সপ্তগ্রামের কেষ্টপুরে ৫১৯ বছরের অভিনব মাছের মেলা, ভোর থেকেই ক্রেতাদের ভিড়ে জমজমাট
নতুন পয়গাম,আব্দুল গফফার, হুগলিঃ হরেক রকমের মাছের ভিড়ে জমে উঠেছে ব্যান্ডেলের কেষ্টপুরের মাছের মেলা। দীর্ঘদিন ধরে চলা এই মাছের মেলায় একদিকে যেমন হাজার হাজার দর্শক ক্রেতা তেমনি হাজার হাজার কেজি মাছ ফুরিয়ে যায় চোখের নিমেষে। পোনা মাছ থেকে রাঘব বোয়াল, আবার টুনা, লালমোহন, শংকর মাছ কিনতে ঝাঁপিয়ে পড়েন ক্রেতারা। ঘুম থেকে উঠেই সেই মেলায় ভিড় জমান ক্রেতারা। মেলায় মাছের পাশাপাশি বিভিন্ন জিনিসের পসরা সাজিয়ে বসেন দোকানিরা। জিলিপি বাদাম ঝুঁড়ি পিঁড়ি কুলো পেতে থেকে মনোহারি সবই পাওয়া যায়। এবারে মেলায় রয়েছে ৫০ কেজি ওজনের শংকর, ৩৫ কেজি ওজনের কাৎলা মাছ। চল্লিশ কেজির ভোলা, পাঁচ ফুটের বাইন, আবার বিভিন্ন ওজনের রুই, আর, ইলিশ, ভেটকি, বোয়াল তো আছেই। নানা ধরনের কাঁকড়াও বিক্রি হয় এখানে।
জানা গেছে, আনুমানিক ৫১৯ বছরের পুরনো এই মাছের মেলা। প্রতিবছর মাঘ মাসের পয়লা তারিখে এই মেলা অনুষ্ঠিত হয়। গৌড়ীয় বৈষ্ণব ধর্মগুরু ও ষড়গোস্বামীর অন্যতম রঘুনাথ দাস গোস্বামীর বাড়ি সংলগ্ন এলাকায় বসে এই মেলা। মেলা শুরু হয়েছিল জমিদার গোবর্ধন গোস্বামীর ছেলে রঘুনাথ দাস গোস্বামী বাড়িতে ফিরে আসার খুশিতে। সে সময় কেষ্টপুরের জমিদার ছিলেন গোবর্ধন গোস্বামী। তাঁর ছেলে রঘুনাথ দাস সন্ন্যাস নেওয়ার কারণে সংসার ত্যাগ করেছিলেন। তিনি চৈতন্য মহাপ্রভুর শিষ্য ছিলেন। চৈতন্য মহাপ্রভুর পারিষদ নিত্যানন্দের কাছে দীক্ষা নেবেন বলে পানিহাটিতে যান রঘুনাথ। তখন তার বয়স মাত্র ১৫ হওয়ায় তাকে তখন দীক্ষা দেননি নিত্যানন্দ। দীর্ঘ ন’মাস পর বাড়ি যখন ফিরে আসেন রঘুনাথ তখন সেই আনন্দে বাবা গোবর্ধন গোস্বামী গ্রামের মানুষকে খাওয়ানোর সিদ্ধান্ত নেন। গ্রামের মানুষ তার ভক্তির পরীক্ষা নেওয়ার জন্য কাঁচা আমের ঝোল ও ইলিশ মাছ খাওয়ার আবদার করে। তিনি ভক্তদের বলেন, বাড়ির পাশে আম গাছ থেকে জোড়া আম পেড়ে আনতে। মাছের জন্য পাশের জলাশয়ে জাল ফেলার নির্দেশ দেন। সেই অনুযায়ী জাল ফেলা হয়। তার পরেই অবাক কাণ্ড ঘটে , জলাশয় থেকে মেলে মাছ। তাই প্রতি বছর ভক্তরা রাধাগোবিন্দ মন্দিরে পুজো দিতে ভিড় জমান এই দিনে। পাশাপাশি মাছের মেলারও আয়োজন হয়। বহু দূর দূরান্ত থেকে বহু মাছ ব্যবসায়ী মাছের পসরা নিয়ে বসেন। হুগলি ছাড়াও মেলায় আসেন বর্ধমান, হাওড়া, নদিয়া, উত্তর ২৪ পরগনা, বাঁকুড়া প্রভৃতি জেলা থেকে বহু মাছ বিক্রেতা। এদিকে অনেকে আবার শীতের আমেজ উপভোগ করতে মেলা থেকে মাছ কিনে পাশের আম বাগানেই বন ভোজনের আয়োজন করে থাকেন। সব মিলিয়ে একদিনের মেলায় জমজমাট হয়ে ওঠে হুগলি জেলার সপ্তগ্রামের কেষ্টপুর।








