মুম্বাইয়ে পিটিয়ে খুন পরিযায়ী শ্রমিক
নতুন পয়গাম, ভগবানগোলা-২: মুম্বাইয়ে কাজ করতে গিয়ে আর বাড়ি ফেরা হলো না মুর্শিদাবাদ জেলার ভগবানগোলা–২ ব্লকের আমডোহরা অঞ্চলের হাজীগঞ্জ গ্রামের বাসিন্দা রেন্টু শেখের। গত সাত মাস ধরে তিনি মহারাষ্ট্রের নবি মুম্বাই থানার অন্তর্গত একটি এলাকায় টিকা শ্রমিক হিসেবে কর্মরত ছিলেন। অভিযোগ, গত ৯ জানুয়ারি অজ্ঞাতপরিচয় দুষ্কৃতীরা তাঁকে পিটিয়ে হত্যা করে। আজ তাঁর মরদেহ গ্রামে পৌঁছাতেই কান্নায় ভেঙে পড়ে পরিবারসহ গোটা গ্রাম। মৃত্যুকালে রেন্টু শেখের বয়স ছিল মাত্র ৩০ বছর। তিনি ছিলেন পরিবারের একমাত্র উপার্জনকারী। তাঁর আকস্মিক ও মর্মান্তিক মৃত্যিতে পরিবারটির উপর নেমে এসেছে চরম বিপর্যয়। পরিবারে রয়েছেন বিধবা মা, দু’বছর আগে বিবাহিতা স্ত্রী, দেড় বছরের কন্যা সন্তান এবং এক নাবালক ভাই।
পরিবারের সদস্যরা জানিয়েছেন, খাদ্য সুরক্ষা প্রকল্পের আওতায় রেশনসহ কোনও সরকারি সহায়তাও তাঁরা বর্তমানে পাচ্ছেন না। এই দুঃসময়ে নিহত রেন্টু শেখের পরিবারের পাশে দাঁড়াতে তাঁর বাড়িতে পৌঁছান অল ইন্ডিয়া ইমাম মুয়াজ্জিন অ্যান্ড সোশ্যাল ওয়েলফেয়ার অর্গানাইজেশন–এর মুর্শিদাবাদ জেলা ও রাজ্য সাধারণ সম্পাদক মাওলানা আব্দুল রাজ্জাক সাহেব। ঘটনাস্থলেই তিনি মহকুমা শাসক ও জেলাশাসকের সঙ্গে মোবাইল ফোনে কথা বলেন এবং দ্রুত প্রশাসনিক সহায়তা পৌঁছানোর দাবি জানান। পাশাপাশি তিনি সংগঠনের পক্ষ থেকে শোকাহত পরিবারের পাশে থাকার দৃঢ় অঙ্গীকার করেন। রাজ্জাক সাহেব আরও জানান, নিহত রেন্টু শেখের কন্যা সন্তানের ভবিষ্যৎ শিক্ষার জন্য পরিবার সহযোগিতা চাইলে সংগঠনের তরফ থেকে সর্বাত্মক সহায়তা প্রদান করা হবে।
সূত্র মারফত জানা গেছে, মহকুমা ও জেলা প্রশাসন বিষয়টি নিয়ে রাজ্য প্রশাসনের সঙ্গে আলোচনা করে পরিবারটিকে উপযুক্ত সহায়তা প্রদানের আশ্বাস দিয়েছে। পরিযায়ী শ্রমিকের এই মর্মান্তিক মৃত্যু নতুন করে প্রশ্ন তুলেছে ভিনরাজ্যে কর্মরত শ্রমিকদের নিরাপত্তা ও সামাজিক সুরক্ষা নিয়ে।








