সিঙ্গুরে শিল্প নিয়ে নীরব মোদি
নতুন পয়গাম, সিঙ্গুর: সিঙ্গুর-সহ রাজ্যবাসী ভেবেছিল, টাটার পরিত্যক্ত কারখানার জমিতে সভা করে সিঙ্গুরে ফের নতুন করে শিল্পের আশ্বাস দেবেন প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদি। কারণষ সিঙ্গুর নিয়ে এখনও তেমন কিছু করতে পারেনি তৃণমূল কংগ্রেস বা মা মাটি মানুষের সরকার। সেই শূন্যস্থান হয়ত পূরণের চেষ্টা করতেই দল তথা দেশের সরকারের শীর্ষকর্তাকে ডেকে আনা হয়েছে সিঙ্গুরের মাঠে। মোদির সিঙ্গুর সফরের আগে থেকেই সিঙ্গুর নিয়ে পারদ চড়ছিল রাজ্য রাজনীতিতে। সিঙ্গুরে টাটা গোষ্ঠীকে ফিরিয়ে আনা নিয়ে বিজেপির অন্দরে শুরু হয়েছিল জল্পনা। গেরুয়া শিবিরের ছোট, বড়, মাঝারি সব নেতাই আশা করেছিলেন, মোদি সিঙ্গুরে টাটাদের ফিরিয়ে আনার বার্তা দেবেন, অথবা সিঙ্গুরে নতুন শিল্পায়নের আশ্বাস দেবেন। কিন্তু রবিবার দেখা গেল সম্পূর্ণ ১৮০ ডিগ্রি উলোটপুরাণ।
সব জল্পনা কল্পনার অবসান ঘটিয়ে বিজেপি কর্মীদের আশায় জল ঢেলে দিলেন প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদি। এদিন সিঙ্গুর থেকে টাটাদের নিয়ে একটি শব্দও উচ্চারণ করতে দেখা গেল না তাঁকে। স্বভাবতই হতাশ গেরুয়া শিবিরের নেতা থেকে কর্মীরা। রাজ্যে বিজেপি ক্ষমতায় এলে ‘হাতে-পায়ে ধরে’ টাটাদের ফিরিয়ে আনার কথা বলেছিলেন বিরোধী দলনেতা শুভেন্দু অধিকারী। রাজ্য বিজেপির প্রাক্তন সভাপতি সুকান্ত মজুমদারও এ বিষয়ে একই আশ্বাস দিয়েছিলেন। কিন্তু রবিবার সিঙ্গুরের সভায় টাটাদের ফিরিয়ে আনার ব্যাপারে আশ্চর্যজনকভাবে নীরব রইলেন মোদি।
সিঙ্গুরের বিধায়ক তথা রাজ্যের মন্ত্রী বেচারাম মান্না বলেন, ‘অন্যায়ভাবে কৃষকের জমি নিয়ে সভা করে তাঁদের জন্য কী বার্তা দিলেন দেশের প্রধানমন্ত্রী? এদিন অন্তত বাংলার কৃষক তা বুঝতে পারেননি। রাজ্যের বিরুদ্ধে প্রকল্প রূপায়ণ না-করার অভিযোগ করেছেন প্রধানমন্ত্রী। অথচ বিভিন্ন প্রকল্পে বাংলাকে টাকা বন্ধ করে মানুষকে সমস্যায় ফেলেছেন তিনি। কিন্তু সে-কথা ‘সাধু’ প্রধানমন্ত্রী স্বীকার করেননি।’
সিপিএমের জেলা সম্পাদক দেবব্রত ঘোষ বলেন, ‘সিঙ্গুর থেকে ন্যানো কারখানা তাড়াতে তৃণমূলের সঙ্গে সমান অপরাধ বিজেপি-ও করেছিল।’ মোদির এদিনের ‘নীরবতা’ তারই স্বীকারোক্তি। ফলে, নির্বাচনের দামামা বাজালেও ‘পোস্টার বয়’-এর সভা দিয়ে সিঙ্গুরকে ইস্যু করার সুযোগ বিজেপি হাতছাড়া করল কি না, সে প্রশ্নই বেশি প্রাসঙ্গিক হয়েছে।
ভোটমুখী রাজ্যে জমি আন্দোলনের আঁতুরঘর সিঙ্গুরকে টার্গেট করে এগোতে চেয়েছিল গেরুয়া শিবির। তাই এদিন শিল্পায়ন নিয়ে মোদী কী বার্তা দেন সেদিক নজর ছিল বিজেপি থেকে রাজনৈতিক মহলের। সিঙ্গুরের হাজার একর জমির মধ্যে চাষযোগ্য নয়, এমন অংশে শিল্পস্থাপনের দাবি তোলে ‘সিঙ্গুর বন্ধ্যা জমি পুনর্ব্যবহার কমিটি’ও। প্রধানমন্ত্রীর সভার আগে বিজেপির হুগলি সাংগঠনিক জেলা সভাপতি গৌতম চট্টোপাধ্যায় বলেছিলেন, ‘আশা করছি, প্রধানমন্ত্রী সিঙ্গুর নিয়ে কোনও ইতিবাচক বক্তব্য শোনাবেন।‘ মোদীর ভাষণে টাটার নামোচ্চারণ শোনা গেল না। মোদী শিল্পায়ন নিয়ে কথা বললেও, টাটাকে আবার সিঙ্গুরে ডেকে এনে শিল্পস্থাপনের আশ্বাস দিলেন না।
আগের দিন মালদা গিয়ে অনুপ্রবেশ নিয়ে গান বেঁধেছিলেন মোদি। তাই মনে করা হয়েছিল, সিঙ্গুরে গিয়ে রবিবার ছুটির দিনে শিল্প নিয়ে জোরালো বার্তা দিয়ে আসর জমিয়ে দেবেন মোদি। কিন্তু তিনি বললেন, এরাজ্যে বিজেপি ক্ষমতায় আনার কথা। পাশাপাশি এও বললেন, বিজেপি ক্ষমতায় এলে এ রাজ্যেও শিল্প আসবে। মানুষ চাকরি পাবেন। কিন্তু তার আগে বিজেপিকে ক্ষমতায় আনতে হবে। বাংলার আইনশৃঙ্খলা পরিস্থিতির উন্নতি না হলে শিল্পায়ন সম্ভব নয় বলেও জানান প্রধানমন্ত্রী। মোদির কথায়, ‘এ রাজ্যে আইনশৃঙ্খলা ঠিক হলে তবেই বিনিয়োগ আসবে। কিন্তু এখানে মাফিয়াদের ছাড় দিয়ে রাখা হয়েছে। এখানে সব কিছুতে সিন্ডিকেট ট্যাক্স বসিয়ে রাখা হয়েছে। এই সিন্ডিকেট ট্যাক্স এবং মাফিয়াবাদকে বিজেপিই শেষ করবে। এটাই মোদীর গ্যারান্টি।’ কিন্তু নির্দিষ্ট করে সিঙ্গুরে শিল্পায়ন নিয়ে কিছু বলতে শোনা যায়নি মোদিকে। ফলে আশাহত স্থানীয় বিজেপি নেতা-কর্মীরা। সব মিলিয়ে বিরোধীরা বলছেন, এদিন সিঙ্গুরের মোদির সভা ফ্লপ-শো।








