সুন্দরবনের মৎস্যজীবীদের জন্য সুখবর চালু হল আপতকালীন উদ্ধার পরিষেবা
হাসান লস্কর বাবলু
নতুন পয়গাম, দক্ষিণ ২৪ পরগনা:
সুন্দরবনের নদী, খাঁড়ি ও গভীর অরণ্যে মাছ, কাঁকড়া ও মধু সংগ্রহ করতে গিয়ে প্রায়ই বিপদের মুখে পড়েন স্থানীয় মৎস্যজীবীরা। কখনও দুর্যোগপূর্ণ আবহাওয়া, কখনও আবার বাঘ বা কুমিরের আক্রমণ—সব মিলিয়ে জীবন ও জীবিকার লড়াইয়ে তারা বারবার ঝুঁকি নেন।
এই মৎস্যজীবীদের দ্রুত উদ্ধার ও চিকিৎসা সুবিধা পৌঁছে দিতে আজ থেকে শুরু হলো এক নতুন পরিষেবা। স্বেচ্ছাসেবী সংস্থা ওয়াইল্ডলাইফ ট্রাস্ট অফ ইন্ডিয়া (WTI)-র উদ্যোগে দক্ষিণ ২৪ পরগনা বনদপ্তরের অধীন রায়দিঘি রেঞ্জ এলাকায় কুলতলী বিট অফিস থেকে মৎস্যজীবীদের হাতে তুলে দেওয়া হয় অত্যাধুনিক স্পিড বোট, ১০টি এলার্ম ডিভাইস ও কুইক রেসপন্স টিমের (QRT) সদস্যদের পোশাক। বন্যপ্রাণী লোকালয়ে ঢুকে পড়লে শনাক্ত করতে দেওয়া হয় বিশেষ লাইটও।
অনুষ্ঠানে উপস্থিত ছিলেন কুলতলী বিটের আধিকারিক শামীম প্রধান, সুকমল চক্রবর্তী, WTI-র প্রসেনজিৎ সেল, সম্রাট পাল সহ বনদপ্তরের অন্যান্য কর্মীরা। এ উদ্যোগে সহযোগিতা করেছে দক্ষিণ ২৪ পরগনা ডিভিশন ফরেস্ট ও জয়নগর কুলতলী গ্রামীণ হাসপাতালের বি.এম.ও.এইচ., যাঁরা অ্যাম্বুলেন্স ব্যবস্থারও উদ্যোগ নিয়েছেন।
কুইক রেসপন্স টিমের সদস্য ইসমাইল মোল্লা বলেন, “আমরা ভাবিনি আমাদের জন্য এত দ্রুত পরিষেবা চালু হবে। এতে কাজ করতে অনেক সুবিধা হবে।” নৌকামালিক সুজিতের কথায়, “WTI ও বনদপ্তর আমাদের এমনভাবে সহযোগিতা করবে তা কল্পনাও করিনি।”
আজ থেকে চালু হওয়া এই পরিষেবা সুন্দরবনের বিপদগ্রস্ত মৎস্যজীবীদের তড়িৎ সহযোগিতা ও জীবনরক্ষায় বড় ভূমিকা নেবে বলে আশা করা হচ্ছে।








