উত্তরপ্রদেশেও সোনার দোকানে বোরকা-মাস্ক নিষিদ্ধ
নতুন পয়গাম, বারাণসী: চুরির ঝুঁকি ও নিরাপত্তার কারণ দেখিয়ে বিহারের পর এবার উত্তরপ্রদেশের জুয়েলারি দোকানেও মুখ-ঢাকা অবস্থায় প্রবেশে নিষেধাজ্ঞা জারি করা হল। অল ইন্ডিয়া জুয়েলার্স অ্যান্ড গোল্ড ফেডারেশনে-এর নির্দেশে ৮ জানুয়ারি থেকে বিহারে এই নিয়ম কার্যকর হলেও এখন উত্তরপ্রদেশের বিভিন্ন জেলায় একই ধরণের ‘নো এন্ট্রি’ পোস্টার দেখা যাচ্ছে। নতুন এই নিয়ম অনুযায়ী: বোরকা, হিজাব, মাস্ক, হেলমেট বা ঘোমটা দিয়ে মুখ ঢেকে দোকানে প্রবেশ করা যাবে না।
জুয়েলার্স অ্যাসোসিয়েশনের জেলা সভাপতি কমল সিং জানিয়েছেন, সোনা ও রূপার দাম আকাশছোঁয়া হওয়ায় বর্তমানে গহনার দোকানে চুরি ও জালিয়াতি বেড়ে গিয়েছে। সিসিটিভি ফুটেজে অপরাধীদের মুখ ঢাকা থাকায় তাদের শনাক্ত করা অসম্ভব হয়ে পড়ে। তিনি স্পষ্ট করেন, “আমরা কোনো ধর্মীয় পোশাকের বিরোধী নই, তবে নিরাপত্তার স্বার্থে দোকানে প্রবেশের সময় ক্রেতাকে তাঁর মুখ দেখাতে হবে।” বারাণসী ও ঝাঁসির মতো শহরগুলোর হাজার হাজার দোকানে ইতিমধ্যে এই সতর্কবার্তা ঝুলিয়ে দেওয়া হয়েছে।
তবে এই সিদ্ধান্ত নিয়ে ব্যবসায়ী মহলেই তৈরি হয়েছে মিশ্র প্রতিক্রিয়া। বারাণসীর লোহতা এলাকার জুয়েলারি ব্যবসায়ী শাহিদ মনে করেন, বোরকা পরে প্রবেশ নিষিদ্ধ করলে ক্রেতারা বিমুখ হবেন এবং এটি অপমানজনক। তিনি পরামর্শ দেন, দোকানে নারী কর্মী থাকলে তাঁরা নারী ক্রেতাদের পরিচয় নিশ্চিত করতে পারেন, কিন্তু পুরুষ কর্মীরা বোরকা সরাতে বলা ধর্মীয় ও সামাজিক দিক থেকে সঠিক নয়।
অন্যদিকে, সরকারি আইনজীবী রানা সঞ্জীব সিং এই পদক্ষেপকে সমর্থন জানিয়েছেন। তাঁর মতে, প্রত্যেকেরই নিজস্ব নিরাপত্তা নিশ্চিত করার অধিকার রয়েছে। সম্প্রতি অনেকগুলো চুরির ঘটনায় সিসিটিভিতে বোরকা পরিহিতদের দেখা গেলেও পরিচয় পাওয়া সম্ভব হয়নি।
জুয়েলারি অ্যাসোসিয়েশন জানিয়েছে, মুসলিম ক্রেতারা বোরকা পরে আসতে পারবেন, তবে দোকানে ঢুকে একবারের জন্য পরিচয় যাচাইয়ের জন্য মুখ খুলতে হবে। নিরাপত্তার কড়াকড়ি বনাম ধর্মীয় স্বাধীনতা — এই দুইয়ের দোলাচলে উত্তরপ্রদেশের গহনার বাজারে এখন নতুন এক বিতর্কের সৃষ্টি হয়েছে।








