৮০ জনেরও বেশি বিশেষভাবে সক্ষম মানুষের অভিনয়ে ব্যতিক্রমী চলচ্চিত্র ওয়ান লিটল ফিঙ্গার
নতুন পয়গাম, অতসী মন্ডল, কোলকাতা: বিশেষভাবে সক্ষম মানুষদের অসাধারণ সক্ষমতাকে সমাজের সামনে তুলে ধরতে এক অনন্য উদ্যোগ নিয়েছেন পরিচালক ও গবেষক ড. রূপম শর্মা। তাঁর রচনা ও পরিচালনায় নির্মিত ইংরেজি ভাষার কাহিনিচিত্র ওয়ান লিটল ফিঙ্গার-এ অভিনয় করেছেন ৮০ জনেরও বেশি বিশেষভাবে সক্ষম শিশু ও তরুণ। এই চলচ্চিত্রের মাধ্যমে অন্তর্ভুক্তি, বৈচিত্র্য এবং মানবাধিকারের বার্তা তুলে ধরার প্রয়াস নেওয়া হয়েছে। চলচ্চিত্রটিতে অংশগ্রহণকারী অভিনেতাদের মধ্যে রয়েছেন জেনেটিক ডিসঅর্ডার, সেরিব্রাল পালসি, শ্রবণ সক্ষমতাজনিত ভিন্নতা, বুদ্ধিবৃত্তিক সক্ষমতার ভিন্নতা, অটিজম, ডাউন সিনড্রোম, মাল্টিপল স্ক্লেরোসিস ও ডিমেনশিয়াসহ বিভিন্ন বিশেষ অবস্থার সঙ্গে বসবাসকারী মানুষ। উল্লেখযোগ্য বিষয় হল, ছবির সব প্রধান বিশেষভাবে সক্ষম চরিত্রে অভিনয় করেছেন বাস্তব জীবনের বিশেষভাবে সক্ষম ব্যক্তিরাই।
ওয়ান লিটল ফিঙ্গার যুক্তরাষ্ট্রে নির্মিত হলেও এর সহ-প্রযোজনায় রয়েছে ভারত। ২০২৫–২০২৬ সময়কালে নির্মিত এই ছবির মূল থিম ‘বিশেষ সক্ষমতার মধ্যেই শক্তি’। ছবির মাধ্যমে চলচ্চিত্রকে একটি সামাজিক প্ল্যাটফর্ম হিসেবে ব্যবহার করে বিশেষভাবে সক্ষম মানুষদের স্থানীয় ও আন্তর্জাতিক পুরস্কারপ্রাপ্ত অভিনেতাদের সঙ্গে কাজ করার সুযোগ করে দেওয়া হয়েছে। চলচ্চিত্রটিতে অভিনয় করেছেন হলিউড অভিনেত্রী টামেলা ডি’অ্যামিকো। অস্কার মনোনীত সুরকার ও অভিনেত্রী সিয়েদাহ গ্যারেট, অভিনয় করেছেন ড. ক্লডিয়ার চরিত্রে। শ্রবণ সক্ষমতার ভিন্নতা থাকা দক্ষিণ ভারতীয় অভিনেত্রী অভিনয়া, সেরিব্রাল পালসি ও বিরল জেনেটিক অবস্থার সঙ্গে বসবাসকারী ডেন এবং জাতীয় পুরস্কারপ্রাপ্ত অভিনেত্রী জীজা—তাঁরাও বিভিন্ন গুরুত্বপূর্ণ চরিত্রে অভিনয় করেছেন। এছাড়াও রয়েছেন জোনাথন স্টডার্ড, মালয়া গোস্বামী, জয়া শীল ঘোষ, পবিত্রা রাভা, সৌমিলী ঘোষ বিশ্বাস, সিদ্ধার্থ মুখার্জি, অলকানন্দা রায়, কুশল চক্রবর্তী, বিপ্লব ঘোষ, পাপিয়া অধিকারী প্রমুখ।
ছবির সঙ্গীত পরিচালনা করেছেন রূপম শর্মা নিজেই, যেখানে মিউজিক থেরাপিকে একটি গুরুত্বপূর্ণ উপাদান হিসেবে ব্যবহার করা হয়েছে। কাহিনির কেন্দ্রে রয়েছেন এক আমেরিকান নিউরোলজিস্ট রাইনা, যিনি ভারতে এসে মিউজিক থেরাপি নিয়ে গবেষণা শুরু করেন। তিনি বিশেষভাবে সক্ষম শিশু ও প্রাপ্তবয়স্কদের সংগীতের মাধ্যমে একত্রিত করে তাদের নিজস্ব সক্ষমতাকে নতুনভাবে আবিষ্কার করতে সহায়তা করেন। চলচ্চিত্রের আরেকটি গুরুত্বপূর্ণ দিক হল সামাজিক বাস্তবতার প্রতিফলন। ডেন ও অ্যাঞ্জেল নামের দুই বিশেষভাবে সক্ষম চরিত্র শারীরিক সীমাবদ্ধতা সত্ত্বেও সমাজের অবহেলা ও বুলিং-এর বিরুদ্ধে লড়াই করে নিজেদের জায়গা তৈরি করার চেষ্টা করে। তাদের জীবনের সঙ্গে রাইনার গবেষণা একসময়ে গভীরভাবে জড়িয়ে যায়।
পরিচালক রূপম শর্মা বলেন, “অনেকেই মনে করেন বিশেষভাবে সক্ষম মানুষ সমাজের বোঝা। এই ধারণা সম্পূর্ণ ভুল। তাদের সক্ষমতাকে কখনোই অবমূল্যায়ন করা উচিত নয়।” তিনি আরও বলেন, জীবনের কোনো না কোনো পর্যায়ে প্রত্যেক মানুষই বিশেষ সক্ষমতার অভিজ্ঞতার মুখোমুখি হতে পারেন—হতে পারে বয়স, দুর্ঘটনা বা অসুস্থতার কারণে। ওয়ান লিটল ফিঙ্গার কেবল একটি চলচ্চিত্র নয়, বরং বিশেষভাবে সক্ষম মানুষদের ঘিরে থাকা সামাজিক কুসংস্কার ভাঙার উদ্যোগ। এই ছবি সমাজের দৃষ্টিভঙ্গি বদলাতে এবং সহানুভূতির পাশাপাশি সম্মান ও গ্রহণযোগ্যতার বার্তা পৌঁছে দিতে চায়।








