রায়গঞ্জে আইন সচেতনতা কর্মসূচি: নাটক, বিশেষজ্ঞ বক্তৃতা ও আউটরিচ কার্যক্রমে জোর
নতুন পয়গাম, এম নাজমুস সাহাদাত, রায়গঞ্জ: রায়গঞ্জ বিশ্ববিদ্যালয়ের আইন বিভাগ প্রধান আয়োজক হিসেবে সোমবার রায়গঞ্জ শ্রী শ্রী রামকৃষ্ণ বিদ্যালয়ে একটি আইন সচেতনতা কর্মসূচি অনুষ্ঠিত হয়। এদিনের কর্মসূচিতে ছাত্রছাত্রী ও কিশোর-কিশোরীদের মধ্যে আইনি অধিকার, সামাজিক বাস্তবতা এবং সমসাময়িক আইন ব্যবস্থার বিষয়গুলো তুলে ধরাই ছিল এর মূল লক্ষ্য। তৃণমূল স্তরে আইনের জ্ঞান বিস্তার ও নাগরিক আচরণে ইতিবাচক পরিবর্তন আনতে এই উদ্যোগকে তাৎপর্যপূর্ণ বলে মনে করছেন সংশ্লিষ্ট মহল। অনুষ্ঠানের প্রধান সমন্বয়কের দায়িত্বে ছিলেন রায়গঞ্জ বিশ্ববিদ্যালয়ের আইন বিভাগের সমন্বয়ক ড. ভূপাল ভট্টাচার্য। এছাড়াও অনুষ্ঠানে উপস্থিত ছিলেন, জেলা আইন পরিষেবা কর্তৃপক্ষ (DLSA), রায়গঞ্জ-এর সচিব কদম্বারী অধিকারী, রায়গঞ্জ বিশ্ববিদ্যালয়ের স্নাতকোত্তর বিভাগের সচিব ড. দিগন্ত বিশ্বাস এবং রায়গঞ্জ থানার অফিসার-ইন-চার্জ বিশ্বাস রয় সরকার ছাড়াও বিশ্ববিদ্যালয়ের আইন বিভাগের শিক্ষকবৃন্দ এবং সংশ্লিষ্ট সংগঠনের প্রতিনিধিরাও কর্মসূচিতে অংশগ্রহণ করেন।
এদিনের কর্মসূচির অন্যতম আকর্ষণ ছিল বিশ্ববিদ্যালয়ের আইন বিভাগের এলএল.এম. শিক্ষার্থীদের পরিবেশিত দুটি সচেতনতামূলক স্বল্পদৈর্ঘ্য নাটক। প্রথম নাটকটি শিশু পতিতাবৃত্তির বিষয় তুলে ধরে। এই নাটকের মাধ্যনে সমাজের নীরব অন্ধকার দিকের বাস্তবতা তুলে ধরতে নাটকের প্রতিটি দৃশ্য দর্শকদের ভাবিয়ে তোলে। দ্বিতীয় নাটকটির বিষয় ছিল সাইবার অপরাধ যেখানে অনলাইন প্রতারণা, পরিচয় চুরি, সাইবার বুলিং এবং ব্যক্তিগত তথ্য ফাঁস হওয়ার ঘটনাগুলো নাট্যরূপে উপস্থাপন করা হয়। চোখে আঙুল দিয়ে দেখানো হয়, ভার্চুয়াল জগতে অসাবধানতা কিভাবে ব্যক্তি ও সমাজের জন্য বিপদের কারণ হয়ে উঠতে পারে। নাটক শেষে উপস্থিত অতিথিবৃন্দ শিক্ষার্থীদের অভিনয় ও বিষয়বস্তুর প্রশংসা করেন। নাট্য পরিবেশনার পাশাপাশি আমন্ত্রিত অতিথিরা আইনি সচেতনতা বৃদ্ধিমূলক বক্তৃতা প্রদান করেন। এছাড়াও শিশু অধিকার, সাইবার নিরাপত্তা, নারীর প্রতি সহিংসতা, বিনামূল্যে আইন পরিষেবা প্রাপ্তি এবং জেলা আইন পরিষেবা কর্তৃপক্ষের ভূমিকা নিয়ে গুরুত্বপূর্ণ আলোচনা হয়। জেলা আইন পরিষেবা কর্তৃপক্ষের সচিব জানান, নির্দিষ্ট পরিস্থিতিতে সাধারণ নাগরিকরা কীভাবে আইনি সহায়তা পেতে পারেন, সে বিষয়ে এখনো অনেকের অজ্ঞতা রয়েছে। ফলে এই ধরনের কর্মসূচি অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ। বক্তৃতাগুলো শিক্ষার্থীদের মধ্যে ব্যাপক আগ্রহ সৃষ্টি করে। বিদ্যালয়ে কর্মসূচি সফলভাবে পরিচালনার ক্ষেত্রে বিদ্যালয়ের প্রধান শিক্ষক শ্রী সৌমিত্র তরফদারের তত্ত্বাবধান বিশেষভাবে উল্লেখযোগ্য ছিল। এছাড়া কর্মসূচির সার্বিক সমন্বয়ের দায়িত্বে ছিলেন শ্রী আনন্দ সরকার, যার ঐকান্তিক প্রচেষ্টায় পুরো অনুষ্ঠানটি শৃঙ্খলার সঙ্গে সম্পন্ন হয়।
এই আইন সচেতনতা কর্মসূচি রায়গঞ্জ বিশ্ববিদ্যালয়ের আইন বিভাগের উদ্যোগে অনুষ্ঠিত হয় এবং জেলা আইন পরিষেবা কর্তৃপক্ষ (DLSA), রায়গঞ্জ ও বাপু এনজিও-র সক্রিয় সহযোগিতায় সফলভাবে সম্পন্ন হয়। এনজিও-র পক্ষে সমন্বয়ের দায়িত্বে ছিলেন অ্যাডভোকেট পূজা ঝা। আয়োজক সংস্থা এবং সহযোগী সংগঠনের প্রতিনিধিরা জানান, আইন শিক্ষা শ্রেণিকক্ষের মধ্যে সীমাবদ্ধ নয়; বরং সমাজে ন্যায়বিচার প্রতিষ্ঠার জন্য এই শিক্ষার বহিঃপ্রকাশ জরুরি। সার্বিকভাবে, রায়গঞ্জে আয়োজিত এই কর্মসূচি আইন ও সমাজের পারস্পরিক সম্পর্ক বোঝাতে একটি সফল আউটরিচ মডেল হিসেবে চিহ্নিত হচ্ছে। আইন বিভাগ মনে করছে এ ধরনের উদ্যোগ নিয়মিত চালিয়ে গেলে ভবিষ্যৎ প্রজন্ম আরও সচেতন, দায়িত্বশীল ও অধিকার-সচেতন নাগরিক হিসেবে গড়ে উঠবে।








