পাথর প্রতিমায় অভিষেক বন্দ্যোপাধ্যায়-এর সভায় জনসমুদ্র
নতুন পয়গাম, হাসান লস্কর পাথর প্রতিমাঃ দক্ষিণ ২৪ পরগনার পাথরপ্রতিমা বিধানসভা কেন্দ্রে নির্বাচনী আবহ ক্রমেই তপ্ত হয়ে উঠছে। আর সেই আবহের মধ্যেই এক নজিরবিহীন জনসমাগমের সাক্ষী থাকল গোটা এলাকা। চতুর্থবারের জন্য নির্বাচনী লড়াইয়ে নামা ভূমিপুত্র প্রার্থী সমীর কুমার জানা-র সমর্থনে অনুষ্ঠিত হল এক বিশাল জনসভা, যেখানে প্রধান বক্তা হিসেবে উপস্থিত ছিলেন তৃণমূল কংগ্রেসের সর্বভারতীয় সাধারণ সম্পাদক ডায়মন্ড হারবারের সাংসদ অভিষেক বন্দ্যোপাধ্যায়। সভাস্থল জুড়ে সকাল থেকেই মানুষের ঢল নামে। গ্রাম থেকে গ্রামান্তর, নদীপথ পেরিয়ে, দূরদূরান্ত থেকে মানুষ এসে ভিড় জমায় এই সভায়। স্থানীয় সূত্রের দাবি, জনসমাগমের সংখ্যা প্রায় হাফ লক্ষাধিক ছাড়িয়ে যায়। মাঠ উপচে পড়া ভিড়, রাস্তায় দাঁড়িয়ে থাকা মানুষ– সব মিলিয়ে গোটা এলাকা যেন পরিণত হয় এক জনসমুদ্রে।এই বিপুল জনসমাগমকে রাজনৈতিক মহল দেখছে শক্তি প্রদর্শন হিসেবে।
বিশেষত, হ্যাটট্রিক জয়ের পর এবার চতুর্থবারের জন্য লড়াইয়ে নামা সমীর কুমার জানা-র পক্ষে এটি যে এক বড় বার্তা, তা নিয়ে কোনও সংশয় নেই। গত নির্বাচনে তিনি উল্লেখযোগ্য ব্যবধানে জয়লাভ করেছিলেন। এবার সেই জয়ের মার্জিন দ্বিগুণ করার লক্ষ্যে রেখে প্রচারে নেমেছেন তিনি। সভামঞ্চ থেকে অভিষেক বন্দ্যোপাধ্যায় তাঁর ভাষণে রাজ্যের উন্নয়নমূলক কাজের খতিয়ান তুলে ধরেন এবং একাধিক জনমুখী প্রকল্পের কথা তুলে ধরেন। তিনি স্পষ্টভাবে বলেন, “লক্ষীর ভান্ডার বন্ধ হচ্ছে না”, পাশাপাশি দুয়ারে চিকিৎসা পরিষেবা পৌঁছে দেওয়ার উদ্যোগ এবং বাংলার প্রত্যেকটি মানুষের মাথার উপর পাকা ছাদ নিশ্চিত করার লক্ষ্যে সরকারের প্রতিশ্রুতির কথাও উল্লেখ করেন। তিনি আরও জানান, সাধারণ মানুষের জীবনযাত্রার মান উন্নত থেকে উন্নত তরো করাই সরকারের প্রধান লক্ষ্য এবং সেই লক্ষ্যেই একের পর এক প্রকল্প বাস্তবায়ন করা হচ্ছে। তারই বক্তব্যে উঠে আসে—সামাজিক সুরক্ষা, স্বাস্থ্য পরিষেবা এবং আবাসন— এই তিন ক্ষেত্রেই রাজ্য সরকার নিরলসভাবে কাজ চালিয়ে যাচ্ছে।অন্যদিকে, নিজের বক্তব্যে সমীর কুমার জানা বলেন, “এই জনসমাগম প্রমাণ করে পাথরপ্রতিমার মানুষ আমাদের সঙ্গে আছেন।
গতবারের থেকেও বেশি ব্যবধানে জয়ের লক্ষ্য নিয়ে আমরা এগোচ্ছি। উন্নয়নের কাজই আমাদের প্রধান হাতিয়ার।” তিনি আরও জানান, এলাকার পরিকাঠামো উন্নয়ন, রাস্তা, বিদ্যুৎ, পানীয় জল এবং স্বাস্থ্য পরিষেবার উন্নতিতেই তাঁর জোর থাকবে। স্থানীয় বাসিন্দাদের অনেকেই জানিয়েছেন, উন্নয়নের ধারাবাহিকতা এবং জনসংযোগই এই সমর্থনের মূল কারণ। বিশেষ করে নদীবেষ্টিত এই অঞ্চলে যোগাযোগ ব্যবস্থা এবং দুর্যোগ মোকাবিলায় যে উদ্যোগ নেওয়া হয়েছে, তা সাধারণ মানুষের মধ্যে ইতিবাচক প্রভাব ফেলেছে। রাজনৈতিক বিশ্লেষকদের মতে, এই সভার জনসমাগম আসন্ন নির্বাচনে বড় ভূমিকা নিতে পারে। যদিও ভোটের ফলাফল নির্ভর করে একাধিক বিষয়ের উপর, তবুও এমন বিপুল ভিড় সাধারণত সংগঠনের শক্তি এবং জনসমর্থনের একটি গুরুত্বপূর্ণ সূচক হিসেবে বিবেচিত হয়।সব মিলিয়ে, পাথরপ্রতিমার এই জনসভা শুধু একটি রাজনৈতিক কর্মসূচি নয়, বরং আসন্ন নির্বাচনের আগে শক্তির এক বড় প্রদর্শন হিসেবেই চিহ্নিত হচ্ছে। এখন দেখার, এই জনসমর্থন ভোটবাক্সে কতটা প্রতিফলিত হয় এবং চতুর্থবারের জন্য লড়াইয়ে নেমে সমীর কুমার জানা তাঁর জয়ের ধারা বজায় রাখতে পারেন কি না। সময় তা বলবে।।








