ব্যর্থ বিরাট, ব্যর্থ ভারতও; কাজে এল না রাহুলের দুরন্ত সেঞ্চুরি
এম.রহমান, নতুন পয়গাম, রাজকোট: গেরদিনই বলেছিলাম-এই টিমের ব্যাটিং মেরুদণ্ড বিরাট কোহলি। তাঁর ব্যাট হাসলে,তবেই হাসবে ভারত। সে ব্যর্থ হলেই,উতরাতে পারবে না ভারত। হলও তাই।কাল বিরাট রান না পেতেই তিনশোর গন্ডিও পেরোতে পারলো না ভারতের আইপিএল স্টাররা। বোলিংয়েও নেই কোনো ঝাঁজ। সাড়ে সাতচল্লিশ ওভার বল করে মোটে তিনটে উইকেট নিয়েছে ভারতীয় বোলাররা। ফিল্ডিংও তথৈবচ। আর এগুলোই নিউজিল্যান্ডের কাছে বুধবার সিরিজের দ্বিতীয় একদিনের ম্যাচে সাত উইকেটে পরাজয় বরন করার জন্য যথেষ্ট ছিল।মনের সুখে সেঞ্চুরি হাঁকিয়ে গেলেন ড্যারিল মিচেল। ১১৭ বলে তাঁর অপরাজিত ১৩১ রানই তফাত গড়ে দিল। অন্যদিকে, বৃথা গেল লোকেশ রাহুলের লড়াকু শতরান। তিন ম্যাচের ওডিআই সিরিজ এখন ১-১। রবিবার ইন্দোরে সিরিজের ফয়সালার দিকেই তাকিয়ে ক্রিকেটপ্রেমীরা। ২৮৫ রানের টার্গেট তাড়া করে কিউয়িদের ইনিংসের শুরুটা অবশ্য ভালো হয়নি।
দুই ওপেনার দ্রুত ফেরেন। কিন্তু এরপরই উইল ইয়ংকে পাশে নিয়ে ম্যাচে জাঁকিয়ে বসেন মিচেল। তাঁদের তৃতীয় উইকেটের জুটি ক্রমশ লম্বা হতে থাকে। ১৫২ বলে দু’জনে যোগ করেন ১৬২। এই সময়ই ধরা পড়ে ভারতীয় বোলিংয়ের অসহায়তা। কুলদীপ যাদবকে বরোদাতে গত ম্যাচেও সাদামাটা দেখিয়েছিল। এদিন তাঁর দুর্দশা কয়েকগুণ বাড়ল। চায়নাম্যান দিলেন ৮২ রান। রবীন্দ্র জাদেজা, হর্ষিত রানা, প্রসিদ্ধ কৃষ্ণা, মহম্মদ সিরাজরাও তথৈবচ। পাল্লা দিল ফিল্ডিংও। জাদেজার মতো ফিল্ডার বল গলালেন, সামনে থেকে স্টাম্পে থ্রো করতে পারলেন না। পড়ল সহজ ক্যাচ। ভাগ্যের সহায়তাও পেয়েছে সফরকারী দল। ক্যাপ্টেন গিলকে চাপের মুখে হতভম্ব দেখাল। কোনও প্ল্যান বি নেই, কিউয়িদের ভুলের অপেক্ষায় থাকলেন তিনি। মিচেলরা তাই একসময় ছেলেখেলাই করলেন ভারতীয় বোলিং নিয়ে। অথচ, এই মাঠে আগের চারটি ম্যাচেই জিতেছিল প্রথমে ব্যাট করা দল!
‘ক্রাইসিস ম্যান’ রাহুলের সেঞ্চুরি সেজন্যই দাম পেল না। অথচ, প্রতিকূল পরিস্থিতিতে দলকে ভরসা জোগানো নিয়মে পরিণত করে তুলেছেন ৩৩ বছর বয়সি ব্যাটার। এদিন ক্রিজে যখন এসেছিলেন, টস হেরে ব্যাট করতে নামা ভারত প্রবল চাপে। ২১.৩ ওভারে ১১৫ রানে পড়েছে তিন উইকেট। ভালো শুরু করেও ফিরেছেন রোহিত শর্মা। ছন্দে দেখানো ক্যাপ্টেন শুভমান গিল পঞ্চাশ পেরিয়ে থমকে গিয়েছেন। হাঁসফাঁস করতে থাকা শ্রেয়সও আউট। রাহুল নামার দু’ওভারের মধ্যেই মেজাজে থাকা বিরাট কোহলি ধরেন ড্রেসিং-রুমের পথ। ১১৮-৪, থমথমে স্টেডিয়ামে প্রাণ ফেরান রাহুল। তিনিই ভারতকে পৌঁছে দেন ২৮৪ রানে।
পরিসংখ্যান অনুসারে কেএল ক্রিজে আসার পর উঠেছে ১৬৯ রান। এরমধ্যে তাঁরই অপরাজিত ১১২। কার্যত একার কাঁধেই দলকে টানলেন তিনি। অন্যথায়, আড়াইশো তো দূর, দুশোও কুয়াশায় ঘেরা দেখাচ্ছিল। ৮৭ বলে অষ্টম ওডিআই শতরান পূর্ণ করে মুখে আঙুল দিয়ে সেলিব্রেশনে মেতে ওঠা রাহুলই স্বস্তির স্টেশনে পৌঁছে দিয়েছিলেন দলকে। উল্লেখ্য, পাঁচ নম্বরে এটা তাঁর তৃতীয় সেঞ্চুরি। কেন তাঁকে ছয়ে ঠেলে দেওয়া উচিত নয়, কোচ গৌতম গম্ভীর নিশ্চয়ই তা এদিন উপলব্ধি করলেন! শেষ পর্যন্ত অবশ্য বোলারদের অপদার্থতায় ট্র্যাজিক হিরো হয়েই মাঠ ছাড়তে হল কেএল’কে।তবে জাকারি ফোকস্,ক্রিস্টিয়ান ক্লার্ক,জেইডন লেনক্স’র মতো অনামী বোলারদের বিরুদ্ধে ব্যাটিং সহায়ক উইকেটে মাত্র ২৮৪ করে হয়তো জেতাও যায় না।








