আইএফএ শিল্ডের পর সুপার কাপ;টাইব্রেকারে আবারও স্বপ্নভঙ্গ ইস্টবেঙ্গলের
এম. রহমান, নতুন পয়গাম, গোয়াঃ
৬৩ মিনিটে একেবারে ফাঁকায় দাঁড়ানো হিরোশি যখন হেডটা গোয়া গোলকিপারের হাতে জমা দিলেন,তখনই বোঝা গিয়েছিল- আজ হয়তো আর গোল হবে না।হবেই বা কি-করে ; নাওরেম,বিষ্ণুরাও মিস করলেন একগাদা গোল।ফলে নিশ্চিত ট্রফি গোয়ার রেখে এল ইস্টবেঙ্গল। টুর্নামেন্টের শুরু থেকেই মিগুয়েল, সাউল ক্রেসপোরা গোল পাওয়ায় আপফ্রন্টের যাবতীয় দুর্বলতা ঢাকা পড়ে গিয়েছিল অস্কার-ব্রিগেডের। তবে ফাইনালের গোয়ার বিরুদ্ধে হারের দায় নিতেই হবে হিরোশি-হামিদদের। রবিবার কার্ড সমস্যায় বেঞ্চে ছিলেন না স্প্যানিশ কোচ। তবে দলের যাবতীয় রিমোট কন্ট্রোল ছিল তাঁর হাতেই। কেন তিনি হিরোশিকে শুরু থেকে দলে রাখলেন? উত্তর একমাত্র অস্কারই দিতে পারবেন। ম্যাচের দ্বিতীয়ার্ধে যে সুযোগটি পেয়েছিলেন জাপানি স্ট্রাইকার, সেখান থেকে গোল করতে না পারাটা অপরাধ। দুটো পোস্ট খোলা ছিল। তা সত্ত্বেও ওর দুর্বল হেড গোলরক্ষকের হাতে জমা পড়ল! আমি নিশ্চিত, ওর জায়গায় ডেভিড থাকলে ওটা নিশ্চিত গোল হত। অস্কার ভুল শুধরে হিরোশির পরিবর্তে ডেভিডকে নামালেন ঠিকই। কিন্তু তখন অনেক দেরি হয়ে গিয়েছে। আর ইস্ট বেঙ্গলের আর এক স্ট্রাইকার হামিদ আহদাদের প্রসঙ্গে যত কম বলা যায়, ততই ভালো। দলে যোগ দেওয়ার পর থেকেই চোটগ্রস্ত এই মরক্কান ফুটবলারটি। সেমি-ফাইনালে তো বেঞ্চেই ছিল না। ফাইনালে অতিরিক্ত সময়ে মাঠে নামলেও, শুধুই ঘুরে বেড়াল।
আইএফএ শিল্ড ফাইনালে টাই-ব্রেকারে স্বপ্নভঙ্গ হয়েছিল ইস্ট বেঙ্গলের। সুপার কাপেও সেই ট্র্যাডিশন বজায় রইল। সেবার শেষ মুহূর্তে গোলরক্ষক পরিবর্তন নিয়ে সন্দীপ নন্দীকে ভিলেন করতে চেয়েছিলেন ইস্ট বেঙ্গল কোচ। সুপার কাপে গিল কী করল? একজন গোলরক্ষক সাতটি শটের মধ্যে একটিও রুখতে ব্যর্থ। তাহলে আর গোলরক্ষক কোচের কী প্রয়োজন? সুপার কাপে ইস্ট বেঙ্গল মাঝমাঠে মিগুয়েল-সাউল-রশিদ ত্রয়ী বারবার দলকে টেনেছিল। তবে ফাইনালে কোথাও সেই ম্যাজিক উধাও। আর তার ফলেই আটকে যায় ইস্ট বেঙ্গল। বরং বলা ভালো, রক্ষণে আনোয়ার-সিবলে জুটি ছিল বলেই ম্যাচটা টাই-ব্রেকার পর্যন্ত গড়িয়েছে। আর্জেন্তাইন ডিফেন্ডার এবার ইস্ট বেঙ্গলের সম্পদ। টিম ম্যানেজমেন্টর উচিত, তার সঙ্গে দ্রুত দীর্ঘমেয়াদি চুক্তি সেরে রাখা। আর আনোয়ার বর্তমানে দেশের সেরা ডিফেন্ডার। সেই তুলনায় গোয়াকে শুরু থেকেই অনেক বেশি নড়বড়ে লেগেছিল। মুম্বইয়ের বিরুদ্ধে যে ফুটবলটা খেলেছিল বোরহা-ব্রাইসনরা, তা ফাইনালে দেখা যায়নি। বরং বলা ভালো, ইস্ট বেঙ্গল তাদের লড়াইয়ের কোনও জায়গা দেয়নি। তবে দ্বিতীয়ার্ধে ধীরে ধীরে ম্যাচের দখল নেয় গোয়া। এই পর্বে পোস্ট ভাগ্য সহায় থাকলে নির্ধারিত সময়েই ম্যাচটা শেষ করতে পারত তারা। তবে কথায় আছে, যার শেষ ভালো, তার সব ভালো। আর সত্যিই যোগ্য দল হিসেবে চ্যাম্পিয়ন হয়েছে গোয়া। তবে ইস্ট বেঙ্গলের লড়াইকে কুর্নিশ জানাতে হবে। আগামী কয়েকদিনের মধ্যেই আইএসএল নিয়ে জট কাটতে পারে। সেক্ষেত্রে নতুন বছরেই দেশের সেরা লিগে বল গড়াবে। সেখানে ভালো ফল করতে হলে দ্রুত স্ট্রাইকার পরিবর্তন করতে হবে ইস্ট বেঙ্গলকে।কারন হিরোশি উচ্চতায় লম্বা হলেও,আদতে তিনি লম্বা রেসের ঘোড়া নন।








