আবার ব্যর্থ সূর্য, গিল’রা
ডি কক-এর ঝোড়ো ব্যাটিংয়ে অসহায় আত্মসমর্পণ ভারতের
এম.রহমান, নতুন পয়গাম, মুল্লানপুর
গতকালই বলেছিলাম যে প্রতিদিন হার্দিকরা উতরে দেবেন না।জয়ের জন্য ভালো শুরুরও দরকার পড়ে।কিন্তু না; নিজেদের অফ ফর্ম অব্যাহত রাখলেন দুই ক্যাপ্টেন।
পরিসংখ্যান বলছে-২০২৫ সালে টি-টোয়েন্টি ক্রিকেটে
শুভমান গিল ১৪ ইনিংসে মাত্র ২৬৩ রান করেছেন। গড় মাত্র ২৩.৯০।
সূর্যকুমার যাদবের অবস্থা তো আরও খারাপ।-১৭ ইনিংসে ২০১ রান, গড় মাত্র ১৪.৩৫!
তাদের ব্যাটিং দক্ষতা নিয়ে কোনও প্রশ্ন নেই। কিন্তু টিমের ক্যাপ্টেন এবং ভাইস ক্যাপ্টেনের যদি এরকম পারফরম্যান্স হয়, তাহলে কিন্তু মুশকিল।
ব্যতিক্রমী শুধু তিলক ভার্মা। কিছুটা লড়লেন তিনি। মূলত গতকাল দলগত ব্যর্থতাই ডোবাল টিম ইন্ডিয়াকে। ফলে দ্বিতীয় টি-২০ ম্যাচে ৫১ রানে জিতে সিরিজে সমতা ফেরাল দক্ষিণ আফ্রিকা।
সকাল দেখেই বোঝা গিয়েছিল দিনটা কেমন যাবে। নতুন বলে যাঁদের উপর ভরসা রাখা হয়েছিল, তাঁরাই ডোবালেন। ৪ ওভারে অর্শদীপ দিলেন ৫৪। বুমরাহই বা কম কীসের। তিনি বিলোলেন ৪৫। দলের দুই সেরা পেসারের দুর্দশাই বলে দিচ্ছে কতটা দাপট ছিল দক্ষিণ আফ্রিকার ব্যাটারদের। টি-২০ ফরম্যাটে অতিরিক্ত ২২ রান মানে তো গিলোটিনে মাথা দেওয়া। তার মধ্যে অর্শদীপ একই ওভারে সাতটি ওয়াইড দিয়েছেন।
টস হেরে প্রথমে ব্যাট করে দক্ষিণ আফ্রিকা ৪ উইকেটে তোলে ২১৩। কুইন্টন ডি’কক একাই করলেন ৪৬ বলে ৯০। সামান্য ভুলে উইকেটকিপারের হাতে রান আউট হন তিনি। সেঞ্চুরি হাতছাড়া হলেও আইপিএল নিলামের আগে দর বাড়িয়ে নিলেন বাঁ হাতি ওপেনার। রানের গতিতে লাগাম টানতে পাওয়ার প্লে’তেই স্পিনার বরুণ চক্রবর্তীর হাতে বল তুলে দেন ক্যাপ্টেন সূর্যকুমার। সিদ্ধান্তটা কাজেও দেয়। বরুণের বলে ৮ রানে বোল্ড হন হেনরিকস। ক্যাপ্টেন মার্করামও রেয়াত করেননি ভারতীয় বোলারদের। আসলে বরুণ চক্রবর্তী ছাড়া আর কোনও বোলারই ছাপ ফেলতে পারেননি। ইনিংসের মাঝপথে মার্করাম (২৯), ডি’কক (৯০) ও ব্রেভিস (১৪) পর পর আউট হওয়ায় মনে হয়েছিল রানের গতি কিছুটা মন্থর হবে। কিন্তু ডেথ ওভারে মিলার ও ফেরেইরা রোলার চালান বোলারদের উপর। মিলার ১২ বলে ২০ ও ফেরেইরা ১৬ বলে ৩০ রানে অপরাজিত থাকেন।
জবাবে ব্যাট করতে নেমে গিল, অভিষেক, সূর্যকুমাররা যেভাবে উইকেট উপহার দিলেন, তাতে মনে হল না ম্যাচের আগে যুবরাজের পেপ টক কাজে দিয়েছে। গত ম্যাচের মতো ঘরের মাঠ মুল্লানপুরেও ব্যর্থ গিল (০)। অভিষেক ঝড়ের গতিতে রান তুলতে গিয়ে আউট হন ১৭ রানে। কঠিন সময়ে হাল ধরা তো দূরে থাক, একই ভুলে জানসেনের শিকার সূর্যকুমারও (৫)। অক্ষর প্যাটেল ও তিলক ভার্মা চাপ সামলে দ্রুত রান তোলার চেষ্টা করেন। রান রেটও সচল ছিল। অক্ষর ২১ রানে ফেরার পর হার্দিকের সঙ্গে জুটি বেঁধে আশা জাগিয়ে তোলেন তিলক ভার্মা। তবে আস্কিং রেট ক্রমশ মাথা চাড়া দিচ্ছিল। ফলে চালিয়ে খেলা ছাড়া কোনও পথ ছিল না। তিলক ২৭ বলে হাফ-সেঞ্চুরি পূর্ণ করেন। হার্দিককে গত ম্যাচের মতো মেজাজে পাওয়া যায়নি। জীবন পেয়েও তা কাজে লাগাতে ব্যর্থ তিনি। তুলে মারতে গিয়ে ২০ রানে আউট হন। একা লড়লেন তিলক ভার্মা (৬২)। কিন্তু পাশে পেলেন না কাউকেই। ১৯.১ ওভারে ১৬২ রানে গুটিয়ে যায় টিম ইন্ডিয়া।
যদিও সবকিছু এখনই শেষ হয়ে যায়নি। কামব্যাকের সুযোগ আছে।সেটাই কাজে লাগাতে হবে।কারন টেস্টের পর টি-টোয়েন্টি হারলে,সমালোচনার ঝড় বয়ে যাবে।








