চ্যাটজিপিটির সাহায্য নিয়ে বিয়ে, অতঃপর বিভ্রাট
নতুন পয়গাম: আধুনিক তথ্য প্রযুক্তির যুগে জীবন আরামদায়ক করতে মানুষ নানা ধরনের প্রযুক্তির সুবিধা নিয়ে থাকে। কিন্তু হিতে বিপরীতে কপাল পুড়ল নেদারল্যান্ডসের এক নব দম্পতির। নিজের বিয়ের শপথ লিখতে সরকারি অফিসারের পরিবর্তে বন্ধুকে বিয়ে পড়ানোর দায়িত্ব দেন ওই দম্পতি। বিয়েতে ভিন্নতা ও আধুনিকতার ছোঁয়া লাগাতে চ্যাটজিপিটির সাহায্য নিয়ে শপথ বাক্য লেখেন তিনি। বিয়ে শেষে চ্যাটজিপিটির লেখা সেই বক্তব্যে আইনি শর্ত পূরণ না হওয়ায় বিয়ে বাতিল করে দেয় নেদারল্যান্ডসের জুইলা শহরের একটি আদালত।
নেদারল্যান্ডসের দেওয়ানি বিধি অনুযায়ী বিয়ের শপথ প্রসঙ্গে স্পষ্ট বলা আছে, হবু স্বামী-স্ত্রীকে রেজিস্ট্রার ও সাক্ষীদের সামনে দুটি বিষয়ে সম্মতি জানাতে হবে। প্রথমত, তারা একে অপরকে স্বামী-স্ত্রী হিসেবে গ্রহণ করছেন। দ্বিতীয়ত, দাম্পত্য জীবনের সঙ্গে আইনত যেসব দায়িত্ব যুক্ত, তা তারা বিশ্বস্ততার সঙ্গে পালন করবেন। গোপনীয়তার স্বার্থে আদালতের রায়ে ওই দম্পতির নাম প্রকাশ করা হয়নি।
গত বছর ১৯ এপ্রিল তাদের বিয়ে হয়। কিন্তু সেখানে যে শপথবাক্য পাঠ করা হয়েছিল, তা আইনি মানদণ্ডে টেকেনি। ফলে আদালতের নির্দেশে এখন শহরের রেজিস্ট্রি থেকে ওই বিয়ের নাম বাদ দেওয়া হচ্ছে। আদালতের নথিতে উল্লেখ করা হয়, বিয়ে পড়ানোর সময় ওই বন্ধু দম্পতিকে প্রশ্ন করেছিলেন, ‘জীবন যখন কঠিন হয়ে পড়বে, তখনো কি আপনারা একে অপরকে সমর্থন করবেন, একে অপরের সঙ্গে থাকবেন?’ দম্পতিকে তিনি ‘পাগলাটে’ হিসেবেও সম্বোধন করেন। বিচারক তার পর্যবেক্ষণে বলেন, এসব কথাবার্তা মজার হতে পারে, কিন্তু এতে দাম্পত্য জীবনের দায়িত্ব পালনের সেই আইনি প্রতিশ্রুতির কথা উল্লেখ নেই।
৯ জানুয়ারি দেওয়া রায়ে বলা হয়, যেহেতু বিয়ের ঘোষণায় বিধিবদ্ধ শর্ত পূরণ হয়নি, তাই সিভিল রেজিস্ট্রিতে বিয়ের সনদটি ভুলভাবে নথিভুক্ত করা হয়েছিল। ফলে এটি বাতিল বলে গণ্য হবে।








