, আমি জানতাম না এভাবে কেনা যায় না। রেশন ডিলারও আমাকে বারন করেননি।”
রেশন সরবরাহকারী বাপ্পা আলি প্রথমে বিষয়টি অস্বীকার করলেও প্রমাণ দেখানো হলে তিনি এড়িয়ে যাওয়ার চেষ্টা করেন। তিনি বলেন, “এটা আমার দেখার বিষয় নয়।” তবে স্থানীয় রাজনৈতিক নেতারা সতর্ক করেছেন, এই ধরনের বেআইনি কার্যক্রম বরদাস্ত করা হবে না।
ধূপগুড়ি মহাকুমা শাসক শ্রদ্ধা সুব্বার সঙ্গে ফোনে যোগাযোগ সম্ভব হয়নি। বারবার ফোন করা হলেও তিনি ধরেননি।
স্থানীয়রা মনে করছেন, শুধু আইন প্রয়োগের মধ্য দিয়ে নয়, প্রশাসনিক তৎপরতা বাড়ানোও প্রয়োজন। সরকারিভাবে প্রদত্ত খাদ্য সামগ্রী যেন সঠিকভাবে প্রাপকদের কাছে পৌঁছায়, তা নিশ্চিত করা প্রশাসনের দায়িত্ব।
সরকারি নির্দেশ শুধুমাত্র কাগজকলমে রয়েছে, আর বাস্তবের সঙ্গে কোনো মিল নেই।








