আর কয়েকদিন পর জগদ্ধাত্রী পুজো, চন্দননগরে অনুষ্ঠিত হল প্রশাসনিক বৈঠক
আব্দুল গফফার, নতুন পয়গাম, হুগলীঃ
আর কয়েকদিন পরেই চন্দননগর শহর মেতে উঠবে জগদ্ধাত্রী পুজোয়। আর সেই পুজোয় নিরবিচ্ছিন্ন বিদ্যুৎ পরিষেবা দিতে সবরকম ব্যবস্থা রাখছে রাজ্য বিদ্যুৎ কোম্পানি এবং ক্যালকাটা ইলেকট্রিক সাপ্লাই কর্পোরেশন। এবারের পুজোয় কোন রকম বিদ্যুৎ পরিষেবা বন্ধ থাকবে না। পরিষেবা সচল রেখে হবে শোভাযাত্রা। বিদ্যুৎ পরিষেবা ছাড়া বিভিন্ন বিষয়ে আলোচনার জন্য সোমবার
জগদ্ধাত্রী পুজো নিয়ে এক প্রশাসনিক বৈঠক অনুষ্ঠিত হল চন্দননগরে। সামনেই জগদ্ধাত্রী পুজো, লক্ষ লক্ষ মানুষের ঢল নামে হুগলির চন্দননগর, মানকুণ্ডু এবং ভদ্রেশ্বরে। এবার পুজোয় আরও বাড়তি নিরাপত্তা নিয়ে বৈঠক অনুষ্ঠিত হল প্রশাসনের তরফে। সমস্ত পুজো কমিটির সদস্যরা উপস্থিত ছিলেন এই বৈঠকে। সোমবার চন্দননগর রবীন্দ্রভবনের বৈঠকে উপস্থিত ছিলেন রাজ্যের মন্ত্রী ইন্দ্রনীল সেন, চন্দননগর পুলিশ কমিশনার অমিত পি জাভালগি, জেলাশাসক মুক্তা আর্য্য, চন্দননগরের মহানাগরিক রাম চক্রবর্তী, উপ মহানাগরিক মুন্না আগরওয়াল, ভদ্রেশ্বর পুরপ্রধান প্রলয় চক্রবর্তী, বিদ্যুৎ দপ্তরের আধিকারিক সহ প্রশাসনিক আধিকারিকরা। অনলাইনে কিভাবে মিলবে পুলিশের অনুমতি সেটিও এদিন পুজো কমিটির উদ্যোক্তাদের দেখিয়ে দেওয়া হয় চন্দননগর পুলিশ কমিশনারেটের তরফে।
পুজো কমিটির তরফে বিভিন্ন বিষয়ে আবেদন জানানো হয় প্রশাসনের কাছে। সেগুলিও আলোচনার মাধ্যমে সুরাহা করা হয় এই বৈঠকে।
চন্দননগরের জগদ্ধাত্রী শোভাযাত্রায় এবার আর বিদ্যুৎ বন্ধ হবে না। প্রতি বছর শোভাযাত্রার দিন বেশ কিছুক্ষনের জন্য সাট ডাউন করা হয়। কিন্তু এ বছর পুজোয় আর সাট ডাউন হবে না। দুবছর আগে আন্ডারগ্রাউন্ড কেবল বসানোর কাজ শুরু হয়েছিল সেই কাজ শেষ হয়েছে। নিরবিচ্ছিন্ন বিদ্যুৎ পরিষেবা চালু থাকবে এমনটাই জানান বিদ্যুৎ দপ্তরের রিজিওনাল ম্যানেজার মধুসূদন রায়।
চন্দননগর পুলিশ কমিশনার অমিত পি জাভালগি বলেন, এ বছর আরও বাড়তি নিরাপত্তা বাড়ানো হচ্ছে। পাশাপাশি পুজো কমিটিগুলোকে অনুরোধ করা হয় পুজোর কদিন রাস্তায় ডিজে বাজানো এবং লেসার শো না করার। এবং তিনি বলেন বর্তমানে সোশ্যাল মিডিয়ার যুগ। তাই যা ঘটছে সেটা দেশের বাইরের লোকের কাছেও পৌঁছে যাচ্ছে। তাই প্রত্যেককে সতর্ক থাকতে হবে সোশ্যাল মিডিয়া ব্যবহারের ক্ষেত্রে। সামান্য কিছু ঘটনা ঘটলে তা সোশ্যাল মিডিয়ায় না দিয়ে পুলিশকে জানানোর জন্য পুজো কমিটির উদ্যোক্তাদের বলেন পুলিশ কমিশনার। জলের উপর কোনও মন্ডপ অথবা স্টেজ করতে হলে পূর্ত দপ্তরের ছাড়পত্র লাগবে। নিরাপত্তার কথা মাথায় রেখে সিসিটিভি বাড়ানো হচ্ছে। ড্রোনে নজরদারি চালানো হবে। পুলিশ এসিস্টেন্স বুথের দায়িত্বে থাকবে উচ্চ পদস্থ আধিকারিকরা। গোয়েন্দা এবং সাদা পোশাকেও পুলিশ মোতায়েন থাকবে।
এদিন মন্ত্রী ইন্দ্রনীল সেন বলেন, চন্দননগরের জগদ্ধাত্রী শোভাযাত্রা শুধুমাত্র চন্দননগরের গর্ব নয় গোটা বিশ্বের গর্ব। শোভাযাত্রা দেখতে আসা দর্শণার্থীদের জন্য এর আগে চন্দননগরে ভালো থাকার জায়গা ছিল না। বর্তমানে পর্যটন দপ্তরের মাধ্যমে কেএমডিএ পার্কে ভালো থাকার জায়গা করে দেওয়া হয়েছে, যার নাম রাখা হয়েছে আলো রিসর্ট। পাশাপাশি ১০৪ কোটি টাকা ব্যায়ে মাটির তলা দিয়ে বিদ্যুতের লাইন বসানোর কাজ প্রায় শেষের দিকে। এ বছর পুজোর সপ্তমীর আগেই সম্ভবত মুখ্যমন্ত্রীর হাত ধরেই এই প্রকল্পের আনুষ্ঠানিক উদ্বোধন হবে বলে জানান মন্ত্রী।








